মুমিনুলের সেঞ্চুরি, লিটনের ফিফটি, উইন্ডিজদের সামনে পাহাড়সম লক্ষ্য

মুমিনুলের সেঞ্চুরি, লিটনের ফিফটি, উইন্ডিজদের সামনে পাহাড়সম লক্ষ্য

প্রথম ইনিংসে ১৭১ রানের লিড পাওয়া বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে আরো ২২৩ রান যোগ করে। মুমিনুল হকের ১০ম টেস্ট সেঞ্চুরির সাথে লিটন দাসের ৬ষ্ঠ ফিফটিতে ৮ উইকেটে ২২৩ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। ফলে ক্যারিবিয়ানদের সামনে লক্ষ্য ৩৯৫, জিততে হবে বাংলাদেশের মাটিতে সর্বোচ্চ রান তাড়া করার রেকর্ড গড়ে। চা বিরতির আগে ৭ ওভার ব্যাট করে বিনা উইকেটে সফরকারীদের সংগ্রহ ১৮ রান।

দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ৪৭ রান নিয়ে চতুর্থ দিন শুর করে বাংলাদেশ। আগেরদিন ১৭ রানে অপরাজিত থাকা মুশফিকুর রহিম নামের পাশে যোগ করতে পারেননি এক রানের বেশি। রাখিম কর্নওয়ালের বলে সেশনের প্রথম ঘন্টাতেই এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন।

মুশফিক ফিরে গেলেও লিটন দাসকে নিয়ে ক্যারিবিয়ান বোলারদের দারুণভাবে সামলান ৩১ রা নিয়ে দিন শুরু করা মুমিনুল। লাঞ্চের আগেই পেয়েছেন ফিফটির দেখা, ৮৩ রান নিয়ে লাঞ্চে যাওয়া টাইগার অধিনায়ক সেঞ্চুরি তুলে নেন লাঞ্চের পর। এই সেঞ্চুরি দিয়ে তামিম ইকবালকে পেছনে ফেলে এককভাবে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ টেস্ট সেঞ্চুরির মালিক বনে যান। এতদিন ৯ সেঞ্চুরি নিয়ে দুজনেই যৌথভাবে ছিলেন শীর্ষে।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টেই সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে যৌথভাবে শীর্ষে ছিলেন তামিম ইকবালের সাথে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে গত বছর ফেব্রুয়ারিতে মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে খেলেছেন ১৩২ রানের ইনিংস।

এই সেঞ্চুরি সহ তার ১০ সেঞ্চুরির ৭ টিই চট্টগ্রামের এই মাঠে। এই নিয়ে ৮ বার জহুর আহমেদে চৌধুরী স্টেডিয়ামে ফিফটির দেখা পেয়ে ৭ টিকেই সেঞ্চুরিতে রূপ দিলেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান।

প্রথম ইনিংসে ২৬ করে আউট হওয়া মুমিনুলের ব্যাটে ছিল কিছুটা জড়তা, অস্বস্তিতে ভুগেছেন শ্যানন গ্যাব্রিয়েলের দেওয়া শর্ট বলে। রাখিম কর্নওয়াল, জোমেল ওয়ায়রিক্যানদের স্পিন খেলতে গিয়ে ভুগেছেন। আউটও হয়েছেন জোমেল ওয়ারিক্যানের বলে। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে ছিলেন সাবলীল।

৮৪ বলে ফিফটি ছুঁয়েছেন ৫ চারের সাহায্যে। লাঞ্চের আগে ছুটছিলেন সেঞ্চুরির দিকেই, লিটন দাসকে নিয়ে দলীয় সংগ্রহও বাড়িয়েছেন দ্রুততার সাথে। লাঞ্চে গিয়েছেন ১২৭ বলে ৯ চারে ৮৩ রানে। পুরো ইনিংসে ছিল বেশ ভালো নিয়ন্ত্রণ। বলের মুভমেন্ট বুঝে খেলেছেন শট, গ্যাব্রিয়েলের পাতা ফাঁদেও ধরা দেননি।

লাঞ্চের পর ৯০ এর ঘরে যেতে মুমিনুল খেলেন ২৩ বল। ৯৯ তে পৌঁছাতে খেলেছেন আরও ২১ বল। ৬০ তম ওভারের শেষ বলে জোমেল ওয়ারিক্যানকে ফাইন লেগে ঠেলে দিয়ে পৌঁছান ৯৯ তে। এরপর তিন অঙ্ক ছুঁতে সময় নেন মাত্র ২ বল। কর্নওয়ালের করা ৬১ তম ওভারের চতুর্থ বলকে শর্ট কাভারে পাঠিয়ে ছুঁয়েছেন তিন অঙ্ক। পুরো ইনিংসের মত উদযাপনেও ছিলেন নিয়ন্ত্রিত। ১৭৩ বলে সেঞ্চুরি করার পথে হাঁকিয়েছেন ৯ চার।

তার সেঞ্চুরির সাথে লিটন দাসের ফিফটিতে বাংলাদেশের লিড পেরিয়েছে ৩৫০। সেঞ্চুরির পর ফিরেছেন মুমিনুল, লিটন ফিরেছেন (৬৯) তারও আগে সেঞ্চুরির আক্ষেপ বাড়িয়ে।

১১৫ রানের ইনিংস খেলার পথে মুমিনুল প্রবেশ করেছেন তিন হাজারি ক্লাবে। তার আগে এই বাংলাদেশিদের মধ্যে এই কীর্তি আছে হাবিবুল বাশার সুমন (৩০২৬), সাকিব আল হাসান (৩৯৩০), তামিম ইকবাল (৪৪১৪) ও মুশফিকুর রহিম (৪৪৬৯)।

১৮২ বলে ১০ চারে ১১৫ রান করে মুমিনুল আউট হন গ্যাব্রিয়েলের বলে কেমার রোচককে ক্যাচ দিয়ে। ততক্ষণে তার নামের পাশে ৩০০১ টেস্ট রান। তামিমের সাথে মুমিনুলই বাংলাদেশিদের মধ্যে দ্রুততম ৩ হাজার রান করা ব্যাটসম্যান। দুজনেরই লেগেছে সমান ৭৬ ইনিংস।

মুমিনুলের বিদায়ের পর তাইজুল ইসলাম (৩) ও মেহেদী হাসান মিরাজ (৭) টিকেননি বেশিক্ষণ। জোমেল ওয়ারিক্যানের শিকার হয়ে দুজনে ফিরেছেন ১ রানের ব্যবধানে। ৮ উইকেটে ২২৩ রানেই ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। ততক্ষণে লিড ৩৯৪।

জিততে হলে ক্যারিবিয়ায়নদের ভাঙতে হবে ২০০৮ সালের অক্টোবরে এই মাঠেই বাংলাদেশের দেওয়া ৩১৭ তাড়া করে ৩ উইকেটে নিউজিল্যান্ডের জেতার রেকর্ডটি। যা বাংলাদেশের মাটিতে এখনো পর্যন্ত সর্বোচ্চ রান তাড়া করার রেকর্ড।

এমন লক্ষ্যে খেলতে নেমে চা বিরতির আগে ৭ ওভার ব্যাট করে ক্যারিবিয়ানদের সংগ্রহ ১৮ রান। ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট ১১ ও জন ক্যাম্পবেল ৭ রানে অপরাজিত আছেন।

চট্টগ্রাম থেকে, ক্রিকেট৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

তামিমকে টপকে শীর্ষে মুমিনুল হক

Read Next

জয়ের পথে এক পা দিয়ে রাখল বাংলাদেশ

Total
45
Share