টি-টোয়েন্টিতেও উলভসদের হারাল বাংলাদেশ ইমার্জিং দল

টি-টোয়েন্টিতেও উলভসদের হারাল বাংলাদেশ ইমার্জিং দল
Vinkmag ad

মিরপুরের আনপ্রেডিক্টেবল উইকেটে আগে ব্যাট করে বড় পুঁজি পেয়ে জয়ের ভীতটা গড়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের ব্যাটসম্যানরা। পরে বোলারদের নৈপুণ্যে আয়ারল্যান্ড উলভসের বিপক্ষে একমাত্র টি-টোয়েন্টিতে বড় (৩০ রানে) জয় পেল সাইফ হাসানের দল।

ব্যাট হাতে রান পেয়েছেন অধিনায়ক সাইফ (৪৮), তৌহিদ হৃদয়ের ফিফটির (৫৮) সাথে শামীম পাটোয়ারীর (১১ বলে ২৮) ক্যামিওতে ৭ উইকেটে ১৮৪ রান বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের স্কোরবোর্ডে। লক্ষ্য তাড়ায় নেমে বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের স্পিনারদের ঘূর্ণির সাথে পেসার সুমন খানের তোপে আঁটকা পড়ে আইরিশরা। গুটিয়ে গেছে ১৫৪ রানে। এই হারের ফলে বাংলাদেশ সফরে এসে কোন জয়ের মুখ দেখা ছাড়াই বাড়ি ফিরছে হ্যারি টেক্টরের দল।

সূচি অনুসারে দুইটি টি-টোয়েন্টি থাকলেও আয়ারল্যান্ড সরকারের নতুন কোভিড বিধিনিষেধের কারণে এক ম্যাচ না খেলেই দেশে ফিরবে আইরিশরা। ফলে একমাত্র ম্যাচ মাঠে গড়ায় আজ (১৫ মার্চ)।

উলভস শিবিরে প্রথম ও শেষ অংশে আঘাত হানেন পেসার সুমন খান। ইনিংসের তৃতীয় বলে ওপেনার গ্যারেথ ডেলানিকে খালি হাতে ফেরান এই পেসার। এরপর আরেক ওপেনার স্টিফেন ডোহানিকে নিয়ে অধিনায়ক হেক্টর ৪৫ রানের জুটিতে আশার আলো দেখান। কিন্তু বাঁহাতি স্পিনার তানভীর ইসলামের গুড লেংথের বল মিস করে টেক্টর বোল্ড হলে ভাঙে জুটি।

১৯ রান করে টেক্টর বিদায় নেয়ার পর ১৫ রানের ব্যবধানে ২৯ রান করা ডোহানি ও নতুন ব্যাটসম্যান ক্যাম্ফারও (১)। ডোহানি আমিনুল ইসলাম বিপ্লবের প্রথম শিকার ও ক্যাম্ফার তানভীর ইসলামের দ্বিতীয় শিকার হয়ে ফেরেন।

শামীম পাটোয়ারী ও সাইফ হাসানের স্পিন সামলাতে না পেরে নেইল রক (১৬), মার্ক অ্যাডায়াররাও (১১) করতে পারেননি বেশি কিছু। ১২৪ রানে ৭ উইকেট হারানো আয়ারল্যান্ড উলভস ইনিংসের শেষ তিন উইকেট নেনে সুমন খান। আয়ারল্যান্ড উলভস থেমেছে ১৫৪ রানে। আইরিশদের সর্বোচ্চ ২২ বলে ৩৮ রান করেন উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান লরকান টাকার।

১১ বল আগেই সফরকারীদের গুটিয়ে দেওয়ার পথে বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট শিকার পেসার সুমন খানের। দুইটি করে উইকেট নেন তানভীর ও বিপ্লব। সাইফের শিকার একটি।

টস হেরে ব্যাট করা বাংলাদশ ইমার্জিংয়ের উদ্বোধনী জুটি টিকেনি তিন বলের বেশি। ইনিংসের তৃতীয় ও নিজের খেলা প্রথম বলেই ফিরেছেন ওপেনার আনিসুল ইসলাম ইমন। গ্যারেথ ডেলানির বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ দেন জশুয়া লিটলকে। ইমনের বিদায়ের পর জমেনি মাহমুদুল হাসান জয় ও সাইফ হাসানের জুটিও। মার্ক অ্যাডায়ারের গুড লেংথে পড়া বলে জয় বোল্ড হয়েছেন ৮ রান করে।

