শেষ বিকালে তাইজুল-মিরাজদের স্পিন ঝলক

শেষ বিকালে তাইজুল-মিরাজদের স্পিন ঝলক

মাঘের মাসের শেষ বিকেল, অপেক্ষায় পহেলা ফাল্গুন। ঢাকা টেস্টের প্রথম দুই দিন ব্যাকফুটে থাকা বাংলাদেশ তৃতীয় দিনের শেষ সেশনেই ম্যাচ বাঁচানোর সাথে জয় পাওয়াও সম্ভব এমন পরিস্থিতির দেখা পায়। ক্যারিবিয়ানদের ৪০৯ রানের বিপরীতে ১১৩ রান পিছিয়ে থেকে অলআউট বাংলাদেশ। তবে শেষ বিকেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের তিন উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশ শিবিরে স্বস্তি এনে দেন স্পিনাররা।

৭ উইকেট হাতে রেখে ১৫৪ রানের লিড নিয়ে তৃতীয় দিন শেষ করে ক্যারিবিয়ানরা। প্রথম দুইদিন উইকেট থেকে সাহায্য না পেয়ে বিবর্ণ থাকা বাংলাদেশ স্পিনাররা এদিন শেষ সেশনে দেখিয়েছেন ঝলক। সময়ের সাথে সাথে উইকেট যে স্পিনারদের সাহায্য করবে তার আভাস অবশ্য দিনের প্রথম দুই সেশনেই দিয়েছেন রাখিম কর্নওয়াল। ক্যারিবিয়ান এই স্পিনার তুলে নেন ইনিংসে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় পাঁচ উইকেট।

সেশনে ক্যারিবিয়ানরা ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছে ২১ ওভার। তাতেই বেশ ভুগতে হয় তাইজুল ইসলাম, নাইম হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজকে খেলতে গিয়ে। ৩৯ রানেই তিন উইকেট হারানো ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েটের দল ৪১ রানে দিন শেষ করে। ৮ রানে এনক্রুমাহ বোনার ও ২ রানে অপরাজিত আছেন নাইটওয়াচম্যান হিসেবে নামা জোমেল ওয়ারিক্যান।

ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই আঘাত হানেন প্রথম ইনিংসে উইকেট শূন্য থাকা নাইম হাসান। নাইমের দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় বলটি কিছুটা স্কিড করে লেগ সাইডে পড়ে। ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক ব্র্যাথওয়েট দ্বিধায় ভুগে শেষ মুহূর্তে খেলতে গিয়ে ক্যাচ দেন উইকেটের পেছনে লিটন দাসকে। দলীয় ১১ রানে সাজঘরে ফেরেন ৬ রান করে।

৯ম ওভারে আঘাত অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজের। শেইন মোসলেকে (৭) অফ স্টাম্পের বাইরে ফ্লাইট ডেলিভারিতে স্লিপে দাঁড়ানো মোহাম্মদ মিঠুনের তালুবন্দী করান। যে পথে মিরাজর ম্যাচ ও বয়স হিসেব দ্রুততম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে শততম টেস্ট উইকেটের মাইলফলক স্পর্শের রেকর্ড করেন। চতুর্থ বাংলাদেশি হিসেবে মাত্র ২৪ টেস্টেই এই মাইলফলক স্পর্শ করেন মিরাজ। যেখানে ২৫ টেস্টে ১০০ উইকেট নিয়ে আগের রেকর্ডটি তাইজুল ইসলামের ছিল।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by cricket97 (@cricket97bd)


মিরাজ-নাইমের পর তাইজুলও উইকেট শিকারে যোগ দিলে ৩৯ রানেই তিন উইকেট হারায় সফরকারীরা। বাঁহাতি এই স্পিনার তুলে নেন ক্রিজে সবচেয়ে সময় কাটানো ওপেনার জন ক্যাম্পবেলকে। যদিও তাইজুলের চাইতে আউট হওয়ার ক্ষেত্রে ক্যাম্পবেল নিজেই বেশি দায়ী। ঠিকঠাক ডিফেন্ড করার পরও বল স্টাম্পে যাওয়ার আগে প্রচুর সময় থাকলেও খেয়ালই করেননি ক্যাম্পবেল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বোল্ড হওয়ার আগে ৪৮ বলে করেন ১৮ রান।

প্রথম ইনিংসে ৯০ রানের ইনিংস খেলা এনক্রুমাহ বোনার ও জোমেল ওয়ারিক্যান অবশ্য দিনের শেষ ৪.২ ওভার ঠিকভাবেই সামলে নেন। জুটিতে ২ রান আসলেও নাইম-তাইজুলকে সামলে দিন শেষ করায় বাহবা পাবেন নাইট ওয়াচম্যান ওয়ারিক্যান।

