হার থেকে শিক্ষা নিয়ে উন্নতিতে চোখ মুমিনুলের

উইকেট নয়, বোলারদের দুষলেন মুমিনুল

মোটামুটি খর্বশক্তির ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই টেস্টে হেরে ধবলধোলাই হলো বাংলাদেশ। প্রথম টেস্টে ৩ উইকেটের পরাজয়ের পর ২য় টেস্টে ১৭ রানের হার। স্বভাবতই অধিনায়ক মুমিনুল হকের চোখে মুখে হতাশার ছাপ।

টেস্ট সিরিজ নিয়ে ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন মুমিনুল হক। নিজেদের ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ভাগ্যকেও দায় করলেন তিনি।

‘কঠিন ভাগ্য বলতেই হয়। যেই রানটা ছিল সেটি তাড়া করা যেত। টপ অর্ডার থেকে মিডল অর্ডারে ভেঙ্গে পড়ার কারণে রান তাড়া করতে পারেনি।’

উইকেটে ব্যাটিং করা তেমন কঠিন ছিল না বলে জানান অধিনায়ক। তবে ক্যারিবিয়ান বোলিংয়ের সামনে নিজেদের কার্যকরী ব্যাটিংয়ের অভাবে দলের পরাজয় বলে মনে করেন তিনি।

‘পুরো চারদিনই ব্যাটিং খুব কঠিন মনে হয়নি। আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একটু কঠিন উইকেট থাকলেও সেটি মানিয়ে নিতে হবে। খুব বেশি বাউন্সও ছিল না। কর্নওয়াল কিছু বাউন্স পেয়েছে তাঁর উচ্চতার জন্য। আমাদের মানিয়ে নেওয়া উচিত ছিল। সেটা আমরা করতে পারেনি। যার কারণে দ্বিতীয় টেস্টটা হাত থেকে চলে গেছে।

২য় টেস্টে পিছিয়ে থাকার পেছনে ব্যাটিংকেই আবারও টানলেন মুমিনুল।

‘ব্যাটিংয়ে আমরা ভেঙে পড়েছি। সেখান থেকে আমরা দুই ইনিংসেই ফিরতে পারিনি।’

দুই টেস্টে নিজেদের পরিকল্পনার ঘাটতিকেও উল্লেখ করেছেন।

‘নির্দিষ্ট কোনো কারণ নেই। হয়তো আমরা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেনি।’

চট্টগ্রামের হারে অবাকই হয়েছিলেন অধিনায়ক। কাইল মায়ের্সের ব্যাটিংয়ে চট্টগ্রাম টেস্ট অবিশ্বাস্যভাবে জেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে ২য় টেস্টে ঘুরে ফিরে নিজেদের পরিকল্পনাকেও দোষারোপ করেন মুমিনুল। বোলাররা সে তুলনায় ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে বলে জানান তিনি।

‘অবিশ্বাস্য না। প্রথম ইনিংসেই কিন্তু ওরা এগিয়ে ছিল। দ্বিতীয় ইনিংসে বোলাররা খুব ভালো বল করেছে। ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তামিম ভাই, সৌম্য যেভাবে শুরু করেছিল, তখন মনে হয়েছিল আমরা খেলায় ছিলাম। হঠাৎ দুই-তিনটা উইকেট পড়ে যাওয়াতে আমরা একটু পিছিয়ে পড়ি। শেষের দিকে মিরাজ খুব ভালো ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। মাঝখানে একটু উল্টোপাল্টা হয়ে গিয়েছে, যার কারণে আমরা ফিরতে পারিনি।’

প্রথম টেস্টে ইনজুরিতে আক্রান্ত বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের পরিবর্তে ২য় টেস্টে সুযোগ পান সৌম্য সরকার। তবে ব্যাটিং কিংবা বোলিংয়ে বলার মত কিছুই করতে পারেননি তিনি।

‘আগেও বলেছি, সাকিব ভাই চলে যাওয়াতে আমাদের দলের সমন্বয় একটু ওলটপালট হয়ে গিয়েছিল। আমার একজন মিডিয়াম পেস যিনি ব্যাটিং করেন, এমন কাউকে দরকার ছিল। আর সৌম্য অভিজ্ঞও ছিল। সম্প্রতি ওয়ানডেও খেলেছে। কিন্তু আপনি যখন হারবেন তখন অবশ্যই চোখ পড়বে। যদি জিততাম, তাহলে হয়তো…(হাসি)।’

