কক্সবাজারে ধুলো পড়া অতীতে ফেরার একদিন

কক্সবাজারে ধুলো পড়া অতীতে ফেরার একদিন

মাঠের এক পাশে ফারুক আহমেদ খুনসুটিতে ব্যস্ত আতহার আলি খানের সাথে। খালেদ মাহমুদ সুজন হাসির ছলে খোঁচা দিচ্ছিলেন একটু পর তার প্রতিপক্ষ হয়ে নামতে যাওয়া নাইমুর রহমান দুর্জয়কে। সারোয়ার ইমরান আড্ডায় মাতেন হাবিবুল বাশার, খালেদ মাসুদ পাইলট, মোহাম্মদ রফিকদের নিয়ে। এমন দৃশ্যগুলো হুট করে চোখে পড়লে স্মৃতিকাতর কেউ হারিয়ে যেতে পারেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের উত্থানের দিনগুলোতে। মনে হতে পারে এই বুঝি ফিরে এলাম ৮০ কিংবা ৯০ এর দশকের বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে।

তবে না ৮০ কিংবা ৯০ এর দশক নয় ২০২১ সালে এসেও এমন দৃশ্যের দেখা মিলছে সাবেক ক্রিকেটারদের নিয়ে আজ (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া লেজেন্ডস চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির কল্যাণে। কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুপুর থেকেই এমন দৃশ্য দেখা গিয়েছে বারবার। একসময় জাতীয় দলকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন, এখন ভূমিকা বদলে কেউ ধারাভাষ্যকার, কেউ কোচ তো কেউ বোর্ড কর্তা।

সাবেকদের নিয়ে এমন আয়োজন এবারই প্রথম নয়। মাস্টার্স ক্রিকেট কার্নিভাল নামে আয়োজিত টুর্নামেন্টে বেশ কয়েক বছর ধরেই ব্যাট-বল হাতে মাঠে নামতে দেখা যায় নাইমু রহমান দুর্জয়, খালেদ মাহমুদ সুজন, আকরাম খান, মিনহাজুল আবেদিন নান্নুদের। এর আগে ভিন্ন ভিন্ন ফরম্যাটে মাঠে গড়ানো সাবেকদের ক্রিকেট টুর্নামেন্টের এবারের ফরম্যাটে এসেছে কিছুটা পরিবর্তন।

১০ ওভার ১০ বলের এই টুর্নামেন্টের নামকরণ করা হয়েছে টেন.টেন। তবে নাম কিংবা ফরম্যাট যাই হোক বছরে একবার পুরোনো সতীর্থ আর পুরোনো দিনগুলোতে ফিরে যাওয়ার এমন উৎসবে শামিল হতে আগ্রহ নিয়ে বসে থাকেন একসময় জাতীয় দল কিংবা ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়মিত মুখরা।

পুরনোদের এক ছাতার নিচে আনার ভাবনাটা অবশ্য রংপুর রাইডার্স ও টি-স্পোর্টসের প্রধান নির্বাহী ইশতিয়াক সাদিকের। তার স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান এইসই এবারের টুর্নামেন্টের আয়োজক। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অ্যামাচার ক্রিকেটকে সমৃদ্ধ করতে দারুণভাবে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। মাস্টার্স ক্রিকেটের যাত্রাটাও তাদের হাত ধরেই।

লেজেন্ডস চ্যাম্পিয়নস ট্রফি টেন.টেন টুর্নামেন্টে এবার অংশ নিচ্ছে ৬ দল। যেখানে প্রায় শতাধিক সাবেক ক্রিকেটার অংশ নিচ্ছে। তিনদিনের এই টুর্নামেন্টের প্রথম দিন আজ মাঠে গড়িয়েছে ৪ টি ম্যাচ। ম্যাচের ফলাফল জয় পরাজয় ছাপিয়ে মাঠে মোহাম্মদ রফিকের পুরোনো স্পিন বিষ, ব্যাট হাতে ধুম ধাড়াক্কা শট, নাইমুর রহমানের অফ স্পিন ঘূর্ণি, মিনহাজুল আবেদিন নান্নুর স্কয়ার কাট, ফয়সাল হোসেন ডিকেন্সের লড়াই করে ক্রিজে টিকে থাকা সব যেন একটা ধুলো পড়া অতীতকে ছুঁয়ে দেওয়া।

