যে কারণে এক যুগ পরেও সফল মোহাম্মদ রফিক

মোহাম্মদ রফিক

২০০৮ সালে স্বীকৃত ক্রিকেটকে বিদায় বলেছেন বাংলাদেশের কিংবদন্তী স্পিনার মোহাম্মদ রফিক। তবে অবসরের এক যুগ পর এসেও এই বাঁহাতি যেন আগের মতই ক্ষুরধার। কক্সবাজারে আজ থেকে শুরু হওয়া লেজেন্ডস চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচেই ব্যাটে-বলে দারুণ উজ্জ্বল রফিক। ৫০ বছর বয়সেও বাঁহাতি স্পিনে ব্যাটসম্যানকে কাবু করার পাশাপাশি ব্যাট হাতে দারুণ সব শটে রান করার পেছনের রহস্য অবশ্য জানিয়েছেন রফিক নিজেই।

একমি স্ট্রাইকার্সের হয়ে জেমকন টাইটান্সের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ব্যাট হাতে ১৩ বলে ৩ ছক্কায় ২২ রান। বল হাতে শিকার ২ উইকেট। ৭০ বলের খেলায় ২২ বলে রান খর করেছেন মাত্র ১০। ম্যাচ সেরার পুরষ্কারও উঠে তার হাতে। পরের ম্যাচে বৈশাখি বেঙ্গলসের বিপক্ষে ব্যাট হাতে ১৭ বলে ৪ চার ১ ছক্কায় ২৯ রান।

ব্যাটে-বলে এমন জ্বলে ওঠার দিনে ৫০ পেরোনো রফিক জানালেন দীর্ঘদিনের সতীর্থদের বিপক্ষেই খেলছেন ফলে তাদের দুর্বল জায়গা সম্পর্কে ধারণা রাখেন বেশ ভালোভাবেই। যদিও এক যুগ পরেও এমন কিছু স্মৃতিতে ধরে রাখার প্রশংসায় ভাসাতেই হয় এই বাঁহাতি স্পিনারকে।

ম্যাচ শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের রফিক বলেন, ‘রহস্যের কিছু নাই। এখানের সবার সাথে খেলছি। তাই জানি কার কী উইক পয়েন্ট। আমি কী করি ওরা জানে, ওরা কী করে আমি জানি। সুতরাং প্রতিবছর এখানে যে একটা মিলনমেলা প্রতিবছর হয়, সেটাই কিন্তু বড় পাওনা।’

বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে টেস্টে ১০০ উইকেট শিকারি বাঁহাতি এই স্পিনার মনে করেন ৭০ বলের এই ফরম্যাট থেকে তিনি শিখছেন, নতুন প্রজন্মও অনেক কিছু শিখতে পারে।

রফিক বলেন, ‘আমরা কিন্তু এর আগে দুইটা বছর খেলেছি। তবে এবারেরটা একদম ভিন্ন খেলা। তারপরেও হলো যে, নতুন একটা খেলা… বাইলজটা ফলো করতে কিন্তু সময় লাগবে। তবু এখান থেকে অনেক কিছু শিখলাম। মূল বিষয়টা হলো, শেখার কোনো শেষ নাই। তো যারা পরবর্তী প্রজন আছে, তারাও এখানে একটু ফলো করলে, এখান থেকে অনেক কিছু শিখতে পারবে।’

দীর্ঘদিন পর টিভি দর্শকরা দেশের এই সাবেক তারকা ক্রিকেটারকে মাঠের ক্রিকেটে দেখার সুযোগ পেল। রফিক বিশ্বাস করেন দেশের ক্রিকেট ভক্তরা তাকে ভালোবাসবে সবসময়ই।

বাংলাদেশের জার্সিতে ২২৬ উইকেটের মালিক জানান, ‘সবচেয়ে বড় কথা হলো, আমি এখনও মাঠে আছি, আলহামদুলিল্লাহ্‌! আল্লাহ্‌ আমাকে সুস্থ রাখছেন। যারা আমার দর্শক, দেশপ্রেমিক আছেন, ক্রিকেট পছন্দ করেন, তারা সবসময়ই আমাকে পছন্দ করেন। আমি ইন শা আল্লাহ চাই, সবসময় মাঠে থাকার।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

কক্সবাজারে ধুলো পড়া অতীতে ফেরার একদিন

Read Next

ঘরের ছেলে ঘরে ফিরেছে, লক্ষ্য ৩য় শিরোপা

Total
1
Share