ফলো অন এড়াতে ১০৫ রান করতে হবে, হাতে ৬ উইকেট। এমন সমীকরণে দিন শুরু করা বাংলাদেশ লাঞ্চের আগেই হারিয়েছেন মুশফিকুর রহিম ও মোহাম্মদ মিঠুনকে। আগেরদিন ৩৪ রানের জুটিতে আশা দেখানো দুজনেই এদিন করতে পারেননি খুব বেশি কিছু। ফিফটি হাঁকালেও অসময়ে বিলাসি শট খেলতে গিয়ে কর্নওয়ালের বলে কাইল মায়ের্সকে ক্যাচ দিয়ে ৫৪ রানেই থামেন মুশফিক। লম্বা সময় ক্রিজে টিকেও ১৫ রানেই থামে মিঠুনের ইনিংস।

মুশফিক-মিঠুন ফেরার পর লাঞ্চের আগে লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যাটেই আশার আলো বাংলাদেশের। ফলো অন থেকে ২৯ রান দূরে থেকে লাঞ্চে যাওয়া বাংলাদেশ লাঞ্চের পর ফলো অন এড়িয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের লিড কমানোর কাজটা ভালোভাবেই করে দুজনের ব্যাটে। ফিফটির দেখা পান দুজনেই, গড়েছেন ১২৬ রানের জুটি। চা বিরতির আগের সেশনে বাংলাদেশ হারায়নি কোন উইকেট।

চা বিরতির পর ৮.৫ ওভারেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। ৭১ রান করে লিটন ফিরেছেন কর্নওয়ালের চতুর্থ শিকার হয়ে। কিছুটা স্কুপ ঘরানার শট খেলতে গিয়ে জার্মেইন ব্ল্যাকউডের দারুণ ক্যাচে পরিণোত হন লিটন। স্লিপ থেকে লেগ স্লিপে দৌড়ে লুফে নেন ক্যাচ। তাতেই ১৩৩ বলে ৭ চারে সমাপ্তি ঘটে লিটনের ইনিংসের।

লিটনের বিদায়ের পর দ্রুতই ফেরেন নাইম (০), মিরাজ (৫৭) ও রাহি (১)। কর্নওয়ালের ৫ উইকেটের সাথে আলঝারি জোসেফ ও শ্যানন গ্যাব্রিয়েল মিলে ছেঁটে ফেলেন টাইগারদের লেজ। ১৫ রানের ব্যবধানে বাংলাদেশ হারায় শেষ চার উইকেট। ১৪০ বলে ৬ চারে ৫৭ রানের ইনিংসটি খেলেন মিরাজ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (৩য় দিন শেষে):

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংসে ৪০৯/১০ (১৪২.২), ব্র্যাথওয়েট ৪৭, ক্যাম্পবেল ৩৬, মোসলে ৭, বোনার ৯০, মায়ের্স ৫, ব্ল্যাকউড ২৮, জশুয়া ৯২, জোসেফ ৮২, কর্নওয়াল ৪*, ওয়ারিক্যান ২, গ্যাব্রিয়েল ৮; রাহি ২৮-৬-৯৮-৪, মিরাজ ৩৩-৯-৭৫-১, তাইজুল ৪৬.২-৮-১০৮-৪, সৌম্য ১১-১-৪৮-১।

বাংলাদেশ ১ম ইনিংসে ২৯৬/১০ (৯৬.৫), তামিম ৪৪, সৌম্য ০, শান্ত ৪, মুমিনুল ২১, মুশফিক ৫৪, মিঠুন ১৫, লিটন ৭১, মিরাজ ৫৭; গ্যাব্রিয়েল ২১-৩-৭০-৩, কর্নওয়াল ৩২-৮-৭৪-৫, জোসেফ ১৭.৫-৩-৬০-২

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২য় ইনিংসে ৪১/৩ (২১), ব্র্যাথওয়েট ৬, ক্যাম্পবেল ১৮, মোসলে ৭, বোনার ৮*, ওয়ারিক্যান ২*; তাইজুল ৭-২-১৩-১, নাইম ১০-৩-১৪-১, মিরাজ ৪-০-১৪-১

৩য় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৫৪ রানে এগিয়ে।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

সাকিব-তাইজুলদের পেছনে ফেলে মিরাজের রেকর্ড

Read Next

উচ্ছ্বসিত মিরাজ কোন লক্ষ্য স্থির করেন না

Total
9
Share