কাঁদা ছোড়াছুড়ি না করে এক হবার বার্তা দিলেন সাকিব

সাকিব ছাড়া বাংলাদেশ চলবে না, বিষয়টা এমন নাঃ মুমিনুল

দুই দশক পরেও টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ যেন সদ্য জন্ম নেওয়া শিশু। একের পর এক ব্যর্থতা নিয়েছে পিছু। শোকের পেয়ালায় শেষ বিন্দু হয়ে যোগ হল ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ধবল ধোলাইয়ের হতাশা। আর এমন কিছুর পরই একে, ওকে দোষ চাপানোর চেষ্টা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কর্তাদের। বোর্ড সভাপতি বলছেন জবাবদিহিতা করতে হবে, বোর্ড পরিচালকরা বলছেন লংগার ভার্সন ক্রিকেটে অনাগ্রহ ক্রিকেটারদের। জবাবে সাকিব আল হাসান জানালেন কাঁদা ছোড়াছুড়ি করতে চান না।

ঢাকা টেস্টে হারের পরই বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন টিম ম্যানেজমেন্টের সাথে তার আলাপ আলোচনার কোনটাই মাঠে প্রয়োগ হচ্ছে না। কোচ, অধিনায়ক, নির্বাচক সহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছেই জবাবদিহিতা চাইবেন বলে জানিয়েছেন পাপন। দলের এমন ভরাডুবি চলতে দেওয়া যাবেনা বলেও দিয়েছেন হুশিয়ারি।

একই দিন বোর্ড পরিচালক নাইমুর রহমান দুর্জয় জানিয়েছেন দলের কোন পরিকল্পনাই তার চোখে পড়েনি। এমনকি টেস্ট সিরিজের আগে দুইটি চারদিনের প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনের চেষ্টা করলেও ক্রিকেটারদের অনাগ্রহের কারণেই সেসব মাঠে গড়ায়নি। বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট অধিনায়ক আরও জানান প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও অনীহা জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারদের।

কিন্তু একদিন পরই এ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হয় সাকিব আল হাসানের কাছে। একটি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের অনলাইন ক্যাম্প পরিচালনায় এসে টাইগার অলরাউন্ডার সাফ জানিয়েছেন কাঁদা ছোড়াছুড়ি করতে চান না। এ কাজে পারদর্শী নন বলেও জানান চোটের কারণে সিরিজের মাঝপথে ছিটকে যাওয়া সাকিব।

তিনি বলেন, ‘যেই বলেছেন উনি উনার মতমত দিয়েছেন। আমি আমার মতামত এখানে দিতে চাই না। আমার মনে হয় না এটা এই মতামত দেওয়ার মঞ্চ। কথাবার্তা, কাঁদা ছোড়াছুড়ি, এসবে আমি পারদর্শী না, করতেও চাই না।’

ক্যারিবিয়ানদের কাছে টেস্ট সিরিজে ভরাডুবির পর সাকিব বলছেন এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট আগেও পড়েছে। সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় আবারও ঘুরে দাঁড়াবে দেশের ক্রিকেট এমনটাই প্রত্যাশা তার।

সাকিব বলেন, ‘আমরা কেউই প্রত্যাশা করিনি এমন হবে। শেষবার যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে খেলেছি, তখন ওদের সেরা দল এসেছিল। আমরা ওদের ভালোভাবে হারিয়েছিলাম। গত বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে সব কিছুতেই ওদের সঙ্গে ভালো ফল ছিল আমাদের। চট্টগ্রামে চারদিনও আমরা খুব ভালো অবস্থানে ছিলাম। পঞ্চম দিন থেকে খারাপ হওয়া শুরু করে।’

‘দ্বিতীয় টেস্টেও আমরা ভালোভাবে ফিরতে পেরেছিলাম। কিন্তু একটা সময় পর আর হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই অবস্থাটা কঠিন। কিন্তু এর আগেও এমন অবস্থা বাংলাদেশের ক্রিকেটে এসেছে। সবাই মিলে এক সঙ্গে কাজ করে এই জায়গা থেকে বের হয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি এবারও সবাই মিলে এক সঙ্গে কাজ করে বের হয়ে আসা সম্ভব।’

দল হেরেছে বলেই প্রশ্নের জায়গা বেশি তৈরি হয়েছে বলছেন সাকিব। দল জিতলে অনেক সময়ই ভুলগুলো সামনে আসেনা। ফলে এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে সঠিক পন্থা অবলম্বনের পরামর্শ টাইগার অলরাউন্ডারের।

সাকিব যোগ করেন, ‘ক্রিকেটে কোনো সঠিক কিংবা ভুল সিদ্ধান্ত হয় না। প্রতিটা সিদ্ধান্ত প্রত্যেক কোচ, অধিনায়ক, বোর্ড জেতার জন্যই নেয়। যখন সেটা ঠিক হয় না তখন আপনারা প্রশ্ন করেন। অনেক সময় ঠিক হলেও সেটা ভুল হতে পারে। সেটা আপনারা বুঝতেও পারেন না। জিতে গেলে এই প্রশ্নগুলো করতেন না। কিন্তু তখনো আপনাদের কাজ প্রশ্ন করার। সেখানে আপনাদেরও অনেক বড় দায়িত্ব আছে। আপনারা কি করবেন না করবেন। আপনারা কীভাবে সাংবাদিকতা করবেন।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

সাকিবের ছুটি ‘একের ভেতর দুই’

Read Next

আয়ারল্যান্ড সফরে যাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে

Total
8
Share