চট্টগ্রামে ব্যাটে-বলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভালো দিন

চট্টগ্রামে ব্যাটে-বলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভালো দিন

তিনদিনের প্রস্তুতি ম্যাচের দ্বিতীয় দিন শেষে চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে বিসিবি একাদশের বিপক্ষে ২৭৬ রানে এগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ম্যাচে ভালোই প্রস্তুতি সারলেন দুই দলের স্পিনাররা। প্রথম দুই দিনে দুই দলের পড়া ২৫ উইকেটের ১৮ টিই নিয়েছেন স্পিনাররা। প্রথম ইনিংসে ক্যারিবিয়ায়নদের ২৫৭ রানের জবাবে বিসিবি একাদশ গুটিয়ে যায় ১৬০ রানে। ৯৭ রানের লিড পাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেটে ১৭৯ রান তুলে দিন শেষ করে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে ২৫৭ রানের জবাবে বিনা উইকেটে ২৪ রান নিয়ে আজ দ্বিতীয় দিন শুরু করে বিসিবি একাদশ। দিনের প্রথম ওভারেই কেমার রোচের গুড লেংথের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে বিদায় নিতে হয় সাইফ হাসানকে। আগের দিন করা ১৫ রানের সাথে আর যোগ করতে পারেননি কোন রান। এরপর সাদমান ইসলামকে নিয়ে নতুন ব্যাটসম্যান নাইম শেখ খেলেন ওয়ানডে মেজাজে।

শ্যানন গ্যাব্রিয়েল, কেমার রোচ, আলঝারি জোসেফদের পেস সামলে ছুটছিলেন ফিফটির দিকেও। ১৭ তম ওভারে আলঝারি জোসেফকে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট ও ডিপ এক্সট্রা কাভার অঞ্চল দিয়ে মারা ব্যাক টু ব্যাক চার দুটো ছিল তার ৪৫ রানের ইনিংসের বিজ্ঞাপন।

ততক্ষণে অবশ্য পুরোদস্তুর টেস্ট আবহে ব্যাটিং করছিলেন বাঁহাতি ওপেনার সাদমান ইসলাম। চোট কাটিয়ে ২০১৯ সালের পর প্রতিযোগিতামূল ক্রিকেটে ফেরা সাদমানের জন্য ম্যাচটি এমনিতেই ছিল আত্মবিশ্বাসের রসদ জোগানোর উপলক্ষ্য। দেখে শুনে ছেড়ে দেওয়া তত্বেই এদিন বেশি মনযোগী ছিলেন এই বাঁহাতি।

তবে রাখিম কর্নওয়ালের স্পিন ঘূর্ণির সাথে আলঝারি জোসেফের গুড লেংথ, ব্যাক অব লেংথের কিছু বলে বিপাকে ফেলে এই ব্যাটসম্যানকে। ২১ তম ওভারে জোসেফের দেওয়া একটি শর্ট বলে আঙুলেও খানিক ব্যথা পান।

রাখিম কর্নওয়াল উপর থেকে ছোঁড়া বলে বাড়তি বাউন্স পেয়ে থাকেন, সাথে এম এ আজিজে মরা ঘাসের উইকেটে পেয়েছেন টার্নও। যা কাজে লাগিয়ে ফিফটি ছোঁয়ার আগেই বোল্ড করে ফেরান নাইম শেখকে। যদিও আউট করা বলটি ফুল লেংথে করেন ক্যারিবিয়ান এই অফ স্পিনার, কাট করতে গিয়ে মিস করে বোল্ড হন নাইম। থামে ৭৮ বলে ৯ চারে সাজানো ৪৫ রানের ইনিংস, ভাঙে সাদমানের সাথে ৭৪ রানের জুটি।

নাইমের বিদায়ের পর বেশিক্ষণ টিকেননি ১২৬ মিনিট ক্রিজে কাটিয়ে ৮২ বলে ২২ রান করা সাদমানও। তাকে ফিরিয়েছেন আলঝারি জোসেফ, পুল করতে গিয়ে শর্ট মিড উইকেটে ধরা পড়েন ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েটের হাতে। কর্নওয়ালের অফ স্পিন ভেল্কিতে দ্রুত ফেরেন ইয়াসির আলি রাব্বিও (১)। ৯ বলের ব্যবধানে তিন উইকেট হারিয়ে ১ উইকেটে ৯৮ থেকে ৪ উইকেটে ১০০ রানে পরিণত হয় বিসিবি একাদশ। শাদাত হোসেন দিপু (৮*) ও অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহানের (৭*) ব্যাটে ৪ উইকেটে ১১৫ রান নিয়ে লাঞ্চে যায় বিসিবি একাদশ।

লাঞ্চের পর ৪৫ মিনিটেই গুটিয়ে যায় বিসিবি একাদশ, এই সময়ে খেলতে পেরেছে কেবল ১৩.৪ ওভার। পুরো সময়ই বল করেছেন রাখিম কর্নওয়াল ও জোমেল ওয়ারিক্যান। বিসিবি একাদশের বেশিরভাগ ব্যাটসম্যানই অবশ্য উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছেন। লাঞ্চের পর প্রথম শিকার জোমেল ওয়ায়রিক্যানের, স্লিপে দাঁড়ানো রাখিম কর্নওয়ালের দারুণ ক্যাচে দিপু ফিরেছেন ১৩ রান করে।

