মিরাজের লড়াইটা মিরাজের সঙ্গেই

সিনিয়রদের পরামর্শে এমন ক্ষুরধার মিরাজ

পড়তি ফর্মে দলের নিয়মিত জায়গাটা ধীরে ধীরে কঠিন হয়ে পড়ছিল মেহেদী হাসান মিরাজের। সাথে বেশ কয়েকজন প্রতিভাবান স্পিনার রাডারে চলে আসায় প্রতিদ্বন্দ্বিতার চাপটাও অনুভব করেছেন নিশ্চিতভাবেই। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ শুরুর আগেই জানিয়েছেন এই সিরিজ দিয়ে ক্যারিয়ারটা নতুন করে সামনে টেনে নিতে চান। অন্তত দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ম্যাচ সেরা হয়ে তারই ছাপ রেখেছেন। মিরাজ বলছেন কখনোই প্রতিদ্বন্দ্বি নিয়ে ভাবেন না, তার লড়াইটা নিজের সাথে।

প্রথম ওয়ানডেতে ২৯ রানে এক উইকেটের পর শুক্রবার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ২৫ রানে নিলেন চার উইকেট। যা তার ক্যারিয়ার সেরা ওয়ানডে বোলিং ফিগার। মিরাজের স্পিন ঘূর্ণি দারুণ অবদান রেখেছে ক্যারিবিয়ানদের ১৪৮ রানে আঁটকে দিতে। ২০১৮ সালে ২৯ রানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই নেওয়া ৪ উইকেট ছিল আগের ক্যারিয়ার সেরা। ক্যারিয়ার সেরা বোলিং দিয়ে ম্যাচ সেরার পুরষ্কারও জিতেছেন।

মিরাজ বলছেন দলের প্রতিযোগিতার যে প্রভাব সেটিকে নিজের মধ্যে নিয়ে আসেন, আর সেই লড়াইটা কেবল তার নিজের সাথেই। ম্যাচ পরবর্তী ভার্চুয়াল প্রেস কনফারেন্সে এই অলরাউন্ডার স্বীকার করেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টিকে থাকতে পারফরম্যান্সের বিকল্প নেই।

২৩ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার বলেন, ‘একটা জিনিস দেখেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পারফর্ম করে খেলতে হবে। আমি যদি আল্টিমেটলি ভালো না করি তাহলে আমাকে জায়গা ছেড়ে দিতে হবে আরেকটা প্লেয়ারকে সুযোগ দিতে হবে। এখন দেখেন কম্পিটিশন অনেক বেশি, প্রত্যেকটা প্লেয়ারের কম্পিটিশন করে খেলতে হচ্ছে।’

‘কিন্তু দিনশেষে আমার নিজের সাথে নিজের প্রতিযোগিতাটা বেশি। কে বসে আছে বা খেলছে না সেটা আমি চিন্তা করি না। কিন্তু আমি সবসময়ই চেষ্টা করি যে নিজের সাথে নিজের প্রতিযোগিতা করার জন্য। যদি নিজের সাথে নিজে জিতি তাহলে অনেক ভালো অনুভব করি এবং খুশি থাকি।’

২০১৯ সালে ১০০ দিনের চুক্তিতে বাংলাদেশের স্পিন বোলিং কোচের দায়িত্ব পান নিউজিল্যান্ডের কিংবদন্তী স্পিনার ড্যানিয়েল ভেট্টোরি। তবে নানা ছুঁতোয় ও শেষদিকে করোনা প্রভাবে খুব বেশি কাজ করা সম্ভব হয়নি টাইগার স্পিনারদের নিয়ে। এই ফাঁকা সময়ে দেশি স্পিন কোচ সোহেল ইসলামের সান্নিধ্যেই নিজেকে ঘষামাঝা করেছেন মিরাজ। সোহেল ইসলাম বর্তমানে জাতীয় দলের ভারপ্রাপ্ত স্পিন কোচও।

মিরাজ এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘জাতীয় দলে ড্যানিয়েল ভেট্টোরি ছিল, ও ভালোভাবে আমাদের সাথে কাজ করতে পারেনি। করোনার সময় বা বিভিন্ন সময়ের জন্য। কিন্তু আমাদের ব্যক্তিগত যে কোচ ছিলেন সোহেল (ইসলাম) স্যার, তার সাথে আমরা সবাই কাজ করেছি। বিশেষ করে আমি ব্যক্তিগতভাবেও কাজ করেছি। দেশের মাটিতে যখন বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ ও প্রেসিডেন্টস কাপ খেলছিলাম তখন আমার বোলিংটা অত ভালো হচ্ছিল না।’

‘আমি নিজেও অনেক হতাশ ছিলাম আমার বোলিং নিয়ে যে এত ভালো হচ্ছে না কেন, কীভাবে করলে ভালো হবে, আমি সবসময় স্যারের সঙ্গে কথা বলেছি, এবং স্যার সব সময় আমাকে নিয়ে কাজ করেছে। সে অনেক অতিরিক্ত পরিশ্রম করেছে আমার জন্য, সে জন্য আমি অনেক ধন্যবাদ দিতে চাই সোহেল স্যারকে এবং আসলে অনেক সাহায্য করেছেন।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

যে ভাবনায় আগে ব্যাটিং নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ

Read Next

ম্যাথুসের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে গলে ১ম দিন শ্রীলঙ্কার

Total
2
Share