মিরাজের ব্যাটিংয়ে তামিম, মুশফিক, সাকিবরা যেভাবে অবদান রেখেছেন

মিরাজের ব্যাটিংয়ে তামিম, মুশফিক, সাকিবরা যেভাবে অবদান রেখেছেন

চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তার ১০৩ রানের ইনিংসে ভর করে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ পায় ৪৩০ রানের সংগ্রহ। দিন শেষে এই অলরাউন্ডার বলছেন তার এমন সাবলীল ব্যাটিংয়ের নৈপথ্যে আছে তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিমরা। মাঠে ক্রিজে থেকে পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করেছেন সাকিব আল হাসানও।

বয়স ভিত্তিক ক্রিকেটে ব্যাটিং সামর্থ্য সম্পর্কে আঁচ করা গেলেও জাতীয় দলে এসে পুরোদস্তুর বোলার বনে যান মেহেদী হাসান মিরাজ। যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশে নেতৃত্ব দেওয়া এই অলরাউন্ডার ব্যাটিং বোলিং দুটোতেই ছিলেন সমান পারদর্শী। যুব ওয়ানডেতে ৫৬ ম্যাচে ১৩০৫ রান ও যুবাদের টেস্টে ৪ ম্যাচেই ৫০ গড়ে রান করেছেন ২৫০।

তবে জাতীয় দলে আসার পর ভূমিকা বদলে কেবলই বোলার হয়ে পড়েন ২৩ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার। আজ সহ আগে ৪৩ ইনিংসে ব্যাট হাতে নেমে সবচেয়ে বেশি (২৬ বার) খেলেছেন ৮ নম্বর পজিশনে। নিচের দিকে খেলা এই ব্যাটসম্যান আজকের আগে রান করেছেন ১৭.৭২ গড়ে ৬৩৮। ফিফটি সাকূল্যে দুই ফিফটি, সর্বোচ্চ অপরাজিত ৬৮। সর্বশেষ ১০ ইনিংসে ৩০ পেরোনো ইনিংস মাত্র একটি।

তবে আজ ক্যারিবিয়ান বোলারদের বিপক্ষে ব্যাট হাতে ভিন্ন এক মিরাজকে দেখা যায়। ৮ নম্বরে নামলেও তাইজুল ইসলাম, নাইম হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে ঠিকই তুলে নেন সেঞ্চুরি। ৮ নম্বরে নেমে বাংলাদেশের পক্ষে টেস্ট সেঞ্চুরি করা ৪র্থ ব্যাটসম্যান তিনি। ইয়ুথ টেস্ট ও টেস্ট ফরম্যাট- উভয় জায়গাতেই সেঞ্চুরি করা একমাত্র বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান অবশ্য মিরাজ।

১৬৮ বলে ১৩ চারে ১০৩ রানের ইনিংসটি খেলার পথে উইকেটের চারপাশেই সাবলীল সব শট দেখা যায় মিরাজের ব্যাট থেকে। শানন গ্যাব্রিয়েলের শর্ট বল, কেমার রোচের গতি, রাখিম কর্নওয়াল ও জোমেল ওয়ারিক্যানের স্পিন সামলেছেন ভালোভাবেই। যদিও ব্যক্তিগত ২৪, ৭১ ও ৮৫ রানে আউট হওয়ার সুযোগও তৈরি করেন।

নিজের ব্যাটিং নিয়ে দলের সিনিয়র ব্যাটসম্যানদের সাথে কাজ করাটাই কাজে দিয়েছে জানিয়ে ম্যাচ শেষে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে মিরাজ বলেন, ‘একটা জিনিস দেখেন, আমি যখন সেদিন নেটে ব্যাটিং করছিলাম তখন তামিম ভাই আমাকে ২-১টা পরামর্শ দিচ্ছিলেন। তবে তার আগেও আমি যখন ব্যাটিং করেছিলাম মুশফিক ভাই অনেক পরামর্শ দিয়েছিলেন। উনি যখন প্র্যাকটিসে ব্যাটিংয়ে আসতেন আগে আগে, আমাকেও নিয়ে আসতেন। উনিও ব্যাটিং করতেন, আমাকেও ব্যাটিং করাতেন। লাস্ট এক সপ্তাহ আগেও আমি তার সাথে ব্যাটিং নিয়ে অনেক কাজ করেছি।’

