মিরপুরে টাইগারদের ভুলে যাবার মত এক দিন

মিরপুরে টাইগারদের ভুলে যাবার মত এক দিন

ভয়ের পরেই নাকি জয় আসে। বাংলাদেশের স্পিন নির্ভর কন্ডিশনে স্পিন ভীতিকে পাশ কাটিয়ে চট্টগ্রাম টেস্ট জয়ের পর ঢাকা টেস্টেও সাবলীল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মিরপুরের রহস্যময়ী উইকেটে চেনা কন্ডিশনে বাংলাদেশ নয়, ওয়েস্ট ইন্ডিজই রাজত্ব করছে। ব্যাটে-বলে টাইগারদের টুটি চেপে ধরেছে সফরকারীরা। ৮০ উর্ধ্ব তিন ইনিংসে তাদের স্কোরবোর্ডে ৪০৯। দ্বিতীয় দিন শেষে গ্যাব্রিয়েল-জোসেফের তোপে ৪ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১০৫।

উপমহাদেশের কন্ডিশনে স্পিন নির্ভরতা কমিয়েছে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা। তবে এখনো পুরোনো তত্বেই বিশ্বাসী বাংলাদেশ। স্পিনে বিশ্বাস করে চট্টগ্রাম টেস্ট হারের পর ঢাকা টেস্টেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একাদশে স্পিনারদের আধিক্যতা। টস হেরে ফিল্ডিং করা বাংলাদেশকে কঠিন চ্যালেঞ্জই ছুঁড়ে দেয় ক্যারিবিয়ানরা।

৫ উইকেটে ২২৩ রান নিয়ে দিন শুরু করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটসম্যানদের আজও খুব একটা ভোগাতে পারেনি টাইগার স্পিনাররা। তবে চা বিরতির আগে ২৫ রানের ব্যবধানে ৪ উইকেট হারিয়ে পাহাড়সম রানের আভাস দিয়েও ৪০৯ রানেই থামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৯০ ও ৯২ রানে আঁটকা পড়েন যথাক্রমে এনক্রুমাহ বোনার ও জশুয়া ডা সিলভা, ৮২ রানে আলঝারি জোসেফ।

নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ যেন বিরুদ্ধ কন্ডিশনে খাবি খাওয়ার উপক্রম। ঘরের মাঠের উইকেটেও শ্যানন গ্যাব্রিয়েল, আলঝারি জোসেফের পেসের সাথে রাখিম কর্নওয়ালের স্পিন ঘূর্ণিতে কুপোকাত টপ অর্ডার।

দিনের শেষ সেশন পুরোটাই ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাওয়া বাংলাদেশ ১ রানে ১ম ও ১১ রানে হারায় ২য় উইকেট। সাকিব আল হাসানের বদলি হিসেবে স্কোয়াডে অন্তর্ভূক্ত হওয়া সৌম্য সরকার তামিমের সাথে ওপেন করতে নেমে ব্যর্থ হয়েছেন। কন্ডিশন ও নিজের শক্তির জায়গা বিবেচনায় ফিল্ড সেটাপ করে সৌম্যকে ফেরান গ্যাব্রিয়েল। গতির সাথে কৌশল, বিরুদ্ধ কন্ডিশনেও সফল হওয়ার উপায় জানেন গ্যাব্রিয়েল।

ইনিংস ও নিজের প্রথম ওভারের শেষ বলেই শর্ট মিড উইকেটে দাঁড়ানো কাইল মায়ের্সের হাতে ক্যাচে পরিণত করেন সৌম্যকে। অফ স্টাম্পের আশেপাশে ফুল লেংথে ফেলে ফ্লিক খেলাতে বাধ্য করেন বাঁহাতি এই ওপেনারকে। প্রায় দেড় বছর পর সাদা পোশাকে খেলতে নেমে খালি হাতে ফিরেছেন সৌম্য।

নিজের দ্বিতীয় ওভারেই গ্যাব্রিয়েল তুলে নেন তিন নম্বরে নামা নাজমুল হোসেন শান্তকে। ফুলার লেংথের অফ স্টাম্পের বল গালি অঞ্চলে ড্রাইভ খেলার চেষ্টা করেন। কিন্তু গালিতে দাঁড়ানো বোনারের হাতে সেটি ক্যাচ হিসেবেই যায়। শান্তকে ফিরতে হয় ৪ রান করে।

