চট্টগ্রামে প্রিটোরিয়াসের অদ্ভুত ৩৬ ঘন্টা

চট্টগ্রামে প্রিটোরিয়াসের মুগ্ধতা ছড়ানো ব্যাটিং, আছে আক্ষেপও

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে গত শুক্রবার ম্যাচ চলাকালীন করোনা পজিটিভ হওয়ার খবর পান আয়ারল্যান্ড উলভসের অলরাউন্ডার রুহান প্রিটোরিয়াস। বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের বিপক্ষে সেদিন ৩০ ওভার খেলাও হয়ে যায়। ৪ ওভার বল করে প্রিটোরিয়াসের শিকার ১ উইকেট, বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১২২। তবে এই আইরিশ ক্রিকেটারের করোনা পজিটিভ হওয়ার খবরে এলোমেলো হয়ে যায় সবকিছু। পরিত্যক্ত হয় ম্যাচ।

সাথে সাথে আইসোলেশনে পাঠানো হয় প্রিটোরিয়াসকে, করানো হয় করোনা পরীক্ষা। যদিও ম্যাচের আগেরদিনও করোনা নেগেটিভ হয়েই মাঠে নামার অনুমতি মিলেছিল ক্রিকেটারদের। ম্যাচ চলাকালীন আসা রিপোর্টে দুই দলের সবাই নেগটিভ হলেও একমাত্র পজিটিভ হন ৩০ বছর বয়সী আইরিশ অলরাউইন্ডার প্রিটোরিয়াস। মাঠ থেকে পিপিই পরেই হোটেলে যান তিনি।

এরপর প্রিটোরিয়াসের পাশাপাশি দুই দলের সবার করোণা পরীক্ষা হয়। আজ (৭ মার্চ) দ্বিতীয় ম্যাচের আগে প্রিটোরিয়াস সহ সবাই নেগেটিভ প্রমাণিত হন। যে কারণে যথা সময়ে মাঠে গড়ায় পাঁচ ম্যাচ আনঅফিসিয়াল ওয়ানডে ম্যাচের দ্বিতীয়টি। দলের হয়ে ওপেন করেন প্রিটোরিয়াস, ব্যাট হাতে অল্পের জন্য মিস করেন সেঞ্চুরি। তার ৯০ রানের ইনিংসে ভর করে দল পায় ২৬৩ রানের পুঁজি। যদিও শেষ ওভারে গড়ানো ম্যাচে হারই সঙ্গী হয় আয়ারল্যান্ড উলভসের। মাহমুদুল হাসান জয় ও শামীম পাটোয়ারীর জোড়া ফিফটিতে ২ বল ও ৪ উইকেট হাতে রেখে জয় পায় বাংলাদেশ ইমার্জিং দল।

ম্যাচ শেষে ‘ক্রিকেট৯৭’ এর সাথে একান্ত আলাপে আইরিশ অলরাউন্ডার প্রিটোরিয়াস তুলে ধরেন করোনা পজিটিভ হয়ে ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে একদিনের ব্যবধানে মাঠে নেমে দারুণ এক ইনিংস খেলার গল্প।

পুরো সময়ের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রথম ওয়ানডে থেকে ৩৬ ঘন্টা বেশ উদ্ভট কেটেছে। আমরা করোনা নেগেটিভ হয়েই মাঠে নেমেছি। কারণ মাঠে নামার পূর্বশর্তই হল আপনাকে করোনা নেগেটিভ হতে হবে আগে। ম্যাচ শুরু হওয়ার পর আমরা বেশ ভালো অবস্থানেও ছিলাম। এরপরই খবর আসলো আমি পজিটিভ। আমাকে সাথে সাথে আইসোলেটেড করা হল, সবার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন। পরতে হয়েছে কমলা রঙের পোশাকটি (পিপিই), যা মূলত ফায়ার সার্ভিস কিংবা অ্যাম্বুলেন্সের মত ইমার্জেন্সি কাজ করা লোকজন পরে থাকে।’

‘তাতক্ষনিকভাবে হোটেলে ফিরে আসি এবং আইসোলেশন রুমে ঢুকি। ম্যানেজমেন্টকে ধন্যবাদ দিতে হয় তারা পুরো সন্ধ্যা দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে এবং আমার অন্যান্য সতীর্থরাও। সব কার্যক্রম দুতই হতে থাকে। আমার একটা করোনা পরীক্ষা হয় সাথে সাথেই। পরদিন দলের সবার সাথে ইমার্জেন্সি আরও একটি। ভাগ্যবান যে দুটোতেই নেগেটিভ এসেছি। ওটা ভুল পজিটিভ ছিল, যে কারণে আজ আমি খেলতে পেরেছি। সত্যি বলতে চারপাশের পরিস্থিতি বিবেচনায় আমার মনেই হয়নি যে আজ খেলতে পারবো।’