‘তামিম ভাই সেদিন আমাকে একটা পরামর্শ দিয়েছেন, জোরে বলগুলো কীভাবে খেলতে হবে, শরীরের দিকে আসা বলগুলো কীভাবে খেলতে হবে। তামিম ভাই শুধু একটা কথা বলেছেন যে, শরীরের দিকে আসা বলগুলো সোজা রাখার জন্য, এটা যেন না ঘুরিয়ে দেই। আজকে এটা এপ্লাই করেছি। গ্যাব্রিয়েল যখন আমাকে শরীর বরাবর বল করেছে, যতটা সম্ভব সোজা রাখতে পেরেছি এবং লিভ করে দিয়েছি।’

‘এক সপ্তাহ আগে মুশফিক ভাইয়ের সঙ্গে যে ট্রেনিং করেছি, তখন মুশফিক ভাই একটা কথা বলেছেন যে, সোজা খেলতে হবে এবং বাইরের বলে যেন খোঁচা না দেই, এটা যেন লিভ করে দেই। পাশাপাশি সবসময় যেন মনোযোগ ধরে রাখি এবং বল টু বল খেলার চেষ্টা। দুজনের পরামর্শই অনেক কাজে লেগেছে।’

সাকিবের সাথে ইনিংসের সর্বোচ্চ ৬৭ রানের জুটি হয় মিরাজের। ৭ম উইকেট জুটিতে দুজনে ক্রিজে কাটিয়েছেন ২০ ওভারের বেশি সময়। সাকিব আউট হওয়ার সময়ও অবশ্য ফিফটিতে পৌঁছান নি মিরাজ। তবে ততক্ষণে ক্রিজে ভালো সময় পার করার টোটকা পেয়ে যান সাকিবের কাছ থেকে।

২৩ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার বলেন, ‘আমি যখন উইকেটে এসেছি, তখন একটু নার্ভাস ছিলাম। সাকিব ভাইয়ের সাথে আমি কথা বলছিলাম যে, ভাই কী করলে ভালো হয়। সাকিব ভাই একটা কথা বলেছেন নরমাল ক্রিকেট খেলতে এবং যদি কনফিডেন্ট থাকে যে মারলে পার হয়ে যাবে বা যে শটই খেলি যেন কনফিডেন্ট নিয়ে খেলি। যেমন মাঝখানে হয়তো আমি নিজের প্রেশার রিলিজ করতে একটা স্লগ সুইপ চেষ্টা করব, তখন সাকিব ভাই আমাকে বলেন যে, এখানে স্লগ সুইপের চেয়ে প্যাডল সুইপ করলে ভালো।’

‘তখন আমার মাথায় চিন্তাটা কাজে লেগেছে যে, আমি যদি স্লগ সুইপের বদলে প্যাডল সুইপ খেলি তাহলে হয়তো ভালো হবে, আউট হওয়ার চান্স কম থাকবে। এসব ছোট ছোট জিনিস অনেক গুরুত্বপূর্ণ, যা আমাকে হয়তো সাহস দিয়েছে। যেমন নামার আগে মুশফিক ভাই হয়তো দুই-একটা কথা বলেছে যে, এ উইকেটে অনেক সুযোগ আছে, ভালো কিছু যেমন ৭০ রানে নটআউট থাকতে পারবি- এ জিনিসগুলো যখন ড্রেসিংরুমে সিনিয়র প্লেয়াররা যখন ব্যাকআপ করে জুনিয়র প্লেয়ারকে, তখন কিন্তু আমাদের বুক অনেক বড় হয়ে যায় এবং ভালো করতে নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করা যায়।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

সাকিবের ইনজুরি নিয়ে নেই ভালো কোন খবর

Read Next

মুস্তাফিজকে নিয়ে সেঞ্চুরির পথ পাড়ি দেওয়ার গল্প শোনালেন মিরাজ

Total
2
Share