দারুণ শুরুর পর ইয়াসির আলি রাব্বি থেমেছেন ১৬ বলে ২০ রানে। অন্য প্রান্তে উইকেট পড়লেও সাবলীল ছিলেন অধিনায়ক সাইফ। ১০ ওভারে ৭৮ রান তোলা বাংলাদেশ ইমার্জিং পরে রান তোলে দ্রুতগতিতে। সাইফের সাথে সমান তালে রান তোলেন তৌহিদ হৃদয়। দুজনে জুটিতে যোগ করেন ২২ বলে ৩৮ রান।

১৪ তম ওভারে আউট হওয়া সাইফ খেলেন ৩৬ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৪৮ রানের ইনিংস। তবে শ্যান গেটক্যাটের ওয়াইডার শর্ট বলে উইকেটের পেছনে ধরা পড়া নিয়ে অসন্তোষ ছিল এই ডানহাতির। খালি চোখে অবশ্য মনে হয়নি বল তার ব্যাট ছুঁয়েছে।

কিন্তু এরপরই রীতিমত এক ক্যামিও খেলে দলের রানের চাকা বেশ দারুণভাবে সচল রাখেন শামীম পাটোয়ারী। পুরো সিরিজ (ওয়ানডে) জুড়েই পাওয়ার হিটিংয়ের নান্দনিক প্রদর্শনী দেখানো এই বাঁহাতি রান আউটে কাটা পড়ার আগে করেন ১১ বলে ৪ ছক্কায় ২৮ রান। ততক্ষণে ১৬ ওভারে দলীয় সংগ্রহ ১৫০ পার হয়।

সাইফ-শামীমরা ইনিংস বড় করতে না পারলেও ফিফটি তুলে নেন তৌহিদ হৃদয়। ২৮ বলেই ফিফটিতে পৌঁছান যুব বিশ্বকাপজয়ী দলের এই সদস্য। শেষ ওভারে পিটার চেজের বলে ডিপ মিডউইকেটে ক্যাম্ফারের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৩৫ বলে ৭ চার ১ ছক্কায় সর্বোচ্চ ৫৮ রান। বাংলাদেশ ইমার্জিং পায় ৭ উইকেটে ১৮৪ রানের সংগ্রহ। শেষ ৫ ওভারে তোলে ৪৬ রান।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by cricket97 (@cricket97bd)

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

বাংলাদেশ ইমার্জিং দল ১৮৪/৭ (২০), সাইফ ৪৮, আনিসুল ০, জয় ৮, রাব্বি ২২, হৃদয় ৫৮, শামীম ২৮, অঙ্কন ৯, বিপ্লব ১*, সুমন ২*; ডেলানি ৩-০-২৪-১, অ্যাডায়ার ৩-০-২০-১, চেজ ৪-০-৩৬-২, ক্যাম্ফার ১-০-১৪-১, গেটকেট ১-০-১৪-১।

আয়ারল্যান্ড উলভস ১৫৪/১০ (১৮.১), ডেলানি ০, ডোহানি ২৯, টেক্টর ২২, টাকার ৩৮, ক্যাম্ফার ১, রক ১৬, গেটকেট ২৬*, অ্যাডায়ার ১১, লিটিল ১, হোয়াইট ৭, চেজ ১; সুমন ৩.১-০-২৮-৪, তানভীর ৪-০-৩২-২, শামীম ৩-০-২৮-১, বিপ্লব ৪-০-৩৭-২, সাইফ ১-০-৯-১

ফলাফলঃ বাংলাদেশ ইমার্জিং দল ৩০ রানে জয়ী

ম্যাচসেরাঃ সাইফ হাসান (বাংলাদেশ ইমার্জিং দল)।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

হৃদয়-শামীমের ঝড়ো ইনিংস, স্বাগতিকদের বড় সংগ্রহ

Read Next

নিজের শক্তির জায়গাতেই থাকছেন সুমন খান

Total
17
Share