ম্যাচ জিততে টাইগারদের চাই ২৩১ রান

দ্বিতীয় সেশনেই ম্যাচে ফিরল বাংলাদেশ

লাঞ্চের আগে আবু জায়েদ রাহি ও তাইজুল ইসলাম দ্রুত তিন উইকেট তুলে নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে অল্পতে গুটিয়ে দেওয়ার রাস্তাটা তৈরি করে রাখেন। যে পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়ে যান এনক্রুমাহ বোনার ও জশুয়া ডা সিলভা। তবে লাঞ্চের পর ক্যারিবিয়ানরা টিকেছে মাত্র ২৯ বল। তাইজুল-নাইমের ঘূর্ণিতে বড় কিছুর আভাস দিয়েও বাংলাদেশকে ২৩১ রানের বেশি লক্ষ্য দিতে পারেনি সফরকারীরা।

৬ উইকেটে ৯৮ রান তুলে লাঞ্চে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২৫ রানের অবিচ্ছেদ্য জুটিতে ৩০ রানে বোনার ও ২০ রানে সিলভা অপরাজিত ছিলেন। কিন্তু লাঞ্চের পর স্পিন সামলাতে গিয়ে টালমাটাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৯ রান তুলতেই হারায় বোনার-সিলভা সহ শেষ চার উইকেট।

লাঞ্চের পর দ্বিতীয় ও নিজের প্রথম ওভারের তৃতীয় বলেই জশুয়া ডা সিলভাকে স্লিপে সৌম্য সরকারের ক্যাচে পরিণত করেন তাইজুল। বাঁহাতি এই স্পিনারের অফ স্টাম্পের বাইরের ফ্লাইট ডেলিভারিটি সিলভা’র ব্যাটে আলতো ছোঁয়া লেগে সৌম্যের তালুবন্দী হয়। লাঞ্চের পর আর কোন রান যগ করতে পারেননি সিলভা (২০)।

প্রথম ইনিংসে ৮২ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলা আলঝারি জোসেফ দিয়েছেন ঝড়ের আভাস। নাইম হাসানের বলে হাঁকিয়েছেন ছক্কাও। কিন্তু তাইজুলের বলে শর্ট কাভারে নাজমুল হোসেন শান্তকে অনেকটা ক্যাচ অনুশীলন করিয়ে ফিরেছেন ৮ বলে ৯ রান করে।

সিলভা-জোসেফ ফিরলেও ভয়টা ছিল বোনারকে নিয়ে। সিরিজে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এই জ্যামাইকানও অবশ্য নিজের খেই হারাতে বাধ্য হন। নাইম হাসানের বলে রিভার্স সুপ খেলতে গিয়ে বোল্ড হন। ১২০ বল ও ১৮৭ মিনিট ক্রিজে কাটিয়ে ফিরেছেন ৩৮ রান করে। ৩ বল ও ১ রানের ব্যবধানে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে ফিরেছেন রাখিম কর্নওয়ালও। নাইমকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে মুশফিকুর রহিমের দারূণ ক্যাচে ফিরেছেন ১ রান করে।

১১৭ রানে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে অল আউট করার পথে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ চার উইকেট তাইজুলের, তিনটি শিকার নাইমের। পেসার রাহি নেন দুইটি, মিরাজের শিকার একটি।

২৩১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় খেলতে নামা বাংলাদেশকে জিততে হলে করতে হবে রেকর্ড। মিরপুরে সর্বোচ্চ রান তাড়ার আগের রেকর্ড ইংল্যান্ডের। ২০১০ সালে বাংলাদেশের দেওয়া ২০৯ রান তাড়া করে জিতেছিল ইংলিশরা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (প্রতিবেদন লেখা অব্দি)

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংসে ৪০৯/১০ (১৪২.২), ব্র্যাথওয়েট ৪৭, ক্যাম্পবেল ৩৬, মোসলে ৭, বোনার ৯০, মায়ের্স ৫, ব্ল্যাকউড ২৮, জশুয়া ৯২, জোসেফ ৮২, কর্নওয়াল ৪*, ওয়ারিক্যান ২, গ্যাব্রিয়েল ৮; রাহি ২৮-৬-৯৮-৪, মিরাজ ৩৩-৯-৭৫-১, তাইজুল ৪৬.২-৮-১০৮-৪, সৌম্য ১১-১-৪৮-১।

বাংলাদেশ ১ম ইনিংসে ২৯৬/১০ (৯৬.৫), তামিম ৪৪, সৌম্য ০, শান্ত ৪, মুমিনুল ২১, মুশফিক ৫৪, মিঠুন ১৫, লিটন ৭১, মিরাজ ৫৭; গ্যাব্রিয়েল ২১-৩-৭০-৩, কর্নওয়াল ৩২-৮-৭৪-৫, জোসেফ ১৭.৫-৩-৬০-২

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২য় ইনিংসে ১১৭/১০ (৪৮), ব্র্যাথওয়েট ৬, ক্যাম্পবেল ১৮, মোসলে ৭, বোনার ৩৮, ওয়ারিক্যান ২, মায়ের্স ৬, ব্ল্যাকউড ৯, জশুয়া ২০, জোসেফ ৯, কর্নওয়াল ১, গ্যাব্রিয়েল ১*; তাইজুল ২১-৪-৩৬-৪, নাইম ১৫.৫-৫-৩৪-৩, মিরাজ ৬-১-১৫-১, রাহি ১০-৪-৩২-২

দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের জয়ের জন্য দরকার ২৩১ রান।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে বোনার-জশুয়া

Read Next

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি দলে স্ট্যান্ডবাই অ্যালেন

Total
5
Share