খালেদের জিতে যাওয়া, মুস্তাফিজের টিকে থাকা ও এবাদতের একরাশ অস্বস্তি

খালেদের জিতে যাওয়া, মুস্তাফিজের টিকে থাকা ও এবাদতের একরাশ অস্বস্তি

এমনিতে বাংলাদেশি লেজের ব্যাটসম্যানদের নিয়ে হতাশার কমতি নেই। সাম্প্রতিক সময়ে টেস্টে তাইজুল ইসলাম কিছুটা হলেও ক্ষতে প্রলেপ দিচ্ছেন। তবে এবাদত হোসেন, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমানদের নিয়ে ভরসার জায়গাটা এখনো পাকা হওয়ার মত অবস্থায় নেই। আজ (২৮ জানুয়ারি) ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ সামনে রেখে লেজের ব্যাটসম্যানদের নিয়ে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে উৎসবের আমেজে ব্যাটিং অনুশীলন পর্ব চালিয়েছেন কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো, ফিল্ডিং কোচ রায়ান কুক।

স্টেডিয়ামের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশের নেটে ব্যাটিং অনুশীলন করেন মুশফিকুর রহিম, নাজমুল হোসেন শান্ত, মোহাম্মদ মিঠুনরা। উত্তর-পশ্চিম পাশের নেটে টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক, সাদমান ইসলাম, সাইফ হাসান, লিটন দাসদের নিয়ে তখন কাজ করছিলেন কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো, রায়ান কুক ও থ্রোয়াররা। স্বীকৃত ব্যাটসমন্যাদের পর্ব শেষে আসে মুস্তাফিজ, খালেদ, এবাদতদের ব্যাটিং ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ।

ব্যাট, প্যাড পরে প্রস্তুত খালেদ আহমেদ, কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো স্পিড আর্ম দিয়ে বল ছোঁড়ার আগে জিজ্ঞেস করলেন আউট হওয়া ছাড়া কত বল টিকতে পারবে। খালেদের জবাব ২০ বল। এরপর ফিল্ডিং কোচ রায়ান কুককে নিয়ে গুনে গুনে ২০ বল করেন ডানহাতি এই পেসারের জন্য। নেটের পাশে চেয়ার নিয়ে ব্যাট, প্যাড পরে অপেক্ষায় তখন মুস্তাফিজুর রহমান। দূর থেকে খালেদকে সাহস জুগিয়ে যাচ্ছিলেন নানা মন্তব্যে।

বেশ কয়েকবার আউট হওয়ার মত পরিস্থিতিতে পড়লেও শেষ মুহূর্তে ডোমিঙ্গো-কুকের স্পিড আর্ম থেকে আসা বাউন্সার, গুড লেংথেরর বলগুলো ঠিকই সামলে নেন খালেদ। ২০ বলের চ্যালেঞ্জ জয়ের পর জায়গা ছেড়ে দিলেন মুস্তাফিজের জন্য, মুস্তাফিজও খালেদকে জানালেন অভিনন্দন, ‘তুই জিতে গেলি খালেদ’।

তার আগেই অবশ্য কোচকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে রাখলেন মুস্তাফিজ। হাসি ঠাট্টায় সাদরে সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলেন রাসেল ডোমিঙ্গো। মুস্তাফিজের ভাষায়, ‘কোচ, আমাকে আউট করতে হলে অন্তত ১ ঘন্টা বল করতে হবে তোমাকে।’

নেটে এসেই রায়ান কুক, ডোমিঙ্গোদের সামলেছেন দারুণভাবে। বাউন্সারের সাথে অফ স্টাম্পের বাইরের ঝুকিপূর্ণ বলগুলো ছেড়েছেন সাবলীলভাবে। মাঝে মাঝে কিছু শট খেলেছেন পাকা ব্যাটসম্যানের মত। যেসব শটে মুগ্ধ হয়ে টাইগারদের ফিল্ডিং কোচ বেশ কয়েকবার বলেছেন ‘গ্রেট শট ফিজ।’

মিনিট কয়েক পর নন স্ট্রাইক প্রান্তে এসে দাঁড়ান কম্পিউটার এনালিস্ট শ্রীনিবাসন চন্দ্রশেখর। নিয়ম মত মুস্তাফিজের ব্যাটিংও ভিডিও করা শুরু করেন। আর একটু পর পর দিচ্ছেন দিক নির্দেশনা। এর মাঝেই বল ছুঁড়তে গিয়ে কয়েকবার মাথার হ্যাট পড়ে যায় রাসেল ডোমিঙ্গোর। এ নিয়েও বেশ মজা করেন মুস্তাফিজ, খালেদরা। বিসিবি একাদশের অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহানও পাশে এসে টাক মাথার ডোমিঙ্গোকে নিয়ে মজা করতে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কোচ আপনি চুল কাটান কোথায়?’

