খুবই হতাশ জার্মেইন ব্ল্যাকউড

বাংলাদেশের কন্ডিশনে ভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত ব্ল্যাকউড

তুলনামূলক খর্ব শক্তির দল নিয়ে বাংলাদেশ সফরে আসা ওয়েস্ট ইন্ডিজের টেস্ট স্কোয়াডে অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানদের একজন জার্মেইন ব্ল্যাকউড। সর্বশেষ দুই সিরিজে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডে ছিলেন দারুণ ফর্মে। তবে বাংলাদেশে এসে প্রস্তুতি ম্যাচে রান না পেলেও চট্টগ্রাম টেস্টে প্রথম ইনিংসেই তুলে নিলেন ফিফটি। ক্রিজে থিতু হয়েও অবশ্য আউট হওয়াতে প্রকাশ করেছেন হতাশা।

চট্টগ্রাম টেস্টের আগে জার্মেইন ব্ল্যাকউড ৩৩ টেস্টে ৩২.৫৩ গড়ে রান করেছেন ১৭৮৯। যেখানে ১৩ ফিফটির বিপরীতে সেঞ্চুরি মাত্র ২ টি। যার মধ্যে বেশ কয়েকটি ফিফটিকে অনায়েসেই সেঞ্চুরিতে রূপ দিতে পারতেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। ৯০ এর ঘরেই আউট হয়েছেন তিনবার, ৮০ পেরোনো ইনিংস ছিল একটি, ৬০-৭০ এর ঘরে আউট হয়েছেন ৪ বার, একবার ছিলেন অপরাজিত।

বাংলাদেশের বিপক্ষে সাগরিকায় প্রথম ইনিংসেও খেললেন ৬৮ রানের ইনিংস। ১৫৪ রানে পাঁচ উইকেট হারানো ক্যারিবিয়ায়নদের পথ দেখাচ্ছিল তার ব্যাট। জশুয়া ডা সিলভাকে নিয়ে ৬ষ্ঠ উইকেট জুটিতে যোগ করেন ৯৯ রান। নিজের ৬৮ রানের ইনিংসটি ব্ল্যাকউড সাজিয়েছেন ১৪৬ বলে ৯ চারে। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে লেগ স্টাম্পের বাইরের বল খোচা দিতে দিয়ে ক্যাচ দিয়েছেন উইকেটের পেছনে।

আগের ১৩ ফিফটির মত আজকের ফিফটিকেও সেঞ্চুরিতে রূপ দিতে না পারা ব্ল্যাকউড প্রকাশ করেছেন হতাশা। তৃতীয় দিন শেষে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘হাফসেঞ্চুরির পর আউট হওয়াটা খুবই হতাশাজনক। আমি ফিফটিগুলোকে সেঞ্চুরিতে রূপ দিতে চেয়েছি। আমি চেয়েছিলাম আজকের ইনিংসটিকে সেঞ্চুরিতে রূপ দিতে। আমি সঠিক দিকেই যাচ্ছিলাম। কিন্তু যেভাবে আউট হলাম তাতে সত্যি আমি খুব হতাশ হয়েছি।’

মূল ম্যাচে নেমেই রান পেলেন তবে প্রস্তুতি ম্যাচে ছিলেন ব্যর্থ, বিসিবি একাদশের বিপক্ষে তিনদিনের প্রস্তুতি ম্যাচে দুই ইনিংসে রান করেছেন যথাক্রমে ৯ ও ৪। দলের অন্যতম ব্যাটিং ভরসা ব্ল্যাকউড বলছেন অনুশীলন ম্যাচে তিনি বরাবরই খারাপ খেলেন। তবে আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাথে নামলেই মানসিকভাবে পুরোদমে প্রস্তুত থাকেন।

২৯ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান বলেন, ‘আসলে মানসিকতা বড় ব্যাপার। এই সিরিজের আগেরে সিরিজগুলোয় আমি রান পেয়েছিলাম সত্যি কিন্তু অনুশীলন ম্যাচে কিন্তা রান পাইনি। আমার মনে হয় প্রস্তুতি ম্যাচে আমি সবসময়ই খারাপ খেলি কিন্তু মূল ম্যাচে মানসিকতা ঠিক রাখতে পারি। আসলে যখন টেস্ট শুরু হয় বা আন্তর্জাতিক ম্যাচে নামি তখন নিজেকে শতভাগ প্রস্তুত রাখি।’

সর্বশেষ দুই সিরিজে খেলেছেন ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের মত পেস বান্ধব কন্ডিশনে। বাংলাদেশের স্লো উইকেটে খেলাটা তাই চ্যালেঞ্জে ফেলছে ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যানদের। ব্ল্যাকউড অবশ্য বাতলে দিয়েছেন ভালো করার উপায়ও।

ক্যারিবিয়ান এই ব্যাটসম্যান বলেন, ‘আমরা ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডে খেলেছি। দুই জায়গার কন্ডিশনই এক, বাউন্স থাকে সিম থাকে। কিন্তু এখানে প্রচুর স্পিন খেলতে হয়। তাই এই কন্ডিশনে নিচু বল এবং সামনের পায়ে খেলার জন্য প্রস্তুত থাকলে ভাল করা সম্ভব।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

সাকিব সর্বোচ্চ ভিত্তিমূল্যে আইপিএলের নিলামে

Read Next

‘নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের তারিফ না করলেই নয়’

Total
3
Share