‘ব্রিবত ঠিক না, মন খারাপ’

'ব্রিবত ঠিক না, মন খারাপ'

ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটকে প্রাধান্য দিয়ে দেশের ক্রিকেটকে অগ্রাহ্য করা নতুন কিছু না হলেও এতদিন বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে ভাবা হত অসম্ভব কিছু। এবার সে যাত্রায় যোগ দিলেন সাকিব আল হাসান। আইপিএল খেলতে নাম সরিয়ে নিলেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজ থেকে। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের কাছে বিষয়টি বিব্রতকর না হলেও মন খারাপের। সাকিবকে ছুটি দেওয়ার পাশাপাশি বোর্ড বাকিদের জন্যও উন্মুক্ত করেছে পথ, খেলতে না চাইলে জোর করা হবে না।

সাকিব জাতীয় দলকে অগ্রাহ্য করে আইপিএল খেলাকে প্রাধান্য দেওয়ায় বিসিবি সভাপতি মন খারাপ করার পেছনে দিয়েছেন যুক্তি। আজ (২২ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পাপন জানান ক্রিকেটারদের পেছনে লম্বা সময় বিনিয়োগের পর দেশ কিছু পাওয়ার মূহূর্তে এমন কিছু দেখলে মন খারাপ হয়।

বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘এখানে ব্রিবত বলাটা ইস্যু না। ব্রিবত ঠিক না, মন খারাপ। আমাকে যদি বলেন, মন খারাপ। মনটা খারাপ কেন? দেখেন একটা খেলোয়াড়ের পেছনে কম বিনিয়োগ করি না। বোর্ড ১০-১৫ বছরে ধরে যে বিনিয়োগ করে এটা আপনাদের সবকিছু জানা আছে কিনা তাও জানি না। একটা তো হচ্ছে খেলাধুলা লিমিটেড চুক্তি, বা চুক্তির বাইরে ইনজুরি হলো সবকিছু নিয়ে আমরা ওদের যে সুযোগটা এখন দেই সেটা আগে কখনও চিন্তাই করা যেত না।’

‘দল এরকম দুইটা টেস্ট ম্যাচ হারার পর… এই দুইটা টেস্ট ম্যাচ না, আমরা টেস্ট ম্যাচ হেরে এসেছি আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারতের সঙ্গে। আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে নিজেদের মাটিতে পর পর দুই টেস্টে হারলাম । এরপরে কেউ যদি বলে আমি পরবর্তী টেস্টটা না খেলি। আমার ধারণা ছিল সবাই উঠে পড়ে লাগবে পরের টেস্টটা আমাদের জিততেই হবে। সে জায়গায় কেউ যদি মনে করে এটা খেলবে না অন্য একটা ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলবে আর কিছু বলার থাকে না।’

‘সো ইটস অভবিয়াস। এখন আমাদের মাইন্ড ইজ ভেরি ক্লিয়ার। কাউকে আমরা আর জোর করে রাখবো না। একটা জিনিস আপনারা খেয়াল করেন। আজকে যে সমস্ত প্লেয়াররা ওয়ার্ল্ডের নাম করা, দেশের সব সেরা খেলোয়াড় ওদের প্রথম ১০ বছর গড় কি ছিল? ওদের ১০ বছরের গড়টা দেখে নিই। আমরাতো তখন তাদের বাদ দিই নাই। প্রথম ৬ বছরে ১২-১৫ গড়, আমরা কি তখন তাদের বাদ দিয়ে দিয়েছি?’

‘এরপরেইতো ওদের সুযোগ দিয়েছি, আজকে এ জায়গায় এসেছে। যে সময়টায় তারা দেশের জন্য কিছু করবে, সে সময়টায় যদি… মানে এটা তাদের ইচ্ছে। আমরা এখন ভেরি ক্লিয়ার আমরা এভাবে সময় নষ্ট করতে চাইনা। একটা জিনিস দেখেছি জোর করে খেলিয়ে লাভ হয়না। এটা বিশেষ করে টেস্টে, এটা মানসিক খেলা। খেলতে হবে দেখে খেলা, এটা হবে না।’

এদিকে এখন থেকে কোন সিরিজের আগে নয় বরং চুক্তির আগেই ক্রিকেটাররা জানিয়ে দিতে হবে কোন কোন ফরম্যাটে খেলবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ব্যর্থতার পর পরবর্তী কোন টেস্ট সিরিজে সাকিবের মত সিনিয়র কেউ খেলবেনা বলাতে বিসিবি সভাপতি ধরেই নিয়েছেন এমন মানসিকতা নিয়ে উন্নতি সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, ‘একদম দীর্ঘ মেয়াদী (নিজের অনাগ্রহের কথা জানাতে হবে)। কোন সিরিজের সাথে আর কিছু নাই। কারণ এটা আমদের চিন্তাই আসেনি কখনো। আপনারা আমাদের দিকটা ভেবে দেখেন। আমি তো কখনো অনুমোদন দিইনি এগুলো। এতগুলো ম্যাচ হারার পরে খেলোয়াড়দের বিশেষ করে সিনিয়রদের চিন্তা থাকবে আমরা পরবর্তী টেস্ট ম্যাচ জিতবো। এটা না হয়ে যদি বলে আমি খেলবো না, তাও ব্যক্তিগত কোন ব্যাপার না। আরেকটা ফ্র্যাঞ্চাইজি খেলার জন্য। তখন এটা পরিষ্কার যে আসলে এদের দিয়ে খুব একটা বেশি কিছু করা যাবে বলে আমার মনে হয়না, অন্তত টেস্টে।’

সাকিবের সিদ্ধান্ত একটা ধাক্কা হয়ে এসেছিল নাজমুল হাসান পাপনের কাছে, ‘আমার কাছে খারাপ লেগেছে এই সময়টায়, যে সময়টায় খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি আশা করেছিলাম, দলকে সাপোর্ট করবে, আমাদের আশ্বস্ত করবে। এসে বলবে কোন অসুবিধা নাই পাপন ভাই, আমরা পরের ম্যাচগুলো জিতব। এটা তো একটু কষ্ট লেগেছে। শকিং হবে, এটা শকিং না হবার কিছু নেই। ঠিক আছে, এটা হতেই পারে। আমি এটা নিয়ে এত হুলস্থূল করতে চাই না।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

ক্রিকেটারদের সাহস দিতে বিসিবি সভাপতির বিশেষ সভা

Read Next

টেস্ট খেলাতে সাকিবকে জোর করেছিল বিসিবি, তবে…

Total
2
Share