বাংলাদেশের যেসব সিরিজ নিশ্চিতভাবে বাতিল হচ্ছে

চট্টগ্রামে দ্বিতীয় দিন শেষে এগিয়ে বাংলাদেশ

করোনা প্রভাবে বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি সিরিজ স্থগিত হয়। তবে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ও ওয়ার্ল্ড কাপ সুপার লিগের অংশ বলে বেশিরভাগ সিরিজই পুনরায় আয়োজন অসম্ভব। মূলত এই দুই প্রতিযোগিতার জন্য আইসিসি একটা নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেয় ম্যাচগুলো শেষ করতে। সময়সীমার মধ্যে শেষ করা না গেলে সিরিজটি বাতিলের খাতায় চলে যাবে। যে কারণে করোনাকালে স্থগিত হওয়া পাকিস্তানের বিপক্ষে একটি ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের দুইটি টেস্ট বাতিল হচ্ছে নিশ্চিত।

অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টগুলো বাতিল হলেও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে স্থগিত হওয়া সিরিজটি দেখতে যাচ্ছে আলোর মুখ। গত এপ্রিলে একটি টেস্ট খেলতে পাকিস্তান যাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু মার্চে শুরু হওয়া করোনা প্রভাবে স্থগিত হয় দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয়টি। প্রথমটি অবশ্য ফেব্রুয়ারিতে মাঠে গড়িয়েছিল।

এরপর একই বছর জুনে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসার কথা ছিল অস্ট্রেলিয়ার। অস্ট্রেলিয়া খেলে যাওয়ার পরই বাংলাদেশ উড়াল দিত শ্রীলঙ্কায়, যেখানে খেলার কথা ছিল তিনটি টেস্ট। পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সবকটি টেস্টই ছিল আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ।

আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে চলতি বছর জুনে। আইসিসির গাইডলাইন অনুসারে মার্চের মধ্যেই সিরিজগুলো শেষ করতে হত, তবে করোনা প্রভাবে কিছুটা সময় বাড়িয়ে এপ্রিল করা হয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক ব্যস্ত সূচির কারণে এই সময়ে বাংলাদেশ কেবল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজটি নিয়েই এগোতে পারছে। স্থগিত হওয়া অন্য সিরিজগুলোর জন্য দলগুলোর সাথে বাংলাদেশেরও সময় সংকট।

ফলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজটি ছাড়া অন্য সিরিজগুলো বাতিলই হচ্ছে নিশ্চিত। কারণ টেস্ট চ্যাম্পিনশিপের সময়কালে কোন সিরিজ খেলা সম্ভব না হলে সেটি পরে আর সামঞ্জস্য করা সম্ভব নয়।

১০ ফেব্রুয়ারি মিরপুরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজন বলেন, ‘এখন এফটিপির খেলাগুলো বেশিরভাগই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ও ওয়ার্ল্ড কাপ সুপার লিগের মধ্যেই হচ্ছে। সুতরাং টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বিষয়টা হল এর ফাইনাল আগামী জুনে নির্ধারণ করা আছে। এর আগে কিন্তু এফটিপি অনুসারে প্রত্যেক দেশের খেলাগুলো শেষ করার গাইডলাইন আছে। মার্চে ছিল গাইডলাইন যেটাকে বাড়িয়ে এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়েছে, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের খেলাগুলো আয়োজনের ক্ষেত্রে।’

‘এই সময়ের মধ্যে স্থগিত খেলাগুলো সম্পন্ন করতে সব দেশের ক্ষেত্রেই কিন্তু দুই দলকেই এভেইলএবল থাকতে হচ্ছে। আমাদের ক্ষেত্রে এই সময়ে কেবল শ্রীলঙ্কা এভেইলএবল আছে। এটা নিয়েই আমরা কাজ করছি। এই সময়ের মধ্যে অন্য স্থগিত টেস্টগুলো আয়োজনের সুযোগ নেই। এরকমই কথা হচ্ছে। এপ্রিলে একটা সময় আছে যেখানে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা দুই দলই এভেইলএবল আছে।সুতরাং এই সময়েই আমাদের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের যে দুইটা বা তিনটা টেস্ট ম্যাচ ছিল সেটাকে ফিট করার চেষ্টা করছি।’

‘টেস্ট এবং ওয়ানডেগুলো এখন টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ও ওয়ার্ল্ডকাপ সুপার লিগের। আর এটার নির্দিষ্ট সময়সীমাও থাকে। ফলে আগের মত স্থগিত হলে তিন বছর পরে ফাঁকা সময়েও ফিট করে দেওয়ার সুযোগ থাকছে না। এই কারণেই সুযোগ নেই যেহেতু এটার ফাইনাল হয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ ফাইনাল হয়ে গেলে ঐ কম্পিটিশনের কোন খেলা খেলার সুযোগ নেই।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

ডিআরএস ইস্যুতে মুমিনুলের ভাষ্য

Read Next

একাদশে স্পিনার বাড়ানোর ভাবনা আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের

Total
7
Share