মিরাজ-তাইজুলদের স্পিন ভেল্কিতে উইন্ডিজদের হঠাৎ ছন্দপতন

মিরাজ-তাইজুলদের স্পিন ভেল্কিতে উইন্ডিজদের হঠাৎ ছন্দপতন

৩ উইকেট হারিয়ে দিনের প্রথম সেশন শেষ করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ঘুরে দাঁড়িয়েছিল চা বিরতির আগের সেশনেই। জশুয়া ডা সিলভা ও জার্মেইন ব্ল্যাকউডের জমে যাওয়া জুটিতে পুরো দিনই কাটিয়ে দেওয়ার আভাস। কিন্তু চা বিরতির ঠিক আগে শুরু হওয়া উইকেট পতনে চা বিরতির পর তিন ওভারেই গুটিয়ে যায় ক্যারিবিয়ায়নরা। ৬ রানের ব্যবধানে শেষ ৫ উইকেট হারিয়ে ২৫৯ রানে অলআউট হয়।

১৭৭ রানের লিড পাওয়ার পথে ব্যাট হাতে সেঞ্চুরির পর বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ চার উইকেট মেহেদী হাসান মিরাজের। দুইটি করে শিকার তাইজুল ইসলাম, নাইম হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমানের। গতকাল ফিল্ডিং করতে গিয়ে নতুন চোটে পড়া সাকিব আল হাসান আজ মাঠেই নামতে পারেননি।

প্রথম সেশনেই টাইগার স্পিন ভেল্কিতে তিন উইকেট হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে টাইগার স্পিনারদের ভেল্কির পরও ওয়ানডে মেজাজে রান তুলেছেন ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট, কাইল মায়ের্স, জার্মেইন ব্ল্যাকউডরা।

আগেরদিন ২ উইকেটে ৭৫ রানে দিন শেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আজ প্রথম সেশনে ১১৪ রান যোগ করতে গিয়ে হারিয়েছে আরও তিন উইকেট। তবে উইকেটে স্পিন দেখে ক্যারিবিয়ানরা হয়তো রান তোলাতেই দিয়েছে বাড়তি মনযোগ। যে পথে তাইজুল, নাইম, মিরাজরা নিয়েছেন কঠিন পরীক্ষাও।

তাইজুলের লেংথ ডেলিভারির অফ স্টাম্পের আশেপাশের পড়া দিনের প্রথম বলটি ক্রুমাহ বোনারকে এজ করাতে যথেষ্ট ছিল। যা প্রথম স্লিপে দাঁড়ানো নাজমুল হোসেন শান্ত সহজেই তালুবন্দী করেন। আগের দিনের ১৭ রানেই থামে অভিষিক্ত এই ব্যাটসম্যানের ইনিংস, ভাঙে অধিনায়কের সাথে ৫১ রানের জুটি।

একই ওভারের চতুর্থ বলেই ফিরতে পারতেন নতুন ব্যাটসম্যান কাইল মায়ের্সও। তবে আউটসাইড এজ হয়ে বল কিপার লিটন দাসের কনুইয়ে লেগে শান্ত পর্যন্ত পৌঁছাতে পৌঁছাতে কঠিন হয়ে যায়। মায়ের্সকে নিয়ে ১১.১ ওভারে ৫৫ রানের জুটি বাঁধেন অধিনায়ক ব্র্যাথওয়েট। দ্রুত রান তোলার পথে খেলেছেন দারুণ সব শটও।

৫৪ বলে ক্যারিয়ারের ২০তম ফিফটি ছুঁয়েছেন অধিনায়ক ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট। দলের রান বাড়ানোর কাজটা চালিয়ে যাচ্ছিলেন সামনে থেকে। তবে নাইম হাসানের পরিষ্কার অফ স্পিনকে আর্মার ভেবে ছেড়ে দিতে গিয়ে হয়েছেন বোল্ড। ফিরতে হয়েছে ১১১ বলে ১২ চারে ৭৬ রান করে।

ওয়ানডে মেজাজে খেলছিলেন অভিষিক্ত কাইল মায়ের্সও। তবে তার শেষ পরিণতিও হয় মিরাজের অফ স্পিনে। ৫০ তম ওভারে কিছুটা হাওয়ায় ভাসিয়ে দেওয়া মিরাজের শেষ বলটি জায়গায় দাঁড়িয়ে ডিফেন্ড করতে চান মায়ের্স। কিন্তু ফাঁদে পড়েন এলবিডব্লিউর। ৬৫ বলে ৭ চারে সাজানো অভিষেক ইনিংসটি থামে ৪০ রানে।

তার বিদায়ের পর লাঞ্চের আগ পর্যন্ত অবিচ্ছেদ্য ছিল জশুয়া ডা সিলভা ও জার্মেইন ব্ল্যাকউডের জুটি, দুজনে মিলে যোগ করেন ৩৫ রান। তবে বেশ ভুগতে হয়েছে মিরাজ, নাইমদের বলে। সিলি পয়েন্ট, ফরোয়ার্ড শর্ট লেগে তৈরি হয় আউট হওয়ার বেশ কয়েকটি সুযোগও।

লাঞ্চের পর দুজনের জুটি হয় আরও লম্বা। প্রায় পুরো সেশনই কাটিয়ে দিচ্ছিলেন। তবে চা বিরতির আগে শেষ দুই ওভারে দুজনেই ফিরে গেলে শেষ হয়ে যায় ক্যারিবিয়ানদের আশা। ক্যারিয়ারের ১৪ তম টেস্ট ফিফটি হাঁকান ব্ল্যাকউড। তবে ফফটির আগেই ত্থামতে হয় উইকেট রক্ষক জশুয়া ডা সিলভাকে। ১৪১ বলে ৩ চার ১ ছক্কায় ইনিংসটি সাজান জশুয়া। ৯৩ তম ওভারে নাইম হাসানের বলে লিটন দাসকে ক্যাচ দেন এই উইকেট রক্ষক।

৪ বলের ব্যবধানে ফিরে যান ক্রিজে থিতু হওয়া ব্ল্যাকউডও। ফিফটিকে তিন অঙ্কে রুপ দেওয়ার আগেই ফিরেছেন মিরাজের দ্বিতীয় শিকার হয়ে। ১৪৬ বলে ৯ চারে খেলেন ৬৮ রানের ইনিংসটি। তার বিদায়ের পরপরই ৭ উইকেটে ২৫৩ রান নিয়ে চা বিরতিতে যায় ক্যারিবিয়ানরা।

চা বিরতির পর মিরাজের অসমাপ্ত ওভারের চতুর্থ বলেই খালি হাতে ফিরে যায় নতুন ব্যাটসম্যান কেমার রোচ। ৫ উইকেটে ২৫৩ থেকে ৮ উইকেটে ২৫৩ তে পরিণত হওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ এরপর টিকেছে ১৫ বল, দলীয় সংগ্রহ থামে ২৫৯ রানে। মিরাজের চতুর্থ শিকার রাখিম কর্নওয়াল (২) ও তাইজুলের দ্বিতীয় শিকার জোমেল ওয়ারিক্যান (৪)।

চট্টগ্রাম থেকে, ক্রিকেট৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

রোহিতকে কঙ্গনার আক্রমণ, বিধি লঙ্ঘন করায় পোস্ট মুছে দিল টুইটার

Read Next

শ্রীলঙ্কার উইন্ডিজ সফর স্থগিত

Total
2
Share