‘এরকম সারপ্রাইজ আমি পছন্দ করি না’

নাজমুল হাসান পাপন

জাতীয় দলের টিম ম্যানেজমেন্টের সাথে একটা সময় নিয়মিত সম্পৃক্ত থাকতেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। মাঝে কিছুটা সরে আসলেও সদ্য সমাপ্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে আবারও সম্পৃক্ত হয়েছেন। কিন্তু বায়ো বাবলের কারণে এবার সরাসরি দেখা ও আলাপ আলোচনা হয়েছে কমই। তবে তার সাথে টিম ম্যানেজমেন্টের আলাপের বেশিরভাগই মাঠের ক্রিকেটে প্রয়োগ হয়না।

আলোচনা করে যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তার প্রয়োগ না হওয়াতে নিয়মিতই বিস্মিত হতে হয় নাজমুল হাসান পাপনকে। বিশেষ করে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট হার, ভারতে গোলাপি বল টেস্ট সহ সদ্য সমাপ্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজেও তার সাথে আলাপের বেশিরভাগই মিলেনি।

চট্টগ্রামের পর ঢাকা টেস্টেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হারের পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিসিবি সভাপতি জানান গোলাপি বল টেস্টে টস জিতে ব্যাটিং নেওয়ার সিদ্ধান্তকে ভালোভাবে নেননি। এমনকি আগেরদিন রাতে আলোচনা স্বত্বেও টস জিতে ব্যাটিং নেওয়ার কারণে মুমিনুলকে সাফ জানিয়েছেন এমন সারপ্রাইজ আর হতে চান না।

পাওন বলেন, ‘গেলাম ভারতে পিঙ্ক বলের ডে নাইট টেস্ট খেলতে। আগের দিন টিম মিটিংয়ে বসা, জিজ্ঞেস করলাম সবাইকে। আমাকে শতভাগ নিশ্চয়তা দিল আমাদের অধিনায়ক মুমিনুল সবার সামনে, কোচের সামনে যে টসে জিতলে আমরা ফিল্ডিং নেব। পরদিন সকালে ব্রেকফার্স্টে আবার জিজ্ঞেস করলাম আমার একটু সন্দেহ লাগছিল কেন আমার এমনটা হয় না সাধারণত।’

‘ঠিক করে বলো কি করবা যদি টসে জিত। টসে জিতলে তো ফিল্ডিং নিবই। মাঠে গিয়ে দেখি ব্যাটিং। কি করবো? এরকম হলে বড় সমস্যা। এখন এরকম তো কখনও হয়নি। কারো সাথেই হয় নাই। আমি বলতে চাচ্ছি এটা কেউ করেছে। বলছিনা মুমিনুল করেছে। সেটা আমি বলেছি না। কেউ চেঞ্জ করেছে সেটা যদি আমাকে না জানায় এটা বড় সমস্যা।’

‘আমি খালি তখন বলেছিলাম, এরকম সারপ্রাইজ আমি পছন্দ করি না। তোমরা যদি চেঞ্জ করতে চাও আমাকে জানাতে হবে। এখন আমি যেটা বলেছি এনাফ ইজ এনাফ। আমাদের হারার পেছনে কতগুলা কারণ। প্রথম কারণটা হচ্ছে উই হ্যাফ একচুয়ালি আন্ডারএস্টিমেটেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ টিম। এটা হলো রিয়েলিটি। ওডিআই তিনটা হোয়াইটওয়াশ করার পর ভেবেই নিয়েছিলাম এটা অনলি মেটার অব টাইম।’

এদিকে চট্টগ্রাম টেস্টে চালকের আসনে থেকেও শেষ পর্যন্ত হারই সঙ্গী হয় বাংলাদেশের। চট্টগ্রামের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ঢাকা টেস্টে কিছু পরিবর্তন আশা করেছিলেন নাজমুল হাসান পাপন। তবে ঢাকা টেস্টেও ফলাফলেকই হওয়াতে হতাশ বিসিবি সভাপতি।

তিনি বলেন, ‘প্রথম টেস্ট ম্যাচে এত বড় একটা লিড নিলাম এবং প্রথম ইনিংসে ভালো ব্যাটিং করলাম তখন আমরা ওভার কনফিডেন্ট। মাঝখানে একটা সময় এসে এতো বাজে বোলিং করেছি যে আমরা সেজন্য ম্যাচটা হেরে গেলাম। খালি বোলিং না আমরা খারাপ খেলেছি। রিভিউ দুটা নিচ্ছি না, ক্যাচ ফেলে দিচ্ছি, বাজে জায়গায় বল ফেলছি সবকিছুই। সো এই ম্যাচটা আমরা হাতছাড়া করলাম।’

‘এই ম্যাচে এসে আমার ধারণা ছিল যে সবকিছু পরিবর্তন হবে। এখানে আমরা আমাদের দলটাকে নতুনভাবে দেখতে পাব। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে এখানে এসে দেখলাম প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং দেখেই হতাশ। আমাকে যদি বলেন আমি পুরোপুরি হতাশ। আজকেও তারা যেভাবে আউট হয়েছে আমি হতাশ। এটাতে মনে হয় না কোনো প্লান বা স্ট্রাটেজি ওদের কাছে ছিল যেটা নিয়ে তারা মাঠে নেমে। এই প্রশ্নগুলোই আমার করতে হবে তাঁদেরকে।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

হার থেকে শিক্ষা নিয়ে উন্নতিতে চোখ মুমিনুলের

Read Next

টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের শততম জয়

Total
2
Share