তাইজুল যখন সবার ‘সাথী’

তাইজুল যখন সবার 'সাথী'

বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম মানেই মাঠে বাড়তি আনন্দের খোরাক। দলের অনুশীলনে সবচেয়ে হাস্যরস বিলান এই স্পিনার। গা গরমের ফুটবল হোক কিংবা নেটে সতীর্থকে বল করা, এই বাঁহাতি সিরিয়াস মুহূর্তকেও করে তোলেন আনন্দঘন। সতীর্থদের ব্যাটিং অনুশীলনে বাঁহাতি স্পিনার বলে তার কদরটাও যেন একটু বেশি। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আজ (৩০ জানুয়ারি) দেখা মিলল এমন কিছুর।

চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরা সাকিব যে কিছুটা সময় ব্যাট করেছেন তার শুরুটা করেন তাইজুলকে দিয়েই। নেট বোলারদের সাথে একমাত্র তাইজুলই তখন স্বীকৃত বোলার। সাগরপাড়ের স্টেডিয়ামটির দক্ষিণ-পশ্চিম পাশের একটি নেটে সাকিবকে বেশ কিছুক্ষণ বল করেন তাইজুল। নানা কথার ফাঁকে শহরের অন্য প্রান্তে চলা তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ নিয়েও দুজনের আলাপ চলে। কয়েকটি ডেলিভারি শেষেই ক্রিজের মাঝখানে এসে সিরিয়াস কিছু নিয়েও কথা বলেন। দূর থেকে দেখে সাকিবের ইশারার উপর আন্দাজ করে মনে হয়েছিল বলের মুভমেন্ট ও ফিল্ড সেটাপ নিয়েই দিক নির্দেশনা দিচ্ছিলেন।

তাইজুলের করা ঝুলিয়ে দেওয়া একটি বল আক্রমণাত্মক না খেলে বেশ সহজাত ভঙিতে ডিফেন্স করেন সাকিব। তাইজুলের প্রশ্ন, ‘এটা মেরে খেললেন না কেন?’ সাকিব যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন বেশ ভালোভাবে। সাকিবের জবাব, ‘ম্যাচে তো এটা খেলার প্রশ্নই উঠেনা, তাই খেলিনি। যারা ৮০-৯০ স্ট্রাইক রেটে খেলে তাদের কথা ভিন্ন, তারাও মনে হয়না ঝুঁকি নিত। কিন্তু ৩০-৪০ এ খেলতে গেলে এটা মারার কোন কারণ নেই।’

সাকিবকে সঙ্গ দেওয়া শেষে একই নেটে ব্যাট করতে আসেন তামিম ইকবাল। তাইজুল তখন সেন্টার উইকেটে দলের বাকিদের সাথে ম্যাচ আবহে অনুশীলন করার উদ্দেশ্যে হাঁটছিলেন। কিন্তু হঠাতই তামিমের মনে হল একজন বাঁহাতি স্পিনার দরকার। দূর থেকে ডেকে নিলে তাইজুলকে। বাধ্য ছেলের মত তামিমের ডাকে সাড়া দিয়ে শুরু করেন বোলিং। কিন্তু তামিমের সাথে তার সম্পর্কটা যে একটু অন্যরকম সেটা সবারই জানা। বল করার পাশাপাশি মেতে উঠেন খুনসুটিতে।

তাইজুলের বাঁহাতি স্পিনে সুইপ খেলার চেষ্টা করছিলেন তামিম। এটা বুঝতে পেরে তাইজুল অনবরত ঐ লেংথেই বল করে যাচ্ছিলো যেন তামিমের সুবিধা হয়। কিন্তু টাইগারদের ওয়ানডে অধিনায়ক বলে দিলেন অনুশীলনটা তিনিই করছেন ফলে তাইজুল যেন তার স্বাভাবিক বলটাই করে। অর্থাৎ ম্যাচের মত করে সুইপ খেলার উপযোগী বলের জন্য অপেক্ষা করে তবেই সেটি খেলতে চান দেশসেরা এই ওপেনার।

সুইপ খেলার চেষ্টায় একটি বল তামিমের ব্যাট ফাঁকি দিয়ে প্যাডে আঘাত হানে। তাইজুলের জোর দাবি এলবিডব্লিউ হয়েছে। কিন্তু সেটি মানতে নারাজ তামিম, হাই হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বলে মনে করেন তিনি। তবে ফের যুক্তি দিয়ে তাইজুল জানান বসে ব্যাট চালানো হাঁটুর উপরের অংশ স্টাম্প সমানই ছিল। এভাবে মিনিট বিশেক চলে তাদের অনুশীলন।

এরপ তাইজুল আবারও যোগ দেন সেন্টার উইকেটে লিটন-মুমিনুলদের সাথে। এই দুই ব্যাটসম্যানকে বল করেন লম্বা সময়। এখানেও বেশ কয়েকজন পেসার ও অফ স্পিনার নাইম হাসানের সাথে একজন বাঁহাতি স্পিনার প্রয়োজন ছিল।

নির্ধারিত সময় ৪:৪৫ মিনিটে অনুশীলন শেষে সবাই যখন ব্যাট, প্যাড, গ্লাভস গুছানোতে ব্যস্ত তখনো তাইজুল ব্যস্ত অন্য কিছু নিয়ে। সূর্য তখন পশ্চিম আকাশে হেলে পড়েছে, মাঠে মাত্র দুইজন ক্রিকেটার, লিটন দাস ও তাইজুল ইসলাম। দলের হেড অব ফিজিক্যাল পারফরম্যান্স নিকোলাস ট্রেভর লির সাথে মাঠের পশ্চিম পাশে রানিংয়ে ব্যস্ত লিটন-তাইজুল।

মাঠের বাকি অংশে ততক্ষণে পরিচর্যার কাজ শুরু করে দেয় মাঠকর্মীরা। লিটনের সাথে ১০ মিনিটের মত রানিং শেষে তাইজুল একাই রানিং করলেন আরও ১০ মিনিট। দলের শেষ সদস্য হিসেবে তাইজুল যখন নিকোলাস ট্রেভর লির সঙ্গে মাঠ ছাড়ছিলেন তখন ঘড়িতে সময় ৫ টা ৫ মিনিট।

চট্টগ্রাম থেকে, ক্রিকেট৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

চট্টগ্রামে ব্যাটে-বলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভালো দিন

Read Next

‘দেশের হয়ে টেস্ট খেলার ফিলিংসই অন্য রকম’

Total
5
Share