দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে বোনার-জশুয়া

দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে বোনার-জশুয়া

প্রথম দুই দিনে ম্যাচের বাইরে থাকা বাংলাদেশ তৃতীয় দিন শেষ সেশনে ম্যাচে ফেরার আভাস দেয়। চট্টগ্রাম টেস্টের পর ঢাকায়ও টাইগার স্পিনারদের ঝলক দেখাতে না পারা আফসোস বাড়াচ্ছিল। তৃতীয় দিন শেষ বিকেলে খুঁজে পাওয়া টাইগার স্পিনারদে ছন্দ বজায় থাকে চতুর্থ দিন সকাল থেকেই। সাথে ম্যাচের অন্যতম প্রাপ্তি পেসার আবু জায়েদ রাহির ধারাবাহিকতায় ক্যারিবিয়ানদের অল্পতেই গুটিয়ে দেওয়ার পথে ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু আবারও বাঁধা হয়ে দাঁড়ালেন এনক্রুমাহ বোনার ও জশুয়া ডা সিলভা।

৩ উইকেটে ৪১ রান নিয়ে দিন শুরু করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৭৩ রানে হারায় ৬ উইকেট। তবে বোনার-সিলভার অবিচ্ছেদ্য ২৫ রানের জুটিতে লিড বাড়ছে ক্যারিবিয়ানদের। ১৫৪ রানের লিড নিয়ে দিন শুরু করে লাঞ্চের আগে তাদের লিড বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১১। দ্বিতীয় ইনিংসে এখনো পর্যন্ত তাদের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৯৮। ৩০ রানে বোনার ও ২০ রানে অপরাজিত সিলভা।

দিনের পঞ্চম ওভারেই নাইটওয়াচম্যান জোমেল ওয়ারিক্যানকে (২) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন রাহি। আগেরদিন যে উদ্দেশ্যে তাকে নামানো হয়েছে সেটি সফলভাবেই করেছেন ওয়ারিক্যান। রানের চাইতে আগেরদিন শেষ বিকেলে বোনারকে নিয়ে কোন বিপদ ঘটতে না দেওয়াই ছিল তার কাজ।

একই ওভারের রাহি ফেরাতে পারতেন চট্টগ্রাম টেস্টের ক্যারিবিয়ানদের জয়ের নায়ক কাইল মায়ের্সকে। ওভারের শেষ বলটি মায়ের্সের ব্যাট ছুঁয়ে উইকেটের পেছনে লিটন দাসের গ্লাভসবন্দী হয়। কট বিহাইন্ডের জোরালো আবেদন করলে আম্পায়ার নট আউট দেন। কিন্তু অধিনায়কের সাথে পরমর্শ করেও রিভিউ নেওয়ার মত আত্মবিশ্বাস দেখাতে পারেননি লিটন। পরে টিভি রিপ্লেতে স্পষ্ট দেখা যায় বল মায়ের্সের ব্যাট ছুঁয়েছে।

তবে মায়ের্সকে বেশিক্ষণ টিকতে দেননি রাহিই। দিনের ১১তম ও ব্যক্তিগত ৬ষ্ঠ ওভারের প্রথম বলেই এলবিডব্লিউর ফাঁদে বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। আউট সাইড ইম্প্যাক্ট হয়ে লেগ স্টাম্পের উপরের অংশে আঘাত হানতো ডেলিভারিটি। তবে আম্পায়ার কল আউট হওয়াতে রিভিউ নিয়েও এ দফায় বাঁচতে পারেননি মায়ের্স। চট্টগ্রাম জয়ের নায়ক ফিরেছেন ১৬ বলে ৬ রান করে।

মায়ের্সের কট বিহাইন্ডের রিভিউ নেওয়া নিয়ে দ্বিধায় থাকা লিটন অবশ্য দারুণ এক স্টাম্পিংয়ে ফেরান জার্মেইন ব্ল্যাকউডকে। তাইজুলের দেওয়া ফ্লাইট ডেলিভারি কিছুটা সামনে এগিয়ে ডিফেন্সের চেষ্টা, ব্যাটে-বলে সংযোগ না হওয়াতে ঠিকানা লিটনের গ্লাভস। তড়িৎ গতিতে স্টাম্প ভেঙে দিয়ে ততক্ষণে কাজের কাজটা করে ফেলেছেন এই উইকেট রক্ষক। চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে দুই অঙ্ক ছোঁয়ার আগেই ফিরেছেন ব্ল্যাকউড (৯)।

কিন্তু এরপর টাইগার স্পিনাররা বেশ কয়েকবারই ভুগিয়েছেন ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যানদের। উইকেট থেকে পাওয়া বাড়তি বাউন্স ও টার্নে বিভ্রান্ত হলেও লাঞ্চের আগে আর কোন বিপদ ঘটেনি সফরকারীদের। প্রথম ইনিংসে ৯০ উর্ধ্ব ইনিংস খেলা বোনার-সিলভা দুজনেই আছেন অপরাজিত। ইতোমধ্যে ২১১ রানের লিড পাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ যটটা সম্ভব বড় লক্ষ্যই দিতে চায় বাংলাদেশকে। মিরপুরে সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড ২০৯। ফলে যে লক্ষ্যই পাক বাংলাদেশকে জিততে হবে রেকর্ড করেই।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (৪র্থ দিন, লাঞ্চ বিরতি পর্যন্ত):

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংসে ৪০৯/১০ (১৪২.২), ব্র্যাথওয়েট ৪৭, ক্যাম্পবেল ৩৬, মোসলে ৭, বোনার ৯০, মায়ের্স ৫, ব্ল্যাকউড ২৮, জশুয়া ৯২, জোসেফ ৮২, কর্নওয়াল ৪*, ওয়ারিক্যান ২, গ্যাব্রিয়েল ৮; রাহি ২৮-৬-৯৮-৪, মিরাজ ৩৩-৯-৭৫-১, তাইজুল ৪৬.২-৮-১০৮-৪, সৌম্য ১১-১-৪৮-১।

বাংলাদেশ ১ম ইনিংসে ২৯৬/১০ (৯৬.৫), তামিম ৪৪, সৌম্য ০, শান্ত ৪, মুমিনুল ২১, মুশফিক ৫৪, মিঠুন ১৫, লিটন ৭১, মিরাজ ৫৭; গ্যাব্রিয়েল ২১-৩-৭০-৩, কর্নওয়াল ৩২-৮-৭৪-৫, জোসেফ ১৭.৫-৩-৬০-২

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২য় ইনিংসে ৯৮/৬ (৪৮), ব্র্যাথওয়েট ৬, ক্যাম্পবেল ১৮, মোসলে ৭, বোনার ৩০*, ওয়ারিক্যান ২, মায়ের্স ৬, ব্ল্যাকউড ৯, জশুয়া ২০*; তাইজুল ১৯-৪-৩১-২, নাইম ১৩-৫-২০-১, মিরাজ ৬-১-১৫-১, রাহি ১০-৪-৩২-২

দ্বিতীয় ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২১১ রানে এগিয়ে।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

প্রিটোরিয়াসের রেকর্ড গড়া বোলিংয়ে প্রোটিয়াদের জয়

Read Next

ম্যাচ জিততে টাইগারদের চাই ২৩১ রান

Total
4
Share