জয়-শামীমের জোড়া ফিফটিতে ইমার্জিং দলের জয়

জয়-শামীমের জোড়া ফিফটিতে ইমার্জিং দলের জয় 1
Vinkmag ad

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরু থেকেই সহজ জয়ের পথে থাকা বাংলাদেশ ইমার্জিং দল আয়ারল্যান্ড উলভসের বিপক্ষে জিতলো কিছুটা কঠিন করে। কঠিন হয়ে যাওয়া কাজটা আবার সহজ করেছেন তরুণ অলরাউন্ডার শামীম হোসেন পাটোয়ারী। ব্যাট হাতে তার দ্রুতগতির ফিফটিতে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে পাঁচ ম্যাচ আনঅফিশিয়াল ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয়টিতে সাইফ হাসানের দল জয় পেল ৪ উইকেটে।

হাতে ৬ উইকেট নিয়ে শেষ ৬ ওভারে জয়ের জন্য বাংলাদেশ ইমার্জিংয়ের প্রয়োজন ছিল ৫০ রান। তবে ৪৫তম ওভারের প্রথম বলে জশ লিটলের বলে বেন হোয়াইটকে ক্যাচ দেন তৌহিদ হৃদয়। ভাঙে শামীমের সাথে তার ৪২ রানের জুটি। ৩১ রান করে তৌহিদ ফিরলে ঐ ওভারে আসে মাত্র এক রান। পরের ওভারে রান আউটে কাটা পড়েন নতুন ব্যাটসম্যান আকরবর আলি (০)।

৬ উইকেট হারিয়ে শেষ তিন ওভারে প্রয়োজন ৩৪ রান। সুমন খানকে নিয়ে এই কাজটা ঠিকঠাকভাবে শেষ করে আসেন লোয়ার মিডল অর্ডারে আস্থার নাম হয়ে ওঠা শামীম। ৩৭ বলে ফিফটিতে পৌছানো বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৩৯ বলে ৩ চার ২ ছক্কায় ৫৩ রানে। শেষ ওভারে গড়ানো ম্যাচ ২ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছায় বাংলাদেশ ইমার্জিং দল। সুমন খান অপরাজিত ছিলেন ৯ বলে ১১ রানে।

২৬৪ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ভালো শুরুই পেয়েছিল বাংলাদেশ ইমার্জিং। দুই ওপেনার সাইফ ও তানজিদ হাসান তামিম ৭.৫ ওভার স্থায়ী জুটিতে যোগ করেন ৪৪ রান। বাঁহাতি ওপেনার তামিম ১৭ রান করে ফিরেছেন শেন রুহান প্রিটোরিয়াসের শিকার হয়ে। অধিনায়ক সাইফও অবশ্য এরপর বেশিক্ষণ টিকেননি। ৫৩ বলে ৩৬ রান করে শেন গেটকেটের বলে ক্যাচ দেন উইকেট রক্ষক নেইল রককে।

এরপর ইয়াসির আলি রাব্বিকে নিয়ে জয়ের পথটা সহজ করছিলেন মাহমুদুল হাসান জয়। দুজনে জুটিতে যোগ করেন ৭৭ রান। ৩১ রান করে ইয়াসির ফিরলেও ফিফটির দেখা পান জয়। ৯৫ বলে ৫ চারে ৬৬ রান করে হোয়াইটের দ্বিতীয় শিকার হয়ে যখন সাজঘরে ফিরছিলেন তখনো জিততে হলে প্রয়োজন ৮৯ বলে ৯২। যা ৪ উইকেট হাতে রেখে তাড়া করা সম্ভব হয় তৌহিদ ও শামীমের ব্যাটে।