তার মানসিক শক্তি বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে চিকিতসকরা, ‘চিকিৎসক আমাকে সাহস জুগিয়েছেন, উনি বলেছেন ওটা ভুল ফলাফল ছিল। আমি কেবল আবার নেগেটিভ হলেই দলের সাথে যোগ দিতে পারবো। সত্যি বলতে এই একটা জিনিসই আমার মস্তিষ্ককে পরিষ্কার করে। অথচ এর আগে আমি মানসিকভাবে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছি যে আমাকে আবার পজিটিভ হলে ১৪ দিনের সবকিছু থেকে দূরে থাকতে হবে।’

‘দ্বিতীয়ত আমি মানসিকভাবেই পুরো ব্যাপারটাকে সামলানোর চেষ্টা করছিলাম। আমি ১৪ দিন আইসোলেশনে থাকার জন্য মনকে শক্ত করতেছিলাম। কিন্তু ভাগ্যক্রমে আমি নেগেটিভ প্রমাণিত হই যা অনেক বড় স্বস্তির বিষয়।’

এমন কঠিন পরিস্থিতি পাড়ি দিয়ে মাথে ফিরেই ৯০ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকান এই বংশোদ্ভূত। এখনো আন্তর্জাতিক অভিষেক না হলেও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আছে ৬২ ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা। আজ ম্যাচের আগেই ভেবে রেখেছেন মাথে কেবল বেসিকটাই প্রয়োগ করবেন।

প্রিটোরিয়াস বলেন, ‘আজ সকালে আমি আমার রুটিন কাজগুলোই শুরু করি। সকালে শারীরিক কসরতগুলো যথা নিয়ম মেনে করেছি। আর আসলে মাঠে কেবল বেসিকটাই করতে চেয়েছি আজ। ভাগ্যবান যে বল ভালোভাবে দেখেছি প্রথম ম্যাচে আমরা যেরকম বল মুভ করিয়েছি আজ সেরকটা হয়নি। উইকেট বেশ ফ্ল্যাট ছিল রান করার জন্য। নতুন বলে ৬-৭ ওভার পর আরও ফ্ল্যাট হয়ে যায়। এটা দুর্ভাগ্যজনক (আরও রান করতে না পারা), একটা আন্তর্জাতিক দলের বিপক্ষে খেলা।’

দল শেষ ওভারে গিয়ে হারায় আক্ষেপ আছে এই অলরাউন্ডারের। তবে ম্যাচের ভুল ত্রুটি থেকে দ্রুতই শিখতে চায় তারা। দল হিসেবে উন্নতি করার গানটা আবারও শোনালেন এই আইরিশ ক্রিকেটার।

তার মতে, ‘শেষ কয়েক ওভারে একই প্রক্রিয়ায় খেলেছি আমরা। ডেথ বোলিংয়ে আমাদের আরও অনেক উন্নতি করতে হবে। আমি মনে করি এটি এমন একটি জায়গা যেখানে আমরা সবাই দল হয়ে উন্নতি করতে চাচ্ছি এবং বিশেষ করে ব্যাক এন্ডে পারফরম্যান্সের জন্য আপনি উদগ্রীব হয়ে থাকেন। আমাদের ভালো খেলা ধরে রাখতে হবে, আমরা আজ ভালো করিনি বিশেষ করে শেষ ৪-৫ ওভারে। ব্যাটিংয়ে একটা পর্যায়ে আমরা খুব ধীরে খেলছিলাম।’

‘আমি মনে করি খেলায় আপনার সব ছোট খাটো জিনিস সামঞ্জস্য করতে হবে। আমি বেশি কিছু না বলে বলবো যে আমাদের বেশ কিছু জায়গা রয়েছে যেখানে ভালো করতে পারতাম। আমি আমার কথাও বলবো, আমিও ভালো ব্যাট করছিলাম কিন্তু সেটা একটা সময় ছুটে যায়। বল হাতেও আরও ভালো করা যেত। তবে আমরা কীভাবে শিখছি সেই প্রক্রিয়াটা জরুরি। আজকের ম্যাচ থেকে যা নিলাম তা মাথায় গেঁথে নিতে হবে এবং দ্রুত শিখতে হবে।’

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

শাহীন শাহ’র সঙ্গে মেয়ের বিয়ে, নিশ্চিত করলেন শহীদ আফ্রিদি

Read Next

ইংল্যান্ডের সামনেও রফিকদের অসহায় আত্মসমর্পন

Total
5
Share