শ্যাওলা ধরা অতীতকে মাঝে মাঝে এভাবে সামনে আনার আয়োজন করায় ধন্যবাদ প্র্যাপ্য আয়োজকদের। কক্সবাজার সুমুদ্র সৈকতের কোল ঘেঁষা শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের শ্যাওলা ধরা অবকাঠামো আপনার মন খারাপ করাতে পারে। উদ্বোধনের অর্ধ যুগ পরেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজনে প্রস্তুত হতে না পারা আপনার মনকে বিষণ্ণ করতে পারে।

কারণ হোটেল, বিমানবন্দর সহ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজনের সব সুযোগ সুবিধাই আছে বিশ্বের দীর্ঘতম সুমুদ্র সৈকতের শহর কক্সবাজারে। তবে সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনার অভাবে স্টেডিয়ামে প্রবেশের পর মনে হবে মাছ কিংবা সবজি চাষাবাদ উপযোগী উর্বর কোন জমি। কিন্তু সাবেকদের নিয়ে আয়োজিত টুর্নামেন্টের সময়টায় এখানে আপনার মন খারাপের সব কারণই তুচ্ছ হতে বাধ্য। স্মৃতি হাতড়ে আপনি যেতে চাইবেন দেশের ক্রিকেটের শৈশবকালে।

লেজেন্ডস চ্যাম্পিয়নস ট্রফির উদ্বোধন শেষে বিসিবি পরিচালক ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের প্রধান ইসমাইল হায়দার মল্লিকও আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ দিলেন এইসকে।

উপস্থিত সাংবাদিকদের মল্লিক বলেন, ‘প্রথমে ধন্যবাদ জানাই আয়োজকদের। বিশেষ করে ক্রিকবল ও এইস যারা টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছে। বিশেষ করে ইশতিয়াক (ইশতিয়াক সাদিক) ভাইকে। এই মাঠে উনি এর আগেও বিভিন্ন ধরণের অ্যামেচার টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছেন।’

‘উদ্যোগটা যখন নেয়, আমাদের বোর্ডের সংশ্লিষ্ট যারা আছে সাবেক ৬ টা অধিনায়ক সুজন ভাই, দুর্জয় ভাই, নান্নু ভাই, সুমন ভাই, পাইলট ভাই আছে, রফিক ভাইদের মত তারকা যারা আছে সবাইম এক প্ল্যাটফর্মে একত্রিত করলে এটা আসলে ক্রিকেটকে প্রচার ও প্রসারে উদ্ভুদ্ধ করবে যারা তরুণ আছে তাদেরকে বিশেষ করে। কারণ বর্তমান প্রজন্ম উনাদের খেলা দেখেনি।’

‘একটা টুর্নামেন্ট আয়োজন করা খুবই চ্যালেঞ্জ। এটা করার জন্য উনাদেরকে একটা ধন্যবাদ দিই। এরকম একটা টুর্নামেন্ট কিন্তু এখন টেলিভিশনে ব্রডকাস্ট হয়। এটায় কিন্তু ব্যবসায়িকভাবে সম্পূর্ণ ক্ষতি। এরপরেও উনারা যে উদ্যোগটা নিয়েছে সেজন্য উনাদের একটা বড় ধন্যবাদ প্রাপ্য।’

এইস ও ক্রিকবলের প্রধান নির্বাহী ইশতিয়াক সাদিক আশাবাদী ৭০ বলের নতুন এই ফরম্যাট জনপ্রিয় হবে, ‘অবশ্যই ভালো লাগছে, বাংলাদেশের সব সাবেক ক্রিকেটারদের নিয়ে করছি। ফরম্যাটটা শর্ট করার কারণ হচ্ছে প্লেয়ারদের সবাইতো ফিট না। টি-টেন তো আমরা আগেও খেলেছি। তবে আমার কাছে মনে হয় টেন.টেন জনপ্রিয় হবে।’

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

দুর্জয়ের কাছে সুজনের হার, টানা দুই জয়ে উড়ছে পাইলটরা

Read Next

যে কারণে এক যুগ পরেও সফল মোহাম্মদ রফিক

Total
4
Share