টেস্ট খেলাতে সাকিবকে জোর করেছিল বিসিবি, তবে…

সাকিবের ইনজুরি নিয়ে নেই ভালো কোন খবর

সাকিব আল হাসানের টেস্ট ক্রিকেটে না খেলতে চাওয়া নতুন কিছু নয়। ২০১৭ সালে ৬ মাস টেস্ট ক্রিকেট থেকে ছুটিও চেয়েছিলেন। যদিও বোর্ড শেষ পর্যন্ত কেবল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের জন্যই ছুটি দিয়েছিল। ২০১৯ সালে ঘরের মাঠে আফগানিস্তানের বিপক্ষে হারের পরও টেস্ট অধিনায়কত্বে অনাগ্রহের কথা জানান প্রকাশ্যে। এবার আইপিএল খেলতে ছুটি নিলেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ থেকে।

বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানালেন জোর করে সাকিবকে খেলানো যায়। কিন্তু কাউকে আঁটকে রাখার চিন্তা নেই তাদের। জোর করে টাইগার অলরাউন্ডারকে টেস্ট খেলানোর চেষ্টা অবশ্য আগে ঠিকই করেছে বিসিবি। তবে আখেরে লাভ না হওয়াতে এবার আর জোরাজোরিতে যায়নি দেশের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ২০১৭ সালে ৬ মাসের ছুটি চাওয়ার পর ২০১৮ সালে বোর্ড তাকে টেস্ট অধিনায়ক করে দেয় যেন অনীহা থাকলেও খেলতে হয়।

এবার আইপিএল খেলতে দেশের টেস্ট সিরিজে সাকিবকে ছুটি দেওয়াতে বোর্ডের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠে। আর সেই প্রশ্নের জবাবেই বোর্ড সভাপতি জানালেন জোর করে এর আগে চেষ্টা করেছেন, ফল না আসাতেই এবার আর জোরাজুরি করেননি। যারা দেশের হয়ে খেলাকে ভালোবাসে তাদেরই খেলাতে চায় বোর্ড।

আজ (২২ ফেব্রুয়ারি) বোর্ড সভা শেষে মিরপুরে গণমাধ্যমকে নাজমুল হাসান পাপন বলেন, ‘সাকিবকে কি খেলানো যাবেনা জোর করে? ওকে ছুটি না দিলে কি করতো? হয়তো খেলতো। কিন্তু আমরা এটা চাইনা। আমরা চাই যারা খেলাটাকে ভালোবাসেসেই খেলুক। জোর করে আমি খেলাতে চাইনা। সাকিব তো আরও তিন বছর আগেই খেলতে চায়নি টেস্টে। না না, ও তো এমনিতেই টেস্টের প্রতি অত আগ্রহ দেখায়নি। চাচ্ছিল না খেলতে। তখন তো ওকে টেস্ট অধিনায়ক করে দেওয়া হল।’

‘জোর করেতো চেষ্টা করলাম তো। কিন্তু আসলে জোর করে খেলানোর মানে হয়না। আমার মনে হয় তাতে করে আমরা ভবিষ্যতে আগাতে পারছিনা। পিছনের দিকে যাচ্ছি। এখন সবার জন্য যদি ফ্রি থাকে, ওপেন থাকে, কাউকে জোর করবো না। আমরা যখন জানবো এই কয়জন প্লেয়ার চায়না টেস্ট খেলতে, তখন তো তাদের বিকল্প নিয়ে চিন্তা করতে হবে আমাদের। হয়তো এক বছর বা দেড় বছর সময় লাগবে, লাগুক। কিন্তু ভবিষ্যতের জন্য আমরা পাবো।’

‘আমি এখনো পর্যন্ত ধরে নিচ্ছি হয়তো এই ফরম্যাটটা তার (সাকিবের) পছন্দ না। আমি এটা ভেবে নেওয়াটাই আমার জন্য অনেক বেশি ভালো ব্যাপার কাজ করার ক্ষেত্রে। সব ফরম্যাট সবার পছন্দ না হতেই পারে। এটা যৌক্তিকও।’

সাকিবের বিষয় থেকে শিক্ষা নিয়েছে বোর্ড। পরবর্তী কেন্দ্রীয় চুক্তির আগেই ক্রিকেটাররা লিখিত দিবে কে কোন ফরম্যাটে খেলবে। শুধু সাকিব নয় কাউকেই জোর করবেনা বোর্ড। তবে যেই ফরম্যাট খেলবে সে ফরম্যাটে সেরা নিবেদন আশা করে বোর্ড।

পাপন বলেন, ‘যারা ওয়ানডে খেলবে, টি-টোয়েন্টি খেলবে তারা বলে দিবে আমরা টেস্ট খেলবেনা। কোথায় কোথায় টুর্নামেন্ট হবে, ফ্র্যাঞ্চাইজি হবে ওগুলো খেললে আমরা টেস্ট খেলবোনা বলে দিক। আমরাতো লিখিত নিয়ে নিচ্ছি। কিন্তু ন্যাশনাল টিমের খেলা, যে বলবে খেলবে তাকে খেলতেই হবে।’

তরুণ ক্রিকেটাররাও এখনই বলে দিতে পারে তারা কোন ফরম্যাটে খেলতে ইচ্ছুক। এমনকি সবাই যদি লিখে দেয় তারা জাতীয় দলের হয়ে খেলতে চান না তাতেও রাজি বিসিবি সভাপতি।

তার ভাষ্যমতে, ‘এখনই করতে পারে (চাইলেই ছুটি নেওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ)। ওরা সবাই যদি লিখে দেয় আমরা কেউ জাতীয় দলের হয়ে খেলতে চাই না, আমি এখনই রাজি। তবে আমাকে অবশ্যই জানতে হবে। ট্যুরের আগে যেয়ে বললে হবে না। হঠাৎ করে সিরিজের আগে আওয়াজ শুনি একটা, এগুলো চাচ্ছি না। যে খুশি বলতে পারে, আমার কাছে এসেছিল। যে খুশি বলে দিক, কে কে খেলতে চায় না। কোন অসুবিধা নেই, তবে সিরিজের আগে না। আমাদের সময় লাগবে, আমি একটা বছর সময় চাই। একবছর পরে কাউকে লাগবেও না, কোন অসুবিধা নেই।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

‘ব্রিবত ঠিক না, মন খারাপ’

Read Next

শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক হলেন শানাকা, স্কোয়াডে লাকমাল

Total
2
Share