চট্টগ্রামে প্রস্তুতি ম্যাচ ড্র

চট্টগ্রামে প্রস্তুতি ম্যাচ ড্র

টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে বিসিবি একাদশের বিপক্ষে বেশ ভালোই প্রস্তুতি সারলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আজ (৩১ জানুয়ারি) ড্রয়ের মাধ্যমে শেষ হওয়া ম্যাচটিতে ব্যাটে-বলে দারুণ সফল ক্যারিবিয়ানরা। বিপরীতে বিসিবি একাদশে জায়গা পাওয়া আকবর আলি, তরুণ ক্রিকেটাররা হতাশই করেছে।

প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২৫৭ রানের বিপরীতে বিসিবি একাদশ গুটিয়ে যায় ১৬০ রানে। ৯৭ রানে এগিয়ে থাকা ক্যারিবিয়ানরা দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে গতকাল দ্বিতীয় দিন শেষ করে ৫ উইকেটে ১৭৯ রানে। আজ অল আউট হওয়ার আগে তাদের দলীয় সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৯১। আগেরদিন ২৭৬ রানের লিড নিয়ে শেষ করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটসম্যানরা আজ যোগ লিড বাড়িয়ে নেয় ৩৮৮ তে।

ক্যারিবিয়ানরা দিনের চতুর্থ ওভারেই হারায় ক্রুমাহ বোনারের উইকেট। আগের দিন ৮০ রানে অপরাজিত থাকা ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান খালেদ আহমেদের বলে ফিরেছেন উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে। নিজের নামের পাশে আজ আর কোন রান যোগ করতে পারেননি।

৭ রানের ব্যবধানে ফিরে যান নতুন ব্যাটসম্যান রাখিম কর্নওয়ালও (৪)। মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধের শর্ট বলে উড়িয়ে হুক করতে গিয়ে ধরা পড়েন মিড অনে তৌহিদ হৃদয়ের হাতে। তবে এরপরই জুটি জমিয়ে ফেলেন উইকেট রক্ষক জশুয়া ডা সিলভা ও রেমন রেইফার। দুজনে মিলে অবিচ্ছেদ্য জুটিতে লাঞ্চের আগে যোগ করেন ৬৮ রান।

দুজনকে খুব একটা অস্বস্তিতে ফেলতে পারেনি বিসিবি একাদশের বোলাররা। জশুয়া অপরাজিত ছিলেন ৩৯ রানে, অন্যদিকে রেইফার অপরাজিত ছিলেন ৩৫ রানে। লাঞ্চের পরই অবশ্য ফিরে যান জশুয়া, মুকিদুল ইসলামের বলে খালেদ আহমেদকে ক্যাচ দেন ৪৬ রানে। ১১৬ বলে ৩ চারে ইনিংসটি সাজান ক্যারিবিয়ান উইকেট রক্ষক।

তার বিদায়ের পর ১৯ রানের মধ্যেই গুটিয়ে যায় ক্যারিবিয়ানদের ইনিংস। রেমন রেইফার অপরাজিত ছিলেন ৪৯ রানে। ২৯১ রানে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে অল আউট করার পথে বিসিবি একাদশের হয়ে সর্বোচ্চ ৪ টি উইকেট নেন পেসার মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ। টেস্টের চূড়ান্ত স্কোয়াড থেকে বাদ পড়া খালেদের শিকার প্রথম ইনিংসের মত সমান তিন উইকেট। পার্ট টাইম স্পিনার সাইফ হাসানের শিকার দুইটি, একটি নেন তৌহিদ হৃদয়।

৩৮৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে বিসিবি একাদশ ২ উইকেটে ৬৩ রান তোলার পরই দুই অধিনায়কের সমঝোতায় নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘন্টা আগেই ড্রয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ম্যাচ। ওপেনার সাইফ হাসান এ দফায়ও হয়েছেন ব্যর্থ। ৩৩ বলে ৭ রান করে বাঁহাতি পেসার রেমন রেইফারের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন। প্রথম ইনিংসে ৪৫ রান করা নাইম শেখ রেইফারের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে এদিন ফিরেছেন খালি হাতে।

১৪ রানে দুই উইকেট হারালেও ইয়াসির আলি রাব্বি ও সাদমান ইসলাম বাকি সময় কাটিয়েছেন অনায়েসেই। দুজনের ৫৯ রানের জুটিতে ছিল দেখে শুনে খেলার নিদর্শন। ৮১ বল খেলে ২ চারে সাদমান অপরাজিত ছিলেন ২৩ রানে। অন্যদিকে ৫৬ বলে ইয়াসিরের ব্যাট থেকে আসে হার না মানা ৩৩ রান। স্কোরবোর্ডে ২ উইকেটে ৬৩ রান উঠার পরই সমঝোতায় আসে দুই অধিনায়ক।

চট্টগ্রাম থেকে, ক্রিকেট৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

হাফিজ-ইমাদ ছাড়া পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি দলে নতুন মুখ জাহিদ

Read Next

দল থেকে বাদ পড়ে প্রতিক্রিয়া জানালেন হাফিজ

Total
5
Share