স্কোরবোর্ডের দিকে তাকানো থেকে বিরত ছিলেন মায়ের্স

স্কোরবোর্ডের দিকে তাকানো থেকে বিরত ছিলেন মায়ের্স
Vinkmag ad

চট্টগ্রাম টেস্টে অভিষিক্ত কাইল মায়ের্সের ব্যাটে চড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ পেল রেকর্ড গড়া জয়। যে পথে কাইল মায়ের্স ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে বেশ কিছু রেকর্ডে নিজের নাম লিখিয়ে রাখলেন। ৪১৫ মিনিট ক্রিজে কাটিয়ে ৩১০ বলে খেলা তার অপরাজিত ২১০ রানের ইনিংসটিই ক্যারিবিয়ায়নদের অসাধ্য সাধন করিয়েছে। ম্যাচ শেষে মায়ের্স জানালেন তার লক্ষ্য ছিল অন্তত ১৫০ করবেন।

বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান নিজের লক্ষ্য স্থির করে স্কোর বোর্ডে তাকানো থেকে বিরত ছিলেন। বাংলাদেশের বিরুদ্ধ কন্ডিশনে যেভাবে ইনিংসটি খেলেছেন তাতে মনেই হবেনা কাজটা কঠিন ছিল। তবে মায়ের্স স্বীকার করেছেন বেশ সংগ্রাম করতে হয়েছে রান করতে গিয়ে।

ম্যাচ শেষে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে উইকেটে কাটানো সময়টায় কি ভাবছিলেন এমন প্রশ্নের জবাবে মায়ের্স বলেন, ‘আমি আসলে লক্ষ্যের দিকে তাকাচ্ছিলাম না। আমি আমার পরিকল্পনা নিয়ে যতক্ষণ সম্ভব এগুনোর চেষ্টা করছিলাম, চেষ্টা করেছি স্কোরবোর্ডের দিকে না তাকাতে, যত বেশিক্ষণ পারা যায় ততক্ষণ ব্যাট করতে। আমার নিজের মধ্যে বিশ্বাস ছিল যে আমি সারা দিন ব্যাট করতে পারলে দল জয় পাবে।’

অভিষেক ম্যাচ এমনিতেই চাপের তার সাথে ২৮ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যানকে খেলতে হয়েছে দলের বিপর্যয়ে হাল ধরতে। শুধু হালই ধরেননি অবিশ্বাস্য এক ইনিংসে খর্ব শক্তির দল নিয়ে বাংলাদেশে আসা ওয়েস্ট ইন্ডিজকেও উপহার দিলেন দারুণ এক জয়। বারবাডোসের এই ব্যাটসম্যান বলছেন ম্যাচে ডাবল সেঞ্চুরি করার কথা ভাবেননি। প্রথমে সেঞ্চুরির ও পরে ১৫০ রানের চিন্তা করা মায়ের্সকে দলের প্রয়োজনে খেলতে হয়েছে আরও বড় ইনিংস।

বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান বলেন, ‘সত্যি বলতে, ব্যক্তিগতভাবে সেঞ্চুরির চিন্তা করেছিলাম। কিন্তু আমি জানতাম যে দলের জন্য আমার আরও বেশি করা প্রয়োজন ছিল। ব্যাটিং করার সময় ১৫০ করার চিন্তা করছিলাম। দিনের শুরুতে আমি ভেবেছিলাম যদি আমি ১৫০ বা ১৬০ করি তাহলে দল জয়ের জন্য ভালো অবস্থানে থাকবে। কিন্তু ১৬০ ছোঁয়ার পর আমি বুঝতে পারলাম যে আমাকে আরও দূর যেতে হবে এবং এটি আমাকে অনুপ্রাণিত করেছিল।’

ম্যাচের উইকেট ও বাংলাদেশি বোলারদের বিপক্ষে সংগ্রাম করার বিষয়টিও অবশ্য আড়াল করলেন না, ‘এই উইকেটে ব্যাট করা অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং ছিল। বোলাররা ভালো করেছে। এমন কিছু সময় ছিল যখন আমাদের পিচে খুটি গেড়ে টিকে থাকতে হয়েছে। এরপর রান করার সুযোগ এলে সেটি নিয়েছি।’

‘সত্যি বলতে এটি কঠিন ছিল। কিছু বল নীচু ছিল, কিছু বল বাউন্স করেছে। স্পিনাররা টার্ন করাচ্ছিল, আর্ম বল করছিল। উইকেট এক এক সময় এক এক রকম আচরণ করছিল। আমি আমার পরিকল্পনা মেনে চলেছি এবং সোজা ব্যাট নিয়ে খেলার চেষ্টা করেছি এবং ভালো কিছুর আশা করেছি।’

সদ্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা দেওয়া মায়ের্স হতে চান লম্বা দৌড়ের ঘোড়া, ‘( পরিকল্পনা) উন্নতি করতে থাকা, খেলাটির ভালো একজন ছাত্র হওয়া। এই ইনিংস থেকে ইতিবাচক বিষয়গুলো পরের টেস্টে নিয়ে যাওয়া।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

উইকেট নয়, বোলারদের দুষলেন মুমিনুল

Read Next

দারুণ এক জয়ে প্রশংসায় ভাসছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

Total
5
Share