ভাগ্যে বিশ্বাসী নাফিস তৃপ্তি নিয়েই বিদায় বললেন

ভাগ্যে বিশ্বাসী নাফিস তৃপ্তি নিয়েই বিদায় বললেন

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবির) ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের ডেপুটি ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া শাহরিয়ার নাফিস আনুষ্ঠানিকভাবে সব ধরণের ক্রিকেট থেকে বিদায় নিলেন। বিদায়ী অনুষ্ঠানে সাবেক এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান জানালেন দীর্ঘ সময়ের ক্রিকেট ক্যারিয়ারকে ইতি টানা স্কুল ছাড়ার মত অনুভূতি দিচ্ছে। ক্যারিয়ার নিয়ে কোন অতৃপ্তি নেই উল্লেখ করে নাফিস বললেন, এভাবে বিদায় নিতে পারা তার জন্য সৌভাগ্যের।

বিসিবির কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক কোন প্রস্তাব না পাওয়ায় কয়েক মাস আগেও বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান জানিয়েছেন এখনই ক্রিকেট ছাড়তে চান না। তবে চলতি মাসেই বোর্ডের কাছ থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর খেলা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। যার আনুষ্ঠানিক ইতি ঘটলো আজ (১৩ ফেব্রুয়ারি), ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশে (কোয়াবের) মাধ্যমে বিদায়ী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিসিবি।

নাফিসের সাথে একই দিনে অবসরে গেলেন দেশের অন্যতম তারকা বাঁহাতি স্পিনার আব্দুর রাজ্জাকও। রাজ্জাক নিয়োগ পেয়েছেন জাতীয় দলের তৃতীয় নির্বাচক হিসেবে।

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের মিডিয়া সেন্টার সংলগ্ন এক নম্বর প্লাজায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন শাহরিয়ার নাফিস।

খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ারকে বিদায় জানানো নাফিস বলেন, ‘গতকাল থেকেই চিন্তাভাবনা করছিলাম যে আমি খেলব না এটা। তাতে খুব কষ্ট লাগছে না, তবে অনুভূতিটা অদ্ভুত জানি। আমি একটা স্কুলে পড়লাম, স্কুল ছেড়ে দিচ্ছি- ওরকম অনুভূতি। খুবই অদ্ভুত। আমি সবসময় সব সিদ্ধান্ত ভেবেচিন্তে নিয়েছি, পরিস্কার করে। আমি চিন্তা করেছি যখন একজন খেলোয়াড় হিসেবে আর অবদান রাখতে পারব না।’

‘তবে সবসময় বলেছি আমি ক্রিকেটের সাথেই থাকব। আমার কাছে মনে হয়েছে এটাই সঠিক সময়। কারণ খেলে যতটুকু অবদান রাখতে পারব তারচেয়ে বেশি এখন পারব। এজন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়নি।’

ভাগ্যে বিশ্বাসী নাফিস জানালেন ক্যারিয়ার নিয়ে কোন অতৃপ্তি নেই, ‘অহংকার করে বলছি না, আমি ধর্মপ্রাণ একজন মুসলমান। আমি ভাগ্যে বিশ্বাস করি। আমি বিশ্বাস করি আমার সেরা যেটা ছিল আল্লাহ তাই দিয়েছেন। তাই আমার কোনো অতৃপ্তি নেই।’

দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে রাজ্জাক-নাফিসই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়ে বিদায় বললেন এবং বোর্ডের কাছ থেকে সংবর্ধনা পেলেন।

৩৫ বছর বয়সী বাঁহাতি ব্যাটসম্যান শাহরিয়ার নাফিস বলেন এমন কিছুতে নিজেকে সৌভাগ্যবান ভাবছেন, ‘আমাদের চেয়েও বড় অনেক ক্রিকেটারের এই সৌভাগ্য হয়নি। বিসিবি ও কোয়াবকে ধন্যবাদ এরকম একটা আয়োজনের জন্য। যদি করোনা না থাকত আমরা খেলে বিদায় নিতে পারতাম। তারপরও আমাদের জন্য যতটুক করেছে আমরা কৃতজ্ঞ।’

উল্লেখ্য, সাবেক এই ক্রিকেটার বাংলাদেশ দলের জার্সিতে খেলেছেন ২৪ টেস্ট, ৭৫ ওয়ানডে ও একটি টি-টোয়েন্টি। একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি আবার বাংলাদেশের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ ছিল যেটায় অধিনায়ক ছিলেন নাফিস। রান করেছেন যথাক্রমে ১২৬৭, ২২০১ ও ২৫।

ওয়ানডে ক্রিকেটে এক বছরে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি ও একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে ১ হাজার রান করা ব্যাটসম্যান নাফিস। স্বপ্নের মতো কাটানো ২০০৬ সালে ৩ সেঞ্চুরিতে ১০৩৩ রান করেছিলেন তিনি। ২০০৬ সালে ফতুল্লা টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলা তার ১৩৮ রানের ইনিংসটি এখনো দেশের টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ইনিংসগুলোর একটি ধরা হয়।

নাফিসের আছে সমৃদ্ধ ঘরোয়া ক্রিকেট পরিসংখ্যান। ১২৪ টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ৩৮.৪০ গড়ে রান করেছেন ৮১৪১। ৪৮ টি ফিফটির সাথে আছে ১৫ টি সেঞ্চুরি। ১৮০ লিস্ট ‘এ’ ম্যাচে ৩২.৩২ গড়ে রান ৫২৬৯। ৩০ ফিফটির সাথে ৯ সেঞ্চুরি।

২০০৫ সালে আন্তর্জাতিক অভিষেক হওয়া নাফিস সর্বশেষ খেলেছেন ২০১৩ সালে। হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচটিই তার সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়ে আছে। তবে ২০২০ সাল পর্যন্ত ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেছেন নিয়মিত।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

এখনো ঘোরের মধ্যে আছেন রাজ্জাক

Read Next

যাত্রা শুরু করল ‘পিচ ফাউন্ডেশন’

Total
5
Share