আক্সারের ১১, রুটের ৫; আহমেদাবাদ টেস্ট শেষ দুই দিনেই

আক্সারের ১১, রুটের ৫; আহমেদাবাদ টেস্ট শেষ দুই দিনেই

টেস্টে এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি বল খেলার রেকর্ড ইংল্যান্ডের লিওনার্ড হাটনের। ১৯৩৮ সালে লন্ডনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১ম ইনিংসে ইংলিশ এই ওপেনার ৩৬৪ রান করতে খেলেছিলেন ৮৪৭ বল। আহমেদাবাদে ভারত ও ইংল্যান্ডের দিবারাত্রির টেস্টে দুই দলের চার ইনিংস মিলে ব্যাটসম্যানরা মোকাবেলা করেছে ৮৪২ বল, হাটনের মোকাবেলা করা বলের চেয়ে ৫ কম!

আহমেদাবাদ টেস্টে বোলারদের দাপট বোঝাতে এটিই যথেষ্ঠ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটিই সবচেয়ে কম বলে ফল আসা টেস্ট। দুই দিনেই ফল এসেছে আহমেদাবাদে। ১০ উইকেটের জয় পাওয়া ভারতের ব্যাটসম্যানদেরও নাভিশ্বাস উঠেছে ১ম ইনিংসে।

৩ উইকেটে ৯৯ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করা ভারত আজ থামে ১৪৫ রান করে। স্পিনারদের দাপটের দিনে ইংলিশ দলপতি জো রুট নিয়েছেন ৫ উইকেট, তাও আবার মাত্র ৮ রান খরচ করে।

জো রুট, জ্যাক লিচরা উইকেট থেকে সুবিধা পেয়েছেন অনেক। ১০২ টেস্ট (১৬২ প্রথম শ্রেণির ম্যাচ) খেলা রুট এবারই প্রথম পেলেন ইনিংসে ৫ উইকেটের দেখা। তাতে আহমেদাবাদের উইকেটের ভূমিকা অনেক।

অপর প্রান্ত থেকে দারুণ বল করেছেন জ্যাক লিচ, নিয়েছেন ৪ উইকেট। ভারতের ১ম ইনিংসে পেসার হিসাবে একমাত্র উইকেট নিয়েছেন জফরা আর্চার।

ইংল্যান্ডের ১ম ইনিংসেও ছিল স্পিনারদের (ভারতীয়) দাপট। আক্সার প্যাটেল ৬ ও রবিচন্দ্রন অশ্বিন নিয়েছিলেন ৩ উইকেট। বাকি উইকেটটি পান ১০০ তম টেস্ট খেলতে নামা ইশান্ত শর্মা।

দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য ভারতীয় পেসাররা বল হাতেই নিতে পারেননি। ইংলিশদের ৩০.৪ ওভার স্থায়ী ইনিংসে আক্সার প্যাটেল ও রবিচন্দ্রন অশ্বিন মিলে করেন ৩০ ওভার। নিজেকে দুর্ভাগা ভাবতেই পারেন ওয়াশিংটন সুন্দর। এমন স্পিন সহায়ক উইকেটে ১ম ইনিংসে হাত ঘোরানোর সুযোগই পাননি। দ্বিতীয় ইনিংসে এসে করতে পারেন কেবল ৪ বল। তাতেই অবশ্য তুলে নেন জিমি অ্যান্ডারসনের উইকেট।

এই ম্যাচেই টেস্ট ক্রিকেটে ১৬ তম ক্রিকেটার হিসাবে (৪র্থ ভারতীয়) ৪০০ টেস্ট উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন অশ্বিন। মুত্তিয়াহ মুরালিধরনের (৭২ টেস্টে) পর অশ্বিন ২য় দ্রুততম (৭৭)।

৮১ রানে দ্বিতীয় ইনিংসে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। ভারতের জন্য জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৯ রানের। রোহিত শর্মা ও শুবমান গিল কোন বিপদ ঘটতে না দিয়েই সে লক্ষ্য পার করেন।

ম্যাচে মোট ১১ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন আক্সার প্যাটেল।

দুই দিনে শেষ হওয়া টেস্টের উইকেট নিয়ে সমালোচনায় মেতেছেন অনেকেই। বাদ যাননি ভারতীয়রাও। যুবরাজ সিং যেমন বলেন, এমন উইকেটে অনিল কুম্বলে নিয়মিত বল করলে তার উইকেট থাকত ১০০০, হরভজন সিংয়ের থাকত ৮০০ উইকেট!

সঞ্জয় মাঞ্জরেকার মজার ছলেই লেখেন, ‘এমন এমন এক উইকেটের আশা করছি যাতে কোন বল করার আগে থেকেই ঘুরবে।’

ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা ব্যাটসম্যান কেভিন পিটারসেন লেখেন, এক ম্যাচের জন্য এমন উইকেট ঠিক আছে। তবে তিনি এমন উইকেট আর দেখতে চান না। তিনি মনে করেন কেউই এমনটা দেখতে চায় না।

অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মাইকেল ভন, ইয়ান বেল, মার্ক ওয়াহরাও।

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

আকবরদের সুযোগের মঞ্চে লড়াই শুরু আগামীকাল

Read Next

বাংলাদেশি স্পিনারদের নিয়ে ভয় আইরিশ অধিনায়কের

Total
3
Share