মিরাজের রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরি, বাংলাদেশের ৪০০ পার

মিরাজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি, বাংলাদেশের ৪০০ পার

সাদমান ইসলাম থেকে মুশফিকুর রহিম হয়ে সাকিব আল হাসান, ক্রিজে টিকেছেন কিন্তু ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। সাদমান, সাকিবের ফিফটি থেমেছে যথাক্রমে ৫৯ ও ৬৮ রানে। তবে ক্রিজে টিকে, দুই-একটি জীবন পেয়ে ঠিকই কাজে লাগালেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিনে স্বীকৃত ক্রিকেটে নিজের প্রথম সেঞ্চুরিটা হাঁকালেন। তার ১০৩ রানের ইনিংসে ভর করে অল আউট হওয়ার আগে নিজেদের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪৩০।

৭ উইকেটে ৩২৮ রান নিয়ে লাঞ্চে যাওয়ার সময় মেহেদী হাসান মিরাজ অপরাজিত ছিলেন ৪৬ রানে। লাঞ্চের পর বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে যোগ হয় ১০২ রান, যেখানে মিরাজের ব্যাট থেকেই আসে ৫৭ রান। ৯৯ বলে ফিফটি ছোঁয়া মিরাজ তিন অঙ্কে পোঁছান ১৬০ বলে ১৩ চারের সাহায্যে।

এমনিতে ব্যাটিং অলরাউন্ডার হিসেবে বয়সভিত্তিক থেকে পরিচিতি পাওয়া মিরাজ জাতীয় দলে এসেই পুরোদস্তুর বোলার বলে যান। আজ সহ আগে ৪৩ ইনিংসে ব্যাট হাতে নেমে সবচেয়ে বেশি (২৬ বার) খেলেছেন ৮ নম্বর পজিশনে। এই পজিশন থেকে লেজের ব্যাটসম্যানদের নিয়ে খুব বেশি কিছু করার সুযোগ না পেলেও আজ ঠিকই নিজের সামর্থ্যের জানানটা দিয়ে রাখলেন এই অলরাউন্ডার। ক্যারিয়ারের আগের দুই ফিফটিও অবশ্য হাঁকিয়েছেন যথাক্রমে ৮ ও ৯ নম্বরে নেমে। তবে এবার আর ফিফটিতে সন্তুষ্ট থাকেননি, তুলে নিয়েছেন সেঞ্চুরিই।

৮ নম্বরে নেমে বাংলাদেশের পক্ষে টেস্ট সেঞ্চুরি করা ৪র্থ ব্যাটসম্যান তিনি। এর আগে এই কীর্তি আছে খালেদ মাসুদ পাইলট, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও সোহাগ গাজীর। ইয়ুথ টেস্ট ও টেস্ট ফরম্যাট- উভয় জায়গাতেই সেঞ্চুরি করা একমাত্র বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান অবশ্য মিরাজ।

তাইজুল ইসলামের (১৮) সাথে ৮ম উইকেটে ৪৪ ও নাইম হাসানের সাথে (২৪) নবম উইকেটে যোগ করেন ৫৭ রান। শেষ ব্যাটসম্যান বন্ধু মুস্তাফিজুর রহমান যখন ক্রিজে আসেন তখনো মিরাজের সেঞ্চুরির জন্য প্রয়োজন ছিল ৮ রান। কর্নওয়াল, ওয়ারিক্যানদের সামলে বন্ধুর সেঞ্চুরির পথটা সহজ করেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

১৪৮ তম ওভারেরর প্রথম বলে বাঁহাতি স্পিনার ওয়ারিক্যানকে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে চার মেরে ৯৭ রানে পৌঁছান মিরাজ। পরের বলে কাট শটে নেন দুই রান। ৯৯ তে থাকা মিরাজ তৃতীয় বলটি দেন ডট। তবে চতুর্থ বলেই প্যাড সুইপে ফাইন লেগে পাঠিয়ে নিয়ে নেন দুই রান, দুই হাত শূন্যে ছুঁড়ে লাফিয়ে করেন উদযাপন। ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির পর অবশ্য টিকেননি বেশিক্ষণ। কর্নওয়ালকে লুড়িয়ে মারতে গিয়ে ধরা পড়েন লং অনে বিকল্প ফিল্ডার হজের হাতে।

শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে ফেরার আগে মিরাজ থেমেছেন ১৬৮ বলে ১৩ চারে ১০৩ রানে। যদিও ব্যক্তিগত ২৪ রানের পর ৭১ ও ৮৫ রানেও দুইবার জীবন পান এই অলরাউন্ডার। ৭১ রানে স্টাম্পিং মিস করে উইকেট রক্ষক জশুয়া ডা সিলভা ও ৮৫ রানে স্লিপে দাঁড়িয়ে লেগ স্পিনার বোনারের বলে ক্যাচ ছেড়েছেন কর্নওয়াল।

মুস্তাফিজ অপরাজিত ছিলেন ৩ রানে। ক্যারিবিয়ায়নদের পক্ষে সবচেয়ে বেশি ৪৮ ওভার বল করা জোমেল কর্নওয়ালের শিকার সর্বোচ্চ ৪ উইকেট। রাখিম কর্নওয়াল তুলে নেন দুই উইকেট। যদিও ক্যাচ মিস না হলে তার উইকেট সংখ্যা বাড়টে পারতো আরও। একটি করে উইকেট ভাগাভাগি করেন ক্রুমাহ বোনার, শ্যানন গ্যাব্রিয়েল ও কেমার রোচ।

চট্টগ্রাম থেকে, ক্রিকেট৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

অস্ট্রেলিয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা

Read Next

চট্টগ্রামে দ্বিতীয় দিন শেষে এগিয়ে বাংলাদেশ

Total
41
Share