সাকিব-লিটন জুটিতে বড় কিছুর স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ

সাকিব-লিটন জুটিতে বড় কিছুর স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ

ক্রিজে থিতু হয়েছেন, জুটি গড়েছেন কিন্তু ব্যক্তিগত ইনিংস কিংবা জুটি কোনটাই বড় করতে পারেননি আউট হওয়া বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। প্রথম দুই সেশন নিজেদের করে নেওয়ার সম্ভাবনা জাগিয়েও দুইটি করে উইকেট হারায় টাইগাররা। তবে শেষ সেশনে মুশফিকুর রহিমকে হারালেও সাকিব আল হাসান ও লিটন দাসের ব্যাটে ৫ উইকেটে ২৪২ রান তুলে ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথমদিন শেষ করে বাংলাদেশ।

সাদমান ইসলামের ফিফটির (৫৯) সাথে নাজমুল হোসেন শান্ত (২৫), মুমিনুল হক (২৬), মুশফিকুর রহিমরা (৩৮) ক্রিজে কাটিয়েছেন ভালো সময়। তবে কেউই সেটিকে টেনে নিতে পারেননি লম্বা সময় পর্যন্ত। দিনশেষে সাকিব ৩৯ ও লিটন দাস ৩৪ রানে অপরাজিত।

সাগরিকার টিপিক্যাল স্পিন উইকেটে চার স্পিনার ও এক পেসার নিয়ে নামে স্বাগতিক বাংলাদেশ। তবে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম দিন ক্যারিবিয়ান স্পিনার জোমেল ওয়ারিক্যান ও রাখিম কর্নওয়াল সময়ের সাথে সাথে ভালোই পরীক্ষা নেন বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের। ৩ উইকেট নিয়ে ক্যারিবিয়ানদের সেরা বোলারও বাঁহাতি অর্থোডক্স ওয়ারিক্যান। শেষ বিকেলে কর্নওয়ালের বলে লিটন দাসের সহজ ক্যাচ মিস করেন ক্রুমাহ বোনার।

৪ উইকেটে ১৪০ রান নিয়ে চা বিরতিতে যাওয়া বাংলাদেশের জন্য দিনের সবচেয়ে সফল সেশন চা বিরতির পরের সেশনটি। লাঞ্চের আগে ২ উইকেটে ৬৯, চা বিরতির আগে ২ উইকেটে ৭১ রানের পর শেষ সেশনে কেবল মুশফিকুর রহিমের উইকেট হারিয়ে যোগ করে ১০২ রান। মুশফিক ওয়ারিক্যানের বলে প্রথম স্লিপে কর্নওয়ালকে ক্যাচ দিলে সাকিবের সাথে ৫৯ রানের জুটি ভাঙে। আউট হওয়ার আগে ৬৯ বলে ৬ চারে ৩৯ রানের ইনিংসটি খেলেন এই উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান।

মুশফিকের বিদায়ের পর লিটন দাসকে নিয়ে দিনের খেলা শেষ করে আসেন ২০১৯ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের পর প্রথম টেস্ট খেলতে নামা সাকিব। ৯২ বলে ৪ চারে ৩৯ রানে অপরাজিত সাকিব, ৫৮ বলে ৬ চারে লিটন অপরাজিত ৩৪ রানে।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by cricket97 (@cricket97bd)

সংক্ষিপ্ত স্কোর (১ম দিন শেষে):

বাংলাদেশ ২৪২/৫ (৯০), সাদমান ৫৯, তামিম ৯, শান্ত ২৫, মুমিনুল ২৬, মুশফিক ৩৮, সাকিব ৩৯*, লিটন ৩৪*; রোচ ১৬-৫-৪৪-১, ওয়ারিক্যান ২৪-৫-৫৮-৩।

চোট কাটিয়ে ২০১৯ সালের পর প্রথম টেস্ট খেলতে নেমে লম্বা সময় ক্রিজে টিকে ফিফটি তুলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি ওপেনার সাদমান ইসলাম। তবে বাঁহাতি স্পিনার ওয়ারিক্যানের দ্বিতীয় শিকার হয়ে ফেরা সাদমানকে রিভিউ না নেওয়ার আক্ষেপ করতেই হবে। যে বলটিতে সুইপ করতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হয়ে কোন সংশয় ছাড়াই সাজঘরে ফিরেছেন সদমান সেটিই টিভি রিপ্লেতে লেগ স্টাম্প মিস করতে দেখা যায়।

