চট্টগ্রামে ব্যাটে-বলে বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের দাপট

চট্টগ্রামে ব্যাটে-বলে বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের দাপট

আগের দিন আয়ারল্যান্ড উলভস অধিনায়ক হ্যারি টেক্টর জানিয়েছেন বাংলাদেশের স্পিনারদের কিভাবে সামলাবেন সেটাই তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আজ থেকে শুরু হওয়া চারদিনের ম্যাচের প্রথমদিন বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের স্পিনারদের সামনে মুখ থুবড়েই পড়তে হল তাদের। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে তানভীর ইসলাম, সাইফ হাসানদের স্পিন ঘূর্ণিতে প্রথম ইনিংসে ১৫১ রানেই অল আউট আয়ারল্যান্ড উলভস। তানভীরের শিকার ৫ উইকেট।

জবাবে দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগে বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৮১ রান। অধিনায়ক সাইফ হাসান ২২ ও মাহমুদুল হাসান জয় অপরাজিত আছেন ১৮ রানে। ওয়ানডে মেজাজে ৪১ রান করে আউট হয়েছেন বাঁহাতি ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম।

আয়ারল্যান্ড উলভস নামে হলেও মূলত আইরিশদের ‘এ’ দলই এটি। দলে আছে জাতীয় দলে খেলার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার। তবে তরুণদের নিয়ে গড়া দলটির ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য আরও বেশি পোক্ত করতেই বাংলাদেশ সফরে পাঠায় ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড।

অন্যদিকে আইরিশদের শক্তিশালি দলের বিপক্ষেও ‘এ’ দল না খেলিয়ে একই উদ্দেশ্যে বাংলাদেশও তরুণদের নিয়ে গড়া ইমার্জিং দল খেলাচ্ছে। দলের অধিনায়কত্ব করছেন অবশ্য ইতোমধ্যে টেস্ট অভিষেক হওয়া সাইফ হাসান। খেলছেন টেস্ট অভিষেক হওয়া পেসার খালেদ আহমেদ ও এবাদত হোসেনও।

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে আইরিশ দুই ওপেনার জেমস ম্যাককুলাম ও জেরেমি ল’লর উদ্বোধনী জুটিতে যোগ করেন ৩৪ রান। ১৯ রান করা ম্যাককুলাম বাঁহাতি স্পিনার তানভীরকে সুইপ খেলতে গিয়ে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়লে ভাঙে জুটি। এরপর তানভীরের সাথে পেসার খালেদ ও এবাদতও উইকেট শিকারে যোগ দিলে ৬২ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে বসে সফরকারীরা। প্রতিপক্ষ অধিনায়ক টেক্টর তানভীরের বলে উইকেট রক্ষক আকবর আলিকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন খালি হাতে।

লাঞ্চের আগেই ৬২ রানে ৪ উইকেট হারানো আয়ারল্যান্ড উলভসকে টেনে নেন ইতোমধ্যে জাতীয় দলের হয়ে সামর্থ্যের জানান দেওয়া কুর্টিস ক্যাম্ফার ও লরকান টাকার। দুজনে মিলে পঞ্চম উইকেট জুটিতে যোগ করেন ৪৯ রান, যা আইরিশদের সর্বোচ্চ রানের জুটি। জমে যাওয়া জুটি ভাঙতে এবার আক্রমণে আসেন অধিনায়ক সাইফ। তার অফ স্পিনে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে স্লিপে দাঁড়ানো রিশাদ হোসেনকে ক্যাচ দেয় টাকার। আউট হওয়ার আগে করেছেন ৫৯ বলে ২০ রান।

টাকারের বিদায়ের পর হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে আয়ারল্যান্ড উলভসের ইনিংস। তানভীরের স্পিনে এলবিডব্লিউর শিকার হয়ে ৮ম ব্যাটসম্যান হিসেবে সাজঘরের পথ ধরেন ক্যাম্ফার। আউট হওয়ার আগে খেলেছেন দলের পক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৩৯ রানের ইনিংস। ১২৬ মিনিট ক্রিজে টিকে ৯২ বলে ৪ চারে ইনিংসটি সাজান আয়ারল্যান্ডের হয়ে ৮ ওয়ানডে খেলা এই তরুণ ব্যাটসম্যান।

শেষ উইকেট জুটিতে গ্রাহাম হিউম ও পিটার চেইজ কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। দুজনের ২১ রানের জুটিতে ১৫০ পেরোতে পারে সফরকারীরা। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে হিউমকে (১০) ফিরিয়ে নিজের পঞ্চম উইকেট তুলে নেন তানভীর। ১৪ রানে অপরাজিত ছিল চেইজ। তানভীরের ৫ ও সাইফের ২ উইকেটের সাথে পেসার এবাদত হোসেনের শিকার দুইটি উইকেট। একটি উইকেট নেন খালেদ আহমেদ।

দিনের শেষ সেশনে ২৩ ওভার ব্যাট করে স্কোরবোর্ডে ৮১ রান তোলে বাংলাদেশ ইমার্জিং ব্যাটসম্যানরা। শুরু থেকেই ওয়ানডে মেজাজে ব্যাট করেন ওপেনার তামিম। ১৩.৩ ওভার ও ৫৯ মিনিটেই স্কোরবোর্ডে ৫০ রান যোগ করেন তামিম-সাইফ উদ্বোধনী জুটি। কিন্তু এরপরের বলেই স্পিনার টেক্টরকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে মিড অনে চেইজের হাতে ধরা পড়েন তামিম। থামে ৩৯ বলে ৮ চারে সাজানো তার ৪১ রানের ইনিংসটি।

দিনের বাকি সময় অবশ্য আর কোন বিপদে পড়তে হয়নি বাংলাদেশ ইমার্জিং দলকে। অধিয়ায়ক সাইফের সাথে তিন নম্বরে নামা জয়ের অবিচ্ছেদ্য ৩১ রানের জুটি। ৭২ বলে ২২ রানে সাইফ ও ২৭ বলে ১৮ রানে অপরাজিত জয়।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (আয়ারল্যান্ড উলভসের ১ম ইনিংস শেষে):

আয়ারল্যান্ড উলভস ১৫১/১০ (৬৭), ম্যাককুলাম ১৯, ল’লর ১৩, ডোহানি ১৪, টেক্টর ০, ক্যাম্ফার ৩৯, টাকার ২০, অ্যাডায়ার ৯, ডেলানি ৪, হিউম ১০, গার্থ ০, চেজ ১৪*; খালেদ ১৫-৫-২০-১, এবাদত ১৪-৪-৩২-২, তানভীর ২৩-৮-৫৫-৫, রিশাদ ৮-১-২০-০, সাইফ ৭-২-১৫-২।

বাংলাদেশ ইমার্জিং দল ৮১/১ (২৩), সাইফ ২২*, তামিম ৪১, জয় ১৮*; টেক্টর ৮-১-২৪-১।

বাংলাদেশ ইমার্জিং দল ৯ উইকেট হাতে রেখে ১ম ইনিংসে ৭০ রানে পিছিয়ে।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

ওয়ার্ল্ড সিরিজের ছয় দলের চূড়ান্ত স্কোয়াড

Read Next

বিএসজেএ’র নয়া কার্যনির্বাহী পরিষদ

Total
7
Share