এরপর ক্রিজে আসা কোন ব্যাটসম্যানই ছুঁতে পারেননি দুই অঙ্ক। এক পাশ থেকে কর্নওয়াল অন্য পাশ থেকে বাঁহাতি অর্থোডক্স ওয়ারিক্যান চেপে ধরেন আকবর আলি, তৌহিদ হৃদয়, মাহমুদুল হাসান জয়দের। যদিও ঠিক চেপে ধরেছেন বলা যায়না কারণ কেউই ক্রিজে টিকতে পারেনি উল্লেখযোগ্য সময় পর্যন্ত।

ওয়ারিক্যানকে স্লগ সুইপ খেলতে গিয়ে উইকেটের পেছনে জশুয়া ডা সিলভার হাতে ক্যাচ দেন তৌহিদ হৃদয় (৭)। হালকা টার্নে আকবর আলিকে (৫) পরিষ্কার বোল্ড করেন কর্নওয়াল। অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান ১৩ রানে জীবন পেয়েও সেটা বিলিয়ে আসেন। জোমেল ওয়ারিক্যানকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে কাভেম হজের হাতে ধরা পড়েন এক্সট্রা কাভার অঞ্চলে। ৫৩ বলে করতে পেরেছেন ৩০ রান।

শেষ পর্যন্ত অল আউট হওয়ার আগে বিসিবি একাদশের সংগ্রহ ৪৭.৪ ওভারে ১৬০ রান। শেষ ব্যাটসম্যান সৈয়দ খালেদ আহমেদকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পেলে ৫ উইকেট পূর্ণ করেন রাখিম কর্নওয়াল।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by cricket97 (@cricket97bd)

৯৭ রানের লিড পাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় ইনিংসে শুরুতেই উইকেট হারায়। প্রথম ওভারের চতুর্থ বলেই খালি হাতে বিদায় নেয় শ্যাইনে মোসেলে। তবে জন ক্যাম্পবেল ও ক্রুমাহ বোনারের ১২৯ রানের জুটি জমে যায় ভালোভাবেই। তবে সেই জুটি ভাঙতে আবারও ভরসা পার্ট টাইম স্পিনার সাইফ হাসান, ফিরিয়েছেন ৬৮ রান করা জন ক্যাম্পবেলকে। সাইফ হাসানের দ্বিতীয় শিকার হয়ে ৪ রান করে তৌহিদ হৃদয়কে ক্যাচ দেন জার্মেইন ব্ল্যাকউড। তৌহিদ হৃদয়ের বলে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান কাইল মায়ের্স ফিরেছেন ৮ রান করে।

মাঝের এই ব্যাটিং বিপর্যয়ের ভীড়েও অবশ্য অনড় ছিলেন ক্রুমাহ বোনার। ছুটছেন সেঞ্চুরির পথে। কাভেম হজকে নিয়ে শেষ করেছেন দিনের খেলা। ৩ ঘন্টার বেশি সময় ক্রিজে থেকে বোনার অপরাজিত আছেন ৮০ রানে। ১২ টি চারের সাহায্যে সাজিয়েছেন ইনিংসটি। অন্যদিকে হজ অপরাজিত ১৯ রানে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দিন শেষ কর ৫ উইকেটে ১৭৯ রানে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (২য় দিন শেষে):

ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংসঃ ২৫৭/১০ (৭৯.১ ওভার), ব্র্যাথওয়েট ৮৫, ক্যাম্পবেল ৪৪, মোসেলে ১৫, বোনার ২, ব্ল্যাকউড ৯, হজ ০, জশুয়া ২০, মায়ের্স ৪০, জোসেফ ২৫, রোচ ৫*, গ্যাব্রিয়েল ৪; খালেদ ২১-৫-৪৬-৩, মুগ্ধ ১৪-৫-৩৬-০, শাহীন ৮-০-৩৯-০, দিপু ৫-১-২৯-১, রিশাদ ২৩.১-৩-৭৫-৫, সাইফ ৮-১-২৬-১

ও দ্বিতীয় ইনিংসে ১৭৯/৫ (৪৮ ওভার), ক্যাম্পবেল ৬৮, মোসলে ০, বোনার ৮০*, ব্ল্যাকউড ৪, মায়ের্স ৮, হজ ১৯, জশুয়া ০*; খালেদ ৬-০-১৬-১, মুগ্ধ ৭-২-৩২-১, সাইফ ৯-১-৩২-২, হৃদয় ৬-০-১৬-১

বিসিবি একাদশ ১ম ইনিংস ১৬০/১০ (৪৭.৪), সাইফ ১৫, সাদমান ২২, নাইম ৪৫, ইয়াসির ১, দিপু ১৩, নুরুল ৩০, হৃদয় ৭, আকবর ৫, জয় ৪, রিশাদ ১*, খালেদ ০; রোচ ৭-৪-১৩-১, কর্নওয়াল ১৬.৪-৩-৪৭-৫, জোসেফ ৭-০-৩১-১, ওয়ারিক্যান ৭-১-২৫-৩

২য় ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৭৬ রানে এগিয়ে।

চট্টগ্রাম থেকে, ক্রিকেট৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

চট্টগ্রামে সাকিবের অনুশীলনে ফেরা: স্বস্তি-অস্বস্তি

Read Next

তাইজুল যখন সবার ‘সাথী’

Total
1
Share