ঠিক যতটা আনন্দ আর খুনসুটিতে সময় কাটছিল খালেদ, মুস্তাফিজের ততটাই অস্বস্তিতে পেসার এবাদত হোসেন। বারবার পরাস্ত হওয়া এবাদতের অবস্থা ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি।’ ডোমিঙ্গো, কুক কিংবা থ্রোয়ার কেউই বল ছুঁড়ে তৃপ্ত হতে পারছিল না। কারণ ক্রিকেট ব্যাকরণের ছিটেফোঁটাও খুঁজে পাওয়া যায়নি তার ব্যাটিংয়ে। ফুট ওয়ার্ক, হেড পজিশন, সোল্ডার পজিশন কোন কিছুই একবার বলে ঠিক করে দেওয়া যাচ্ছিল না। বিশেষ করে ভাষাগত জটিলতায় রাসেল ডোমিঙ্গো-কুকের পরামর্শের বিপরীতে তার একটাই জবাব ‘ওকে, ওকে।’

নেট বদলিয়ে দেশি দুই থ্রোয়ারকে খেলতে দেওয়া হয় এবাদতকে। সেখানেও দফায় দফায় ব্যর্থ এই ডানহাতি পেসার। সোজা বলও বারবার মিস করেছে তার ব্যাট। ফুট ওয়ার্ক নিয়ে পাশের নেট থেকে রায়ান কুকের দেওয়া নির্দেশনাও বারবার ভুল করছিলেন এবাদত। সোজা বল সোজা ব্যাটে খেলতে সামনের ও পিছনের পায়ের দূরত্ব কমাতে বললেও সেটা ঠিকঠাক ধরতে পারছিলেন না। মজার ছলেই কুক দূর থেকে বললেন, এবাদত, এমনভাবে দাঁড়িয়েছো মনে হচ্ছে তুমি টয়লেট চেপে রেখেছো (হাসি)।’

লেজের ব্যাটসম্যানদের যেমন খুশি তেমন ব্যাটিংয়ের বাইরে বাকিরা অবশ্য ছিলেন সিরিয়াস। লম্বা সময় অনুশীলন করেছেন মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হক, সাদমান ইসলাম, লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, তামিম ইকবালরা। আঙ্গুলের চোট কাটিয়ে ফেরা টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হককে নিয়ে কাজ করেছেন ব্যাটিং কোচ জন লুইস, প্রধান কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো ও রায়ান কুক। গ্রানাইটে কাটার শট খেলানোর দক্ষতা নিয়েও কাজ করেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। রায়ান কুকের পরামর্শের হাতের অবস্থা, ব্যাটের পজিশন এসব নিয়ে নির্দেশনা দেন কুক।

মুশফিকুর রহিম শুরুটা করেন পেসারদের দিয়ে। যেখানে বল খেলার চাইতে ছাড়াতেই দিয়েছেন বেশি মনযোগ। তবে হাসান মাহমুদের বলে ছাড়তে গিয়েও হয়েছেন বোল্ড। স্পিন সামলাতে গিয়ে ম্যাচ আবহ তৈরি করেই চালিয়ে যান অনুশীলন। তাইজুল ইসলাম, নাইম হাসানদের বিভিন্ন পজিশনের বল খেলে সিঙ্গেল বের করার তাড়না দেখা। গ্রানাইটেও একজন নেট বোলারকে নিয়ে কাটিয়েছেন লম্বা সময়।

ইয়াসির আলি রাব্বি, সাদমান ইসলাম, সাইফ হাসানরা ছিলেন কোচ রাসেল ডোমিঙ্গোর কড়া নজরে। তার মাঝেই থ্রোয়ারের বল সামলাতে গিয়ে কনুইয়ে চোট পান রাবি, ঝরেছে রক্তও। তবে ফিজিও জুলিয়ান ক্যালেফাতোর পর্যবেক্ষণ শেষে কিছুক্ষণ পরই ব্যাট হাতে নেটে আসেন। যদিও চার বল খেলেই চলে যান বিশ্রামে। মিনিট দশেক পরে অবশ্য সামলেছেন বোলারদের আরও কিছু ডেলিভারি।

শেষ ওয়ানডেতে কুঁচকির চোট পাওয়া সাকিব আল হাসান অবশ্য এদিনও ছিলেন না মাঠে। আগামীকাল (২৯ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে একমাত্র তিনদিনের প্রস্তুতি ম্যাচ শুরু হবে। যেখানে টাইগারদের প্রাথমিক টেস্ট স্কোয়াডের পাঁচ জন খেলবেন ক্যারিবিয়ায়নদের বিপক্ষে। নুরুল হাসান সোহানের নেতৃত্বাধীন বিসিবি একাদশ এম এ আজিজে তিনদিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেললেও মূল দলের বাকি ক্রিকেটাররা জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ম্যাচ আবহে করবে অনুশীলন।

চট্টগ্রাম থেকে, ক্রিকেট৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

টস জিতলেন মোসাদ্দেক, মারাঠা একাদশে ৩ বাংলাদেশি

Read Next

নিজেকে পরিপূর্ণ অলরাউন্ডার হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান

Total
8
Share