আফতাবদের স্মৃতি ফেরানোর দিনেও হেরেছে বাংলাদেশ লেজেন্ডস

আফতাবদের স্মৃতি ফেরানোর দিনেও হেরেছে বাংলাদেশ লেজেন্ডস
Vinkmag ad

রোড সেফটি ওয়ার্ল্ড সিরিজে টানা চতুর্থ পরাজয় সঙ্গী হল বাংলাদেশ লেজেন্ডসের। ওয়েস্ট ইন্ডিজ লেজেন্ডসের বিপক্ষে বড় সংগ্রহ পেয়েও বোলিং, ফিল্ডিং ব্যর্থতায় হারতে হয়েছে মোহাম্মদ রফিকের দলকে।

নাজিমউদ্দিনের দারুণ শুরুর পর মেহরাব হোসেন অপির সর্বোচ্চ রানের ইনিংসের সাথে আফতাব আহমেদ ঝড়ে ১৬৯ রানের পুঁজি বাংলাদেশ লেজেন্ডসের। কার্ক এডওয়ার্ডস, রিডলে জ্যাকব ও ব্রায়ান লারার ব্যাটে যা ৭ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখে তাড়া করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ লেজেন্ডস।

টস হেরে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশে লেজেন্ডসের দুই ওপেনার নাজিমউদ্দিন ও মেহরাব হোসেন অপি এনে দেন উড়ন্ত সূচনা। দুজনে মিলে ৮ ওভার স্থায়ী জুটিতে তুলে ফেলেন ৬৪ রান। যেখানে নাজিমউদ্দিনের ব্যাটে চার ছক্কার ফোয়ারা ছুটছিল আগের ম্যাচগুলোর মতই। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিচ্ছিলেন অপি।

তবে দুজনের ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউটে কাটা পড়তে হয় ২৪ বলে ৩ চার ২ ছক্কায় ৩৩ রান করা নাজিমউদ্দিনকে। নাজিমউদ্দিনের বিদায়ের পর টুর্নামেন্টে প্রথম খেলতে নামা আফতাব আহমেদ যেন তার ভক্তদের পুরোনো দিনে ফিরিয়ে নিয়ে গেলেন। খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি টেনে বর্তমানে কোচিং পেশায় ব্যস্ত হয়ে পড়া এই আফতাব ফিরে আসলেন হার্ড হিটার তকমা নিয়েই। ২১ বলে ৪ চার ১ ছক্কায় খেললেন ৩১ রানের ইনিংস।

আফতাবের ইনিংসে হাঁকানো শটগুলোতে ছিল ক্ষীপ্রতা, আক্রমণাত্মক মানসিকতা। মিডউইকেট, ফাইনলেগ, ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট অঞ্চল দিয়ে বের করেছেন বাউন্ডারি। তবে টিনো বেস্টের দেওয়া শর্ট বল থেকে নিজেকে বাঁচাতে গিয়ে শেষ মুহূর্তে তার গ্লাভস ছুঁয়ে বল ধরা পড়ে উইকেট রক্ষক জ্যাকবের হাতে।

ততক্ষণে নাজিমউদ্দিনের রান আউটে খানিক দায় নিজের উপর রাখা অপিও যেন নান্দনিক সব শটের পসরা সাজিয়ে বসেন। আফতাবের সাথে জুটি ভাঙার আগে দুজনে স্কোরবোর্ডে যোগ করেন ৫৭ রান। তবে ফিরেছেন আফতাবের পরপরই, ৩ রানের ব্যবধানে সাজঘরে ফেরা অপির ব্যাট থেকে আসে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৪৫ বলে ৫ চারে ৪৪ রান।

রানের পাহাড় গড়ার আভাস দিলেও আব্দুর রাজ্জাক (০), খালেদ মাসুদ পাইলট (৫), মুশফিকুর রহমান বাবু (৩) ব্যর্থ হওয়ায় সেটি আর সম্ভব হয়নি। তবে শেষদিকে মোহাম্মদ শরীফের ১৩ বলে ৩ ছক্কায় খেলা ২৬ রানের ক্যামিওতে ১৬৯ রানের পুঁজি পায় বাংলাদেশ লেজেন্ডস। তিনটি ছক্কাই হাঁকান স্পিনার রায়ান অস্টিনের করা ১৮তম ওভারে। অপির পরের বলে রাজ্জাককে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিক সম্ভাবনা জাগানো সুলেমান বেন, নেন সর্বোচ্চ তিন উইকেট।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরু থেকেই বাংলাদেশ লেজেন্ডস বোলারদের উপর চড়াও হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ লেজেন্ডস। উইলিয়াম পারকিনস ও জ্যাকবসের উদ্বোধনী জুটি স্থায়ী হয় ২.৫ ওভার। তাতেই স্কোরবোর্ডে উঠে যায় ২৯ রান। ১৪ বলে ২২ রান করে মুশফিকুরের বলে আফতাবের দারুণ এক ক্যাচে পরিণত হন পারকিনস। রাজ্জাক দ্রুত ফিরিয়েছেন ডোয়াইন স্মিথকে (১০)। ৪১ রানে ২ উইকেট হারানোর পর এডওয়ার্ডস ও জ্যাকব জমিয়ে ফেলেন জুটি।

দুজনে মিলে ৭২ রানের জুটিতে বাংলাদেশ লেজেন্ডসকে জয়ের পথ থেকে দূরে সরিয়ে রাখেন। ১২ রানের ব্যবধানে ফিরেছেন দুজন, আশার পালে হাওয়া পায় বাংলাদেশ। এডওয়ার্ডস ফিরেছেন রাজ্জাকের বলে বোল্ড হয়ে, করেছেন ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২৮ বলে ৬ চার ২ ছক্কায় ৪৬ রান। রান আউট হওয়ার আগে ৩৪ রান করা জ্যাকব ফিরলেও বাকি কাজ দারুণভাবে শেষ করে আসেন দলপতি ব্রায়ান লারা।

মাঝে টিনো বেস্টকে (৫) মোহাম্মদ রফিক বোল্ড করলেও মাহেন্দ্র নাগামোতোকে সঙ্গে নিয়ে ১৯ তম ওভারেই জয় নিশ্চিত করে লারা। ২৩ বলে ৩ চারে ৩১ রানে অপরাজিত ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ লেজেন্ডস অধিনায়ক। ১০ বলে ১৬ রানে অপরাজিত ছিলেন নাগামোতো।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ লেজেন্ডসের পুরো ইনিংসজুড়েই বাজে ফিল্ডিং করতে দেখা যায় বাংলাদেশ লেজেন্ডসের ফিল্ডারদের। যার ফায়দা লুটে বেশ কয়েকটি এক রানকে দুই রানে পরিণত করে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানরা। ম্যাচ সেরার পুরষ্কার উঠেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ লেজেন্ডসের বাঁহাতি স্পিনার সুলেমান বেনের হাতে।

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

উইন্ডিজের টেস্ট দলে ফিরলেন হোল্ডার, ব্রাভো

Read Next

ভারতকে উড়িয়ে দিয়ে ইংলিশদের বড় জয়

Total
3
Share