তামিম ও সৌম্যর ভালো জুটির পর বিপক্ষ শিবিরের অধিনায়ক ক্রেগ ব্রাথওয়েটই সৌম্যকে আউট করে প্রথম ব্রেকথ্রু এনে দেন। এরপর নেন আরও দুই উইকেট।

ব্রাথওয়েটের বল কঠিন ছিল না বলে জানান মুমিনুল। তবে ২য় ইনিংস জুড়ে নিজেদের ইতিবাচকতার অভাব দেখেছেন তিনি।

‘ব্রাথওয়েটের বল খুব বেশি কঠিন ছিল না। একটু ইতিবাচক খেললে হয়তো চিত্রটা অন্যরকম হতে পারত। চট্টগ্রাম টেস্টে আমরা খুবই ইতিবাচক ব্যাটিং করেছিলাম। দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে আমরা সেই রকম ইতিবাচক ক্রিকেট খেলতে পারিনি।

অধিনায়ক হিসেবে ধবল ধোলাইয়ের অভিজ্ঞতা সুখকর নয় মুমিনুলের। এর আগে বিদেশের মাটিতেও এমন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছিলেন তিনি।

‘বিদেশের মাটিতে ধবলধোলাইয়ের অভিজ্ঞতা ছিল। দেশের মাটিতেও হয়ে গেল। দল হারলে আপনি অবশ্যই হতাশ হবেন। আমাদের অনেক উন্নতি করার আছে। যেগুলো করতে পারলে হয়তো আমরা দেশে ও দেশের বাইরে ম্যাচ জিততে পারব।’

ইনিংসের শুরু থেকে ব্যাটিংয়ে আরও পরিকল্পনা নিয়ে এগুতে চান মুমিনুল। একইসাথে শ্রীলঙ্কা সিরিজেও ভালোভাবে নিজেদের পরিকল্পনা কাজে লাগাতে চান

‘ইনিংসের শুরুটা নিয়ে আমাদের আরও কাজ করতে হবে। আরেকটু ভাবতে হবে, আরেকটি পরিকল্পনা করতে হবে। সামনেই শ্রীলঙ্কা সিরিজ। আশা করি সেখানে ভালোভাবে ফিরতে পারব।’

টেস্টের ২০ বছর পার হয়ে গেছে। সেক্ষেত্রে কোন উন্নতিই হয়নি বলে মন্তব্য অধিনায়কের। তবে যতদিন সুযোগ পাবেন, তা কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সংকল্প অধিনায়কের।

‘আসলেই ২০ বছর হয়ে গেছে। তবে আমার মনে হয় ওইভাবে কোনো উন্নতিই হয়নি। আর উন্নতির শেষ নেই। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সুযোগ থাকে। আমরা যতদিন খেলব, যতদিন বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করব, ততদিন উন্নতি করতে হবে।’

সাকিবের অভাবটা বেশ ভালোভাবে ভুগিয়েছে দলকে, এমনটাই মন্তব্য মুমিনুলের। দল জিতলে অবশ্য এসব ঢাকা পড়ে যেত বলে অভিমত তার।

‘সাকিব ভাই না থাকলে সঠিক সমন্বয় গড়া একটু কঠিন হয়। আমি আগেই বলেছি, দল হারলে অনেক কিছুরই কমতি মনে হয়। জিম্বাবুয়ের সঙ্গে যখন আমরা জিতেছিলাম তখন এতো কিছু বের হয়নি।’

শ্রীলঙ্কা সফরকে সামনে রেখে ব্যাটিং নিয়ে কাজ করতে চান অধিনায়ক। লম্বা ইনিংসকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

‘ব্যাটসম্যানদের বড় ইনিংস খেলার অভ্যাস গড়তে হবে। লম্বা সময় ধরে ব্যাটিং করার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এটাই। ব্যাটসম্যানরা যদি তিন-চার সেশন ব্যাটিং করতে পারে, তাহলে টেস্ট দলের জন্য সহজ হবে।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

‘আমাকে আগে জানতে হবে এখানে কি ঘটছে’

Read Next

‘এরকম সারপ্রাইজ আমি পছন্দ করি না’

Total
14
Share