এক বছরেও অভাব অনুভব হচ্ছেনা জাহানারাদের

জাহানারা আলম

প্রায় এক বছর ধরে প্রধান কোচ নেই বাংলাদেশ নারী দলের। দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দলের বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজ সামনে রেখে চলছে জোর প্রস্তুতি। স্থানীয় কোচদের তত্বাবধানে অনুশীলন করা জাহানারা আলমরা অবশ্য প্রধান কোচের অভাব অনুভব করছেন না।

গত বছর নারী বিশ্বকাপের পর থেকেই প্রধান কোচ বিহীন বাংলাদেশ নারী দল। ২০১৮ সালে নিয়োগ পাওয়া ভারতীয় আঞ্জু জৈনের কাজে সন্তুষ্ট না হওয়াতে ২০২০ সালের মার্চে শেষ হওয়া চুক্তি নবায়ণ করেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। করোনার কারণে অবশ্য নতুন কোচ নিয়োগের কাজটা জটিল হয়ে পড়ে।

তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করলে নারীদের অনুশীলন ক্যাম্প চালুর সাথে কোচ নিয়োগের কাজটা গুছাতে থাকে বিসিবির নারী বিভাগ। ইংল্যান্ডের নারী বিশ্বকাপ জয়ী দলের কোচ মার্ক রবিনসনের সাথে সবকিছু চূড়ান্ত পর্যায়েও চলে যায়। গত জানুয়ারিতে সিলেটে এক মাসের ক্যাম্প করে নারীরা, ক্যাম্পের মাঝপথেই যোগ দেওয়ার কথা ছিল রবিনসনের। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন রবিনসন।

প্রধান কোচের খালি জায়গায় বিসিবি দায়িত্ব দেয় স্থানীয় কোচদের। সিলেটের ক্যাম্পে কাজ করেন ফয়সাল হোসেন ডিকেন্স। এর বাইরে নির্দিষ্ট করে ব্যাটিং, বোলিং নিয়ে কাজ করেন বেশ কয়েকজন কোচ। নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলাম পেস বোলিং বিভাগ, ওয়াহিদুল গনি স্পিন বিভাগের দেখভাল করেন। ফলে প্রধান কোচের শূন্যতা খুব একটা ছুঁতে পারেনি নারী দলের ক্রিকেটারদের।

আজ (২৭ ফেব্রুয়ারি) মিরপুরে অনুশীলন শেষে পেসার জাহানারা আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা আসলে প্রোপার প্ল্যানের উপর নির্ভর করে। কি পাচ্ছি এবং সেটার উপর আমরা কি অনুশীলন করছি। সুতরাং আমার কাছে মনে হয়না হেড কোচের কোন অভাব আমরা দেখতে পাচ্ছি। এটা আসলে পুরোটাই বোর্ডের ব্যাপার।’

‘আমাদের সহকারী কোচ আছে, তার সাথে আমাদের স্কিল ভিত্তিতে কোচ দেওয়া হয়েছে। যেমন সিলেটে নির্বাচক মঞ্জু ভাই কাজ করেছেন, উনি একজন পেস বোলার ছিলেন। উনি আমাদের পেস বোলারদের নিয়ে আলাদা করে কাজ করেছেন। এখানে আসার পর ব্যাটিং কোচ আছেন শাহনু স্যার, স্পিন কোচ ওয়াহিদুল গনি স্যার আছেন। সুতরাং বলা যায় মোটামুটি পরিকল্পনা মোতাবেক ভালোই চলছে।’

মার্চের শেষ সপ্তাহে সিলেটে শুরু হবে দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দলের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ। জাহানারা জানালেন এখনো পর্যন্ত প্রস্তুতি নিয়ে বেশ সন্তুষ্ট। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ম্যাচ খেলার জন্য ক্রিকেটারদের ফিটনেসও ভালো অবস্থায় আছে।

জাহানারা বলেন, ‘আমার মনে হয় ট্রেনার খুশি হবে যে আমরা মোটামুটি অ্যাভারেজ একটা ফিটনেসে আছি। কিছু প্লেয়ারের ফিটনেস আরও ভালো হয়েছে, উন্নতি হয়েছে। তো অ্যাভারেজ দেখতে গেলে মোটামুটি ভালো পজিশনেই আছি, আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার জন্য ফিট।’

সিলেটের ক্যাম্প প্রস্তুতিতে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে উল্লেখ করে এই টাইগ্রেস জানান, ‘আলহামদুলিল্লাহ আমরা ভালো প্রস্তুতি নিচ্ছি দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দলের বিপক্ষে সিরিজ সামনে রেখে। সিলেটে একটা ক্যাম্প করেছি আমরা। যেহেতু পুরো গ্রাউন্ড ব্যবহারের সুযোগ ছিল আমাদের, ইনডোর থেকে সেন্টার উইকেট। ওখানে ১০ টার মত ৫০ ওভারের ম্যাচ খেলেছি আমরা। ওখান থেকে নিয়ে আসা প্রস্তুতিটা এখানে কেবল নিজেদের ঝালিয়ে নিচ্ছি ফিটনেসের দিকে থেকে।’

‘আমরা একদম ফিট আছি, খেলার জন্য প্রস্তুত। একটা উদাহরণ দিই আমি এবং সালমা কিন্তু আইপিএল খেলে এসেছি। যদিও ওটা টি-টোয়েন্টি। ওটার ইন্টেন্সিটি কিন্তু হাই ছিল আমাদের দুজনেরই। এরপর সিলেটে ৫০ ওভারের ম্যাচ খেলেছি ১০ টা। সেখানে সবাই মোটামুটি ফিট ছিল, কেউ কিন্তু ইনজুরিতে পড়েনি। এদিক থেকে আমি বলতে পারি তারা যথেষ্ট ফিট। স্কিলের দিক থেকে যদি বলি আমাদের সেঞ্চুরি ছিল, পাঁচ উইকেট হয়নি তবে ৪ উইকেট ৩ উইকেট ছিল। বোলাররা ভালো করেছে। সবকিছু মিলিয়ে বলা যায় আমরা প্রস্তুত।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

বুমরাহ’র আবদার রাখল বিসিসিআই

Read Next

পিএসএলে রাশিদ খানের বদলি লামিচানে

Total
2
Share