এর আগে টস হেরে আগে ব্যাট করা আয়ারল্যান্ড উলভস প্রিটোরিয়াসের ৯০ রানের ইনিংসে ভর করে পেয়েছে ৭ উইকেটে ২৬৩ রানের পুঁজি। তবে যেভাবে শুরু করেছিল তাতে আরও বড় সংগ্রই পেতে পারতো আইরিশরা। উদ্বোধনী জুটিতে দারুণ শুরু এনে দেন জেমস ম্যাককুলাম ও আলোচিত রুহান প্রিটোরিয়াস। শুক্রবার তার কারণে ম্যাচ পরিত্যক্ত হলেও আজ তার ব্যাটেই পথ দেখে আইরিশরা।

দুজনে মিলে জুটিতে যোগ করেন ৮৮ রান। সুমন খানের বলে উইকেটের পেছনে ম্যাককুলাম ক্যাচ দিলে ভাঙে জুটি। ৪১ রান করেন ম্যাককুলাম। এরপর স্টিফেন ডোহানিকে নিয়ে আরও ৮৫ রানের জুটি প্রিটোরিয়াসের। ততক্ষণে ফিফটি ছুঁয়ে সেঞ্চুরির পথে প্রিটোরিয়াস।

তবে বাঁহাতি স্পিনার রাকিবুল হাসানের করা ৩৮তম ওভারেই অবশ্য ছন্দ পতন হয়। একই ওভারে ফেরেন দুজনেই। ডোহানি ৩৭ ও ৯০ রানে থামেন প্রিটোরিয়াস। ১২৫ বলে ৯ চার ১ ছক্কায় ইনিংসটি সাজান প্রিটোরিয়াস। আউট হয়েছেন রাকিবুলকে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে।

ডোহানি-প্রিটোরিয়াসের বিদায়ের পর অধিনায়ক হ্যারি টেক্টর, গেটকেট ও গ্যারেথ ডেলানির ছোট তবে কার্যকরী ইনিংসে ভর করে ২৬৩ রানের সংগ্রহ পায় আয়ারল্যান্ড উলভস। ৩১ রান আসে টেক্টরের ব্যাট থেকে, ২৯ রান করেন গেটকেট। ৮ বলে ১৮ রান আসে রান আউটে কাটা পড়া ডেলানির ব্যাট থেকে।

বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের হয়ে সর্বোচ্চ দুইটি করে উইকেট শিকার পেসার সুমন খান ও স্পিনার রাকিবুলের। একটি করে উইকেট নেন মুকিদুল ও শফিকুল ইসলাম। ১০ ওভারে ৬২ রান দিয়ে সবচেয়ে খরুচে বোলার মুকিদুল।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

আয়ারল্যান্ড উলভস ২৬৩/৭ (৫০), ম্যাককুলাম ৪১, প্রিটোরিয়াস ৯০, ডোহানি ৩৭, টেক্টর ৩১, ক্যাম্ফার ৪, গেটকেট ২৯, ডেলানি ১৮, অ্যাডায়ার ৩*; মুগ্ধ ১০-০-৬২-১, সুমন ৯-১-৫১-২, শফিকুল ১০-০-৫৬-১, রাকিবুল ১০-০-৩৯-২।

বাংলাদেশ ইমার্জিং দল ২৬৪/৬ (৪৯.৪), সাইফ ৩৬, তামিম ১৭, জয় ৬৬, রাব্বি ৩১, হৃদয় ৩১, শামীম ৫৩*, আকবর ০, সুমন ১১*; লিটিল ১০-০-৫৬-১, প্রিটোরিয়াস ৯-১-৪০-১, হোয়াইট ১০-০-৪৫-২, গেটকেট ২-০-১৫-১

ফলাফলঃ বাংলাদেশ ইমার্জিং দল ৪ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচ সেরাঃ শামীম হোসেন (বাংলাদেশ ইমার্জিং দল)।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা যাবে ১২ এপ্রিল, শ্রীলঙ্কা আসবে ২০ মে

Read Next

আজ পিটারসেনদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামছে সুজন, রফিকরা

Total
16
Share