এখনো ঘোরের মধ্যে আছেন রাজ্জাক

এখনো ঘোরের মধ্যে আছেন রাজ্জাক

বাংলাদেশের বাঁহাতি স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক আজ থেকে সাবেক বনে গেলেন। সমৃদ্ধ ক্রিকেট ক্যারিয়ারের অধিকারী এই স্পিনার (সাবেক) দায়িত্ব পালন করবেন জাতীয় দলের নির্বাচক হিসেবে। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু ও হাবিবুল বাশারের সাথে তৃতীয় নির্বাচকের ভূমিকায় দেখা যাবে তাকে। আজ (১৩ ফেব্রুয়ারি) ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াবের) মাধ্যমে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবির) আয়োজনে আনুষ্ঠানিকভাবে খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি টানেন রাজ্জাক।

রাজ্জাকের সাথে সব ধরণের ক্রিকেটকে বিদায় বলেন জাতীয় দলের বাঁহাতি ব্যাটসম্যান শাহরিয়ার নাফিসও। নাফিস দায়িত্ব পেয়েছেন বোর্ডের ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের ডেপুটি ম্যানেজার হিসেবে।

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের মিডিয়া সেন্টার সংলগ্ন এক নম্বর প্লাজায় রাজ্জাক-নাফিস দুজনের জন্য বিদায়ী অনুষ্ঠান আয়োজন করে বিসিবি। যেখানে তাদের সংবর্ধিত করে দেশের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by cricket97 (@cricket97bd)

খেলোয়াড়ি জীবনকে ইতি টানা রাজ্জাক অনুষ্ঠান শেষে কথা বলেন উপস্থিত গণমাধ্যমের সাথে। যেখানে ক্রিকেট খেলাকে বিদায় বলা কঠিন ছিল উল্লেখ করে রাজ্জাক জানান এখনো আছেন ঘোরের মধ্যে।

৩৮ বছর বয়সী রাজ্জাক বলেন, ‘গতকাল পর্যন্ত আমি বলতে পেরেছি আমি ক্রিকেট খেলোয়াড়, এখন থেকে বলতে হবে অন্যকিছু, যা আমার পেশা। হয়ত জিনিসটা সহজে বলতে পারছি, তবে আমার জন্য এত সহজ না। ঘোরের মধ্যে আছি এখনো। ১৯৯৪ সাল থেকে ক্রিকেটের মধ্যে, তখন বিকেএসপিতে ভর্তি হয়েছি।’

‘সেই জিনিসটাকে বিদায় বলা… খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। একটা সময় আসলে প্রত্যেক মানুষকেই এক কাজ থেকে অন্য ভূমিকায় যেতে হয়। তারপরও আবেগ বলে যেহেতু একটা কথা আছে আমার মাঝে সেটা খুব কঠিনভাবে কাজ করছে। খুব ভালোভাবে কিছু বলা, গুছিয়ে বলা আমার জন্য একটু কঠিন।’

সবমিলিয়ে প্রায় দুই যুগের খেলোয়াড়ি জীবন, যে পথে ছিল নানা চড়াই উতরাই। তবে নিজের লম্বা ক্রিকেট ক্যারিয়ারের পেছনে পরিবারের অবদান স্বীকার করেছেন বিশেষভাবে।

সাবেক এই বাঁহাতি স্পিনার বলেন, ‘পরিবারকে সবচেয়ে বেশি ধন্যবাদ জানাই। এত কম বয়সে বিকেএসপিতে ভর্তি হতে চেয়েছি, তারা রাজি হয়েছে। সাধারণত তার আগে খেলতে গেলে আমরা বকা খেতাম। যত খেলাই খেলেছি সবকিছুতে সাপোর্ট করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় জাতীয় দলে সুযোগ পেলাম। জাতীয় দলে সুযোগ পেলে তো পরিবারের আর কোনো আপত্তি থাকে না। প্রত্যেক সিদ্ধান্ত পরিবারের সাথে কথা বলে নিতাম। আবার নিজের সিদ্ধান্ত গ্রহণেও কখনো আমাকে বাধা দেননি।’

উল্লেখ্য, আব্দুর রাজ্জাক বাংলাদেশের ক্রিকেটে বাঁহাতি স্পিনের কিংবদন্তী নিশ্চিতভাবেই। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার আশেপাশেও নেই কোন বাংলাদেশি। বাংলাদেশের জার্সিতে খেলেছেন ১৩ টেস্ট, ১৫৩ ওয়ানডে ও ৩৪ টি-টোয়েন্টি। যেখানে উইকেট যথাক্রমে ২৮, ২০৭ ও ৪৪ টি।

দেশের হয়ে গড়েছেন বেশ কিছু রেকর্ডও। বাঁহাতি স্পিনে ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি পাঁচ উইকেট, বাংলাদেশের প্রথম ও দ্রুততম বোলার হিসেবে ওয়ানডেতে ২০০ উইকেট, বিশ্বের দ্বিতীয় স্পিনার ও বাংলাদেশের প্রথম স্পিনার হিসেবে ওয়ানডেতে হ্যাটট্রিক যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে রাজ্জাকের আছে ঈর্ষণীয় পরিসংখ্যান। ২০০১-০২ মৌসুমে অভিষেক হওয়া রাজ্জাকের ঝুলিতে ১৩৭ ম্যাচে ৬৩৪ উইকেট। যে পথে এই বাঁহাতি স্পিনার গড়েছেন বাংলাদেশের হয়ে প্রথম ৫০০ ও ৬০০ প্রথম শ্রেণি উইকেট শিকারি বোলারের রেকর্ড। রাজ্জাকই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি পাঁচ (ইনিংসে) ও ম্যাচে ১০ উইকেট শিকারি বোলার।

লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এই বাঁহাতির আছে ২৮০ ম্যাচে ৪১২ উইকেট। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটেও বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি পাঁচ উইকেট শিকারি বোলার রাজ্জাক।

জাতীয় দলের হয়ে সর্বশেষ খেলেছেন ২০১৮ সালে, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে। তবে ঘরোয়া লিগে নিয়মিত ছিলেন করোনার কারণে স্থগিত হওয়া ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগেও (ডিপিএলে)। মাঠে গড়ানো একমাত্র ম্যাচে খেলেছেন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

লিটন-মিরাজ জুটিতে বাংলাদেশময় এক সেশন

Read Next

ভাগ্যে বিশ্বাসী নাফিস তৃপ্তি নিয়েই বিদায় বললেন

Total
4
Share