সুজনের দলকে হারিয়ে লেজেন্ডস চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা পাইলটদের

সুজনের দলকে হারিয়ে লেজেন্ডস চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা পাইলটদের

বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেটারদের নিয়ে কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হওয়া লেজেন্ডস চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জিতল খালেদ মাসুদ পাইলটের একমি স্ট্রাইকার্স। মোহাম্মদ রফিকের স্পিন ঘূর্ণিতে খালেদ মাহমুদ সুজনের এক্সপো রাইডার্সকে ৩০ রানে হারিয়েছে তারা।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সাগরপাড়ের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হয় সাবেকদের এই মিলনমেলা। দেশের ক্রিকেটের উত্থানের সময়কার সেনানীরা একত্রিত হয়ে আড্ডা, মজা, খুনসুটিতে কাটিয়েছে ৭০ বলের বিশেষ ফরম্যাটের এই টুর্নামেন্টে। যেখানে মাঠের লড়াইয়েও পুরোনো সময়কে ফিরিয়ে এনেছেন জাভেদ ওমর বেলিম, মোহাম্মদ রফিক, খালেদ মাহমুদ সুজন, ফয়সাল হোসেন ডিকেন্সরা।

ব্যাটে-বলে প্রথম ম্যাচ থেকেই পারফর্ম করেছেন সাবেক তারকা স্পিনার মোহাম্মদ রফিক। এখনো তার স্পিন বিষে নীল হতে হয় ব্যাটসম্যানকে, ব্যাট ধুম ধাড়াক্কা সব শটে এখনো প্রতিপক্ষ বোলারকে বিধ্বস্ত করতে পারেন তার ছাপও রেখেছেন। জিতেছেন টুর্নামেন্ট সেরার পুরষ্কারও।

বাংলাদেশের সাবেক ৬ অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজন, নাইমুর রহমান দুর্জয়, খালেদ মাসুদ পাইলট, হাবিবুল বাশার সুমন, আকরাম খান ও মিনহাজুল আবেদিন নান্নুকে আইকন করে ৬ টি দল নিয়ে শুরু হয় টুর্নামেন্টটি। টুর্নামেন্টের আয়োজক ছিল স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান এইস ও ক্রিকবল (পাওয়ার্ড বাই ওয়ালটন)। সম্প্রচারের দায়িত্বে ছিল দেশের প্রথম স্পোর্টস চ্যানেল টি-স্পোর্টস।

আগেরদিনই চার সেমিফাইনালিস্ট চূড়ান্ত হয়। আজ প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয় নাইমুর রহমানের দুর্জয় ও খালেদ মাসুদ পাইলটের একমি স্ট্রাইকার্স। যেখানে সুপার ওভারে গড়ানো ম্যাচে জয় পায় একমি স্ট্রাইকার্স। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয় খালেদ মাহমুদ সুজনের এক্সপো রাইডার্স ও হাবিবুল বাশার সুমনের জেমকন টাইটান্স। ৮ উইকেটের জয় পেয়েছে খালেদ মাহমুদ সুজনের এক্সপো রাইডার্স।

বিকাল ৩ টা ১৫ মিনিটে শুরু হওয়ায় ফাইনালে টস জিতে এক্সপো রাইডার্সের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাট করে একমি স্ট্রাইকার্স। নির্ধারিত ৭০ বলে ৮ উইকেটে ১০৪ রান করে একমি স্ট্রাইকার্স। ওপেনার এহসানুল হক সেজান ২৮ বলে ৪৪ রান করে দারুণ শুরু এনে দেন। ৯ বলে ৩ ছয়ের মারে ২৭ রানের ইনিংস খেলেন মুশফিকুর রহমান বাবু। মোহাম্মদ রফিকের ব্যাট থেকে আসে ১৩ রান।

এক্সপো রাইডার্সের শাহনিয়ান তামিম ও ফয়সাল হোসেন ডিকেন্স সর্বোচ্চ ৩টি করে উইকেট নেন। ২টি উইকেট নেন মিজানুর রহমান বাবুল।

No description available.

রান তাড়া করতে নেমে মোহাম্মদ রফিকের ঘূর্ণিতে ৮ উইকেট হারিয়ে ৭৪ রানের বেশি করতে পারেনি খালেদ মাহমুদ সুজনের এক্সপো রাইডার্স। সর্বোচ্চ ১৯ রান আসে ওপেনার নাঈম আফরোজের ব্যাট থেকে। ১১ রান করে আসে খালেদ মাহমুদ সুজন ও তালহা জুবায়েরের ব্যাট থেকে। আর কোন ব্যাটসম্যান ছুতে পারেননি দুই অঙ্ক। ৩০ রানে হেরে রানার আপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় এক্সপো রাইডার্সকে।

একমির হয়ে বোলিংয়ে একাই ৫ উইকেট নেন মোহাম্মদ রফিক। হাসিবুল হোসেন শান্তর শিকার ২ টি উইকেট। ফাইনালে ম্যাচ সেরা হয়েছেন মোহাম্মদ রফিক। টুর্নামেন্ট সেরার পুরষ্কারও উঠে মোহাম্মদ রফিকের হাতে। টুর্নামেন্টে বল হাতে ৮ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতে করেছেন ৭৫ রান।

৮ উইকেট নেওয়া জেমকন টাইটান্সের আশিকুর রহমান পেয়েছেন টুর্নামেন্ট সেরা বোলারের পুরষ্কার। ৪ ম্যাচে ৩ ফিফটিতে ২৪৫ রান করা একই দলের জাভেদ ওমর বেলিম পেয়েছেন সেরা ব্যাটসম্যানের পুরষ্কার। ফিফটি করতে না পারা ম্যাচেও আউট হয়েছেন ৪৯ রানে।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

এপ্রিলে বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কা সফর নিশ্চিত

Read Next

চট্টগ্রামে মাতৃভাষা ক্রিকেট প্রতিযোগিতা

Total
10
Share