‘৩৮’ এ এসেও মুগ্ধতা ছড়িয়ে যাচ্ছেন জিমি

'৩৮' এ এসেও মুগ্ধতা ছড়িয়ে যাচ্ছেন জিমি

বর্তমান আধুনিক ক্রিকেটে একজন অভিজ্ঞ শিল্পী রয়েছেন, যিনি তার বোলিং শিল্প দিয়ে টেস্ট ক্রিকেটকে মোহিত করে যাচ্ছেন। যিনি ওয়াসিম আকরাম-শচীন টেন্ডুলকার-ব্রায়ান লারা-শেন ওয়ার্ন পরবর্তী যুগের দুর্লভ খেলোয়াড়ও বটে। টেস্ট ক্রিকেটে এখনও পর্যন্ত ৬১১ উইকেট পাওয়া ইংল্যান্ডের পেসার জেমস অ্যান্ডারসনের কথাই বলছি।

বয়সটা ৩৮। তবে তার বোলিংয়ের তুলনায় বয়সটা স্রেফ সংখ্যা মাত্র। নিজের গতিময় সুইং বোলিং দিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে এখনও অনন্য মাত্রা ছড়িয়ে দিচ্ছেন। মঙ্গলবার সকালে চেন্নাইয়ের চিপকে একটি ওভারে সুইং দিয়ে ভারতীয় তরুণ শুবমান গিল ও অভিজ্ঞ আজিঙ্কা রাহানেকে বোল্ড করেন অ্যান্ডারসন। এছাড়া পুরো সময়টা সুইং দিয়ে কাবু করে রেখেছিলেন ভারতকে। ঠিক এমনটাই ১৯৯৯ সালে একই মাঠে ভারতকে কাবু করে রেখেছিলেন পাকিস্তানি কিংবদন্তি ওয়াসিম আকরাম।

আকরাম রিভার্স সুইং করে যেভাবে রাহুল দ্রাবিড়ের লেগ স্টাম্প ছত্রখান করেছিলেন, অ্যান্ডারসনও তেমনি রিভার্স সুইং দিয়ে গিল ও রাহানের অফ স্টাম্প উড়িয়ে দিয়েছেন। ব্রিটিশ মিডিয়া এক অর্থে বলছে রিভার্স সুইং দিয়ে অ্যান্ডারসন ঐ ওভারে যা করলেন, তা একজন ইংলিশ বোলার হিসেবে শ্রেষ্ঠ ওভার হয়ে থাকবে।

৩৮ বছর বয়সী এ তারকা ক্রিকেটার নিজেকে অবশ্য ভাগ্যবানই ভাবছেন। ‘আপনারা জানেন, আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি। আমি সুইং পাচ্ছিলাম এবং জায়গামত স্টাম্পে আঘাত করতে পেরেছি। সত্য বলতে আমি আসলে লেগ বিফোর অথবা মিড উইকেটে যেন ক্যাচ উঠে, এমনভাবে বল করছিলাম। কিন্তু এই বয়সেও স্টাম্প ভেঙে ফেলছি,এটা দেখেও ভালো লাগছে,’ অ্যান্ডারসন জানান।

বয়স ৩০ পার হবার পর সর্বোচ্চ উইকেট (ফাস্ট বোলার হিসাবে)-

জিমি অ্যান্ডারসন (ইংল্যান্ড)- ৮৭ টেস্টে ৩৪৩
কোর্টনি ওয়ালশ (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)- ৮১ টেস্টে ৩৪১
গ্লেন ম্যাকগ্রা (অস্ট্রেলিয়া)- ৬৫ ম্যাচে ২৮৭
রিচার্ড হ্যাডলি (নিউজিল্যান্ড)- ৫১ ম্যাচে ২৭৬
অ্যালান ডোনাল্ড (দক্ষিণ আফ্রিকা)- ৪৭ ম্যাচে ২১৬

এর আগে ২০০৬ সালে মুম্বাইতে ভারতকে হারিয়েছিল ইংল্যান্ড। সে টেস্টেও বড় অবদান অ্যান্ডারসনের। এছাড়াও ২০১২ সালেও ভারতে জয়লাভ করেছিল ইংল্যান্ড। মাহেন্দ্র সিং ধোনির মতে সেখানেও বড় পার্থক্য গড়ে দিয়েছিলেন অ্যান্ডারসন।

‘২০০৬ সালের তুলনায় এখন আমি ভিন্ন মাত্রার বোলার। এখন আমি বিভিন্ন জায়গায় পারফর্ম করতে পারি। আগে আমি শুধু সুইং ও রিভার্স সুইংয়ের উপর নির্ভরশীল ছিলাম। এখন আমি কাটার করতে পারি এবং আগের থেকে অনেক ধারাবাহিক। আসলে আমি এখন ক্রিকেট থেকে প্রচুর সুবিধা পাই এবং আরও উঁচু জায়গায় নিজেকে দেখতে চাই,’ অ্যান্ডারসন বলেন।

পেসার হিসাবে টেস্টে চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ উইকেট-

গ্লেন ম্যাকগ্রা (অস্ট্রেলিয়া)- ৫৩ ইনিংসে ১০৩
জিমি অ্যান্ডারসন (ইংল্যান্ড)- ৫৭ ইনিংসে ৮১
মিচেল জনসন (অস্ট্রেলিয়া)- ৩৯ ইনিংসে ৮০
স্টুয়ার্ট ব্রড (ইংল্যান্ড)- ৫৩ ইনিংসে ৭৯
কোর্টনি ওয়ালশ (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)- ৩৯ ইনিংসে ৬৬

এখন পর্যন্ত ৬১১ টেস্ট উইকেট শিকার করা অ্যান্ডারসন কয়েক সপ্তাহ আগে গলেতে ৪০ রানে ৬ উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট জিতিয়েছিলেন। অ্যান্ডারসন মনে করেন ২০১২ সালে শীর্ষ বোলার হলেও বর্তমানে নিজেকে আরও ভালো বোলার মনে করেন।

‘২০১২ সালে আমি শীর্ষ বোলার ছিলাম। তবে আমি এখন আগের থেকে ভালো বোলার। আমি আসলেই মনে করি আমি আরও উন্নতি করতে পারছি। যখন আমি মনে করবো আমি আর ভালো কিছু করতে পারছি না,তখন অন্য কিছু নিয়ে ভাববো।’

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

‘পরবর্তী ম্যাচ হারলে অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিবেন কোহলি’

Read Next

সাকিব ছাড়া বাংলাদেশ চলবে না, বিষয়টা এমন নাঃ মুমিনুল

Total
2
Share