মুস্তাফিজকে নিয়ে সেঞ্চুরির পথ পাড়ি দেওয়ার গল্প শোনালেন মিরাজ

মুস্তাফিজকে নিয়ে সেঞ্চুরির পথ পাড়ি দেওয়ার গল্প শোনালেন মিরাজ

টেস্ট ক্রিকেটে ৮ নম্বরে নেমে সেঞ্চুরি করাটা নিশ্চিতভাবেই কঠিন কাজগুলোর একটি। বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে এমন কীর্তি আজকের আগে ছিল কেবল তিনজনের। চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৮ নম্বরে নেমে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে সংখ্যাটা চার করলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। সেঞ্চুরির পথে তাকে জুটি গড়তে হয়েছে লেজের ব্যাটসম্যানদের নিয়ে। বিশেষ করে শেষ উইকেট জুটিতে মুস্তাফিজকে নিয়ে সেঞ্চুরি ছুঁয়েছেন এই অলরাউন্ডার। দিন শেষে জানিয়েছেন সেই অভিজ্ঞতার কথা।

৮ নম্বরে নেমে মিরাজ অবশ্য এদিন প্রথমে ক্রিজে পেয়েছেন সাকিব আল হাসানকে। সাকিবের সাথে জুটিতে যোগ করেন ৬৭ রান। ৬৮ রানের ইনিংস খেলে সাকিব যখন ফেরেন মিরাজ তখন ৩৮ রানে। আর সেখান থেকেই তাইজুল, নাইম ও মুস্তাফিজকে নিয়ে স্বীকৃত ক্রিকেট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পান।

তাইজুলকে নিয়ে ৮ম উইকেটে ৪৪ ও নাইমকে নিয়ে ৯ম উইকেটে ৫৭ রান যোগ করেন মিরাজ। কিন্তু শেষ ব্যাটসম্যান মুস্তাফিজ যখন ক্রিজে আসে তখন ব্যক্তিগত ৯২ রানে এই অলরাউন্ডার। মুস্তাফিজকে নিয়ে সেঞ্চুরিতে পৌঁছাতে পারবেন কিনা এ নিয়ে ভক্ত সমর্থকদের মধ্যে সংশয় তৈরি হলেও মিরাজ নিজে বলছেন এসব নিয়ে ভাবেনইনি। যদিও বন্ধুর সেঞ্চুরি হাঁকানোর পথে সাধ্যমত চেষ্টা করতে চেয়েছেন মুস্তাফিজ নিজেই।

মিরাজের সেঞ্চুরিতে পৌঁছানোর আগে তিন বল স্ট্রাইকে ছিলেন মুস্তাফিজ। রাখিম কর্নওয়ালের করা বল তিনটি থেকে দুই রানও নেন এই বাঁহাতি। বন্ধুর সেঞ্চুরির আগের সময়টা সামলেছেন ভালোভাবেই।

১৪৮ তম ওভারেরর প্রথম বলে বাঁহাতি স্পিনার ওয়ারিক্যানকে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে চার মেরে ৯৭ রানে পৌঁছান মিরাজ। পরের বলে কাট শটে নেন দুই রান। ৯৯ তে থাকা মিরাজ তৃতীয় বলটি দেন ডট। তবে চতুর্থ বলেই প্যাড সুইপে ফাইন লেগে পাঠিয়ে নিয়ে নেন দুই রান, দুই হাত শূন্যে ছুঁড়ে লাফিয়ে করেন উদযাপন।

শেষ উইকেট জুটিতে নার্ভাস নাইনটিজে থেকে মুস্তাফিজকে নিয়ে সেঞ্চুরির পথ পাড়ি দেওয়ার গল্প শোনালেন মিরাজ নিজেই। ম্যাচ শেষে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এই অলরাউন্ডার বলেন, ‘মুস্তাফিজ আমাকে বলেছে যে, দোস্ত, আমার (মুস্তাফিজ) খুব ভয় লাগতেছে তোর চিন্তায়। তোর ৯০ হয়ে গেছে, ওখানে যদি আমি আউট হয়ে যাই!’

 

‘আমি ওকে একটা কথাই বলেছি, দোস্ত এটা তোর হাতেও না, আমার হাতেও না। তুই তোর নরমাল ক্রিকেট খেল। যদি আমার কপালে থাকে, আল্লাহ্‌ যদি আমার ওপর রহম করে তাহলে ১০০ হবে। এটা তো তোর হাতে নাই। তুই তোর মত খেল। চেষ্টা কর ভালো মত খেলার। আমার যদি কপালে থাকে, তাহলে ১০০ হবেই।’

‘আমি ঐভাবেই মেন্টালিটি নিয়ে নিছি। আমার করতে হবে এটা আমি কখনও চিন্তা করিনি। আমি চিন্তা করেছি যে, আল্লাহ্‌ যদি আমার কপালে রাখে তাহলে সেঞ্চুরি হবেই। এতার ওপর অনেক বিশ্বাস করেছি।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

মিরাজের ব্যাটিংয়ে তামিম, মুশফিক, সাকিবরা যেভাবে অবদান রেখেছেন

Read Next

বাংলাদেশের যতটা সম্ভব কাছাকাছি যেতে চায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ

Total
51
Share