১১ রানে দুই উইকেট হারানো বাংলাদেশ অধিনায়ক মুমিনুল হক ও তামিম ইকবালের ব্যাটে বিপর্যয় কাটানোর চেষ্টা করেন। তামিম খেলেছেন অনেকটা ওয়ানডে মেজাজে। প্রায় প্রতি ওভারের হাঁকান দুই-একটি বাউন্ডারি। তবে ক্রিজে সেট হয়েও ইনিংস লম্বা করতে ব্যর্থ এই বাঁহাতি। ৫২ বলে ৬ চার এক ছক্কায় ৪৪ রান করে আলঝারি জোসেফের বলে সৌম্যের মত শর্ট মিড উইকেটে ক্যাচ দেন।

তার আগে ফেরেন মুমিনুল। সেক্ষেত্রে শিকারির ভূমিকায় কর্নওয়াল, অফ স্টাম্পের বাইরে ফেলে বাড়তি বাউন্স আদায় করে বোকা বানান টাইগার কাপ্তানকে। উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেওয়ার আগে ৩৯ বলে ২১ রান করেছেন মুমিনুল।

দিনের বাকি সময়ে অবশ্য আর কোন বিপদ ঘটতে দেননি মুশফিকুর রহিম ও মোহাম্মদ মিঠুন। বরং বাংলাদেশের আশার আলো হয়ে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। দুজনে অবিচ্ছেদ্য আছেন ৩৪ রানের জুটিতে। মুশফিক ২৭ ও মিঠুন ৬ রানে অপরাজিত আছেন।

এদিকে দিনের প্রথম সেশনের মত দ্বিতীয় সেশনও নিজেদের করার পথেই ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম সেশনে টাইগারদের একমাত্র সাফল্য এনক্রুমাহ বোনারের উইকেট। ৭৪ রান নিয়ে দিন শুরু করা বোনার ফিরেছেন ৯০ রান করে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে মোহাম্মদ মিঠুনকে ক্যাচ দিয়ে।

চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৬ রান করা বোনার এদিনও সেঞ্চুরি মিস করেন। পরে একই পথে হাঁটেন জশুয়া ডা সিলভা ও আলঝারি জোসেফও। সিলভা-জোসেফ ৭ম উইকেটে ১১৮ রানের জুটি গড়ে দলীয় সংগ্রহ অনেক বড় করার আভাসই দেন। কিন্তু ২৫ রানের ব্যবধানে শেষ চার উইকেট হারানো ক্যারিবিয়ানরা থেমেছে ৪০৯ রানে।

প্রথম দিনের মত দ্বিতীয় দিনেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটসম্যানদের ভোগাতে পারেনি টাইগার স্পিনাররা। আগেরদিন দারুণ বোলিং করা আবু জায়েদ রাহিও ছিলেন বিবর্ণ। তবে চা বিরতির আগে দ্রুতই ছেঁটে ফেলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের লেজের ব্যাটসম্যানদের। যেখানে শুরুটা সেঞ্চুরির দিকে হাঁটা সিলভাকে দিয়ে। ১৮৭ বলে ১০ চারে ৯২ রান করে তাইজুল ইসলামের বলে বোল্ড হন এই উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান।

তাকে দারুণ সঙ্গ দেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত গতিতে রান তুলতে থাকা জোসেফকে থামিয়েছেন আবু জায়েদ রাহি। ১০৮ বলে ৮ চার ৫ ছক্কায় তার ব্যাট থেকে আসে ৮২ রান। পরে শেষ দুই উইকেটও ভাগাভাগি করেন তাইজুল-রাহি। ইনিংসে দুজনেরই শিকার সমান চারটি করে উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (২য় দিন শেষে):

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪০৯/১০ (১৪২.২), ব্র্যাথওয়েট ৪৭, ক্যাম্পবেল ৩৬, মোসলে ৭, বোনার ৯০, মায়ের্স ৫, ব্ল্যাকউড ২৮, জশুয়া ৯২, জোসেফ ৮২, কর্নওয়াল ৪*, ওয়ারিক্যান ২, গ্যাব্রিয়েল ৮; রাহি ২৮-৬-৯৮-৪, মিরাজ ৩৩-৯-৭৫-১, তাইজুল ৪৬.২-৮-১০৮-৪, সৌম্য ১১-১-৪৮-১।

বাংলাদেশ ১০৫/৪ (৩৬), তামিম ৪৪, সৌম্য ০, শান্ত ৪, মুমিনুল ২১, মুশফিক ২৭*, মিঠুন ৬*; গ্যাব্রিয়েল ৮-২-৩১-২, কর্নওয়াল ১১-৪-১৮-১, জোসেফ ৮-১-৩৪-১

২য় দিন শেষে বাংলাদেশ ১ম ইনিংসে ৩০৪ রানে পিছিয়ে।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

ক্রিকেটকে বিদায় বলছেন রাজ্জাক-নাফিস

Read Next

মুমিনুলের চেয়ে উপযুক্ত কাউকে দেখেন না তামিম

Total
3
Share