শীষ্যদের পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন করলেন উইন্ডিজ কোচ

ফিল সিমন্স

বাংলাদেশকে হতাশার সাগরে ডুবিয়ে আনকোরা এক দল নিয়ে টেস্ট সিরিজ ধবল ধোলাই করলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যেখানে বল হাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন পারফরম্যান্সের চাইতে বাংলাদেশে আসার পর যার গড়ন নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা করা হয়েছে সেই রাখিম কর্নওয়াল। ব্যাট হাতে যে দায়িত্ব সামলেছেন এই সিরিজ দিয়েই অভিষেক হওয়া কাইল মায়ের্স, এনক্রুমাহ বোনাররা। সিরিজ শেষে শীষ্যদের মূল্যায়ন করলেন কোচ ফিল সিমন্স।

চট্টগ্রাম টেস্টে ৫ উইকেটের পর ঢাকা টেস্টে ৯ উইকেট। ১৪ উইকেট নিয়ে সিরিজে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ক্যারিবিয়ান অফ স্পিনার রাখিম কর্নওয়াল। বাংলাদেশের স্পিন বান্ধব কন্ডিশনে স্বাগতিক স্পিনাররা পুরোপুরি ফায়দা লুটতে না পারলেও কর্নওয়াল কাজে লাগান দারুণভাবে। ঢাকা টেস্টের প্রথম ইনিংসে তুলে নেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় পাঁচ উইকেট।

ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে কর্নওয়াল সম্পর্কে দলের কোচ ফিল সিমন্স বলেন, ‘আমার মনে হয় সে দুর্দান্ত ছিল। তার লম্বা স্পেল করার ক্ষমতা আমাদের এই সিরিজে সাহায্য করেছে। তার খেলোয়াড়দের চাপে ফেলে উইকেট বের করার সামর্থ্য আছে। সে ১৪টি উইকেট পেয়েছে, যা বাকি অভিজ্ঞ স্পিনারদের থেকে বেশি, তার জন্য এবং আমাদের জন্য এটি দারুণ।’

বল হাতে রাখিম কর্নওয়াল, জোমেল ওয়ারিক্যানরা টাইগার ব্যাটসম্যানদের পরীক্ষা নিলেও ব্যাট হাতে ঝলক দেখান এনক্রুমাহ বোনার ও কাইল মায়ের্স। চট্টগ্রামে অভিষেক টেস্টেই রেকর্ড গড়া ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দলকে অবিশ্বাস্য জয় এনে দেন কাইল মায়ের্স। যেখানে আরেক অভিষিক্ত এনক্রুমাহ বোনার ছিলেন পাশ্বনায়কের ভূমিকায়, সিরিজ শেষে অবশ্য পান সিরিজসেরার পুরস্কার। মায়ের্সের সাথে দুর্দান্ত এক জুটি গড়ার পথে খেলেছেন ৮৬ রানের ইনিংস।

ঢাকা টেস্টে মায়ের্স খুব একটা সুবিধা করতে না পারলেও বোনার ছিলেন ধারাবাহিক। প্রথম ইনিংসে ৯০ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৮ রান করেন এই জ্যামাইকান ব্যাটসম্যান। অন্যদিকে বাংলাদেশে আসার আগে মাত্র এক টেস্টের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন উইকেট রক্ষক জশুয়া ডা সিলভাও খেলেছেন দারুণ। দুই টেস্টে রান করেছেন ১৯৮।

ক্রেইগ ব্যাওথয়েট, জার্মেইন ব্ল্যাকউডের মত অভিজ্ঞদের সাথে খেলতে নেমে তাদের ছায়া না হয়ে নিজেকে প্রমাণ করতে পারায় মায়ের্স, বোনার, সিলভাদের নিয়ে খুশি কোচ। তার মতে টেস্ট ক্রিকেটে ভালো করা যে কঠিন কাজ সেটা ইতোমধ্যে টের পেয়েছেন এসব অনভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা।

সিমন্স বলেন, ‘আমার মনে হয় এটি তাদের চোখ খুলে দেবে টেস্ট ক্রিকেট কতটা কঠিন সেই ব্যাপারে। আপনাকে কতটা পরিশ্রম করতে হয় পারফর্ম করতে। আমার মনে হয় এটি তাদের জন্য দারুণ একটি ব্যাপার। সৌভাগ্যবশত তাদের আশেপাশে অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা আছে, ব্ল্যাকউড, ব্র্যাথওয়েট, ব্যাটিংয়ের দিক থেকে। চাপের মুখোমুখি হওয়া তাদের জন্য ভালো ছিল, কিন্তু এটিও ভালো ছিল যে তারা পরামর্শের জন্য অভিজ্ঞ কাউকে পেয়েছে।’

দলের অভিজ্ঞ বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারই বাংলাদশ সফরে আসেনি। আবার নতুন যারা সুযোগ পেয়েছে তারাও নিজেদের প্রমান করেছে বেশ ভালো ভাবে। ফলে পরবর্তী সিরিজের জন্য দল নির্বাচনের কাজটা যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোচের জন্য কঠিন হচ্ছে তা নিশ্চিত। তবে কোচ হিসেবে এমন মধুর সমস্যাতেই পড়তে চান বলে জানান ফিল সিমন্স।

তিনি বলেন, ‘কোচ, নির্বাচক হিসেবে আপনি এটিই চান। আপনি চান খেলোয়াড়রা জায়গার জন্য লড়াই করুক, তারা জানুক যে সুযোগ পেলেই তাদের পারফর্ম করতে হবে কারণ তাদের জায়গা নেয়ার জন্য খেলোয়াড় আছে। এভাবেই আপনার ক্রিকেট এগিয়ে যাবে।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

বদলে যাচ্ছে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের নাম

Read Next

চেন্নাই টেস্টে জয়ের পথে এক পা দিয়ে রাখল ভারত

Total
2
Share