২ উইকেটে ৬৯ রান নিয়ে লাঞ্চে যাওয়ার সময় সাদমান অপরাজিত ছিলেন ৩৩ রানে, অধিনায়ক মুমিনুল ছিলেন ২ রানে। লাঞ্চের ঠিক আগে শ্যানন গ্যাব্রিয়েলের লাফিয়ে ওঠা বলে অস্বস্তির আভাস মুমিনুলের ব্যাটে। শর্ট লেগে দুইবার ধরা পড়তে পড়তেও বেঁচে যান। লাঞ্চের পর কেটেছে সেই জড়তা, রান করছিলেন সাবলীলভাবে। বাঁহাতি অর্থোডক্স ওয়ারিক্যানের বলে ২৬ রান করে ফেরার আগে সাদমানের সাথে গড়েন ৫৩ রানের জুটি।

মুমিনুলের বিদায়ের আগেই অবশ্য ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট ফিফটির দেখা পান ওপেনার সাদমান। ১২৮ বলে ৬ চারে ছুঁয়েছেন ফিফটি। ব্যক্তিগত ৫৬ রানে দুইবার তাকে ফেরানোর সুযোগ তৈরি করে ওয়ারিক্যান। ফরোয়ার্ড শর্ট লেগে পরপর দুই বলে ক্যাচ নেওয়ার সুযোগ পান ক্রুমাহ বোনার। বোনার কঠিন ক্যাচ দুইটি নিতে না পারলেও শেষ পর্যন্ত ওয়ারিক্যানের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েই বিদায় নেন সাদমান। ১৫৪ বলে ৬ চারে ৫৯ আসে এই বাঁহাতির ব্যাট থেকে।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by cricket97 (@cricket97bd)

সাকিব আল হাসানকে নিয়ে চা বিরতির আগে অবশ্য আর কোন বিপদ ঘটতে দেননি মুশফিকুর রহিম। ৪ উইকেটে ১৪০ রান নিয়ে দ্বিতীয় সেশন শেষ করেছিল টাইগাররা।

প্রায় এক বছর পর সাদা পোশাকে খেলতে নেমেছে মুমিনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করা টাইগাররা দিনের প্রথম সেশন শেষ করেছিল ২ উইকেটে ৬৯ রান তুলে।

ইনিংসের প্রথম বলেই কাভার ড্রাইভে চার দিয়ে শুরু টাইগার ওপেনার সাদমানের। অনেকটা ওয়ানডে মেজাজে খেলে ৪.৩ ওভার স্থায়ী জুটিতে তামিমকে নিয়ে যোগ করেন ২৩ রান। তিন স্লিপ নিয়ে ফিল্ডিং সাজানো ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক ইনিংসের তৃতীয় বলেই পরিবর্তন আনতে বাধ্য হন। তিন নম্বর স্লিপে দাঁড়ানো ক্রুমাহ বোনারকে নিয়ে যান শর্ট কাভারে।

তামিম আউট হয়েছেন কেমার রোচের আড়াআড়ি লেংথে পড়া বলে ব্যাট,প্যাড ছুঁয়ে স্টাম্পে আঘাত হানলে। ৯ রান করে বিদায় নেওয়ার পথে তামিম বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ টেস্ট রান সংগ্রাহক হিসেবে উঠে আসেন। মুশফিকুর রহিমের ৪৪১৩ পেছনে ফেলে তামিম থেমেছেন ৪৪১৪ রানেই। যা পরে মুশফিক আবারও পেছনে ফেলেন (৪৪৪৭)।

তামিমের বিদায়ের পর নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে সাদমান জুটিতে যোগ করে ৪৩ রান। ওয়ানডে সিরিজে তিন নম্বরে নেমে ব্যর্থ হওয়া শান্ত খেলছিলেন দারুণভাবে। কিন্তু কাইল মায়ের্সের করা ২৪ তম ওভারেই তালগোল পাকিয়ে বসেন সদমান ইসলাম। ওভারের প্রথম বলেই ফাইন লেগে ফিল্ডার কেমার রোচের হাতে বল রেখেই দুই রান নেওয়ার চেষ্টা।

১ রান করে প্রান্ত বদল করা শান্ত তখন অবাক বিস্ময়ে ফিল্ডারের দিকে তাকিয়ে, ততক্ষণে সাদমানের জন্য নিজের ত্যাগ স্বীকার করে ফেলেছেন। কেমার রোচের করা থ্রো উইকেট রক্ষক জশুয়া ডা সিলভা হয়ে বোলার কাইল মায়ের্স ভাঙেন স্টাম্প। ৫৮ বলে ৩ চারে বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানের খেলা ২৫ রানের ইনিংসটির সমাপ্তি ঘটে ত্যাগের মাধ্যমে।

চট্টগ্রাম থেকে, ক্রিকেট৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

২য় সেশনে সাজঘরে আরো ২ ব্যাটসম্যান

Read Next

ভারতের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের স্কোয়াডে যুক্ত হলেন পোপ

Total
37
Share