সাকিবের অলরাউন্ড নৈপুণ্য, বাংলাদেশের বড় জয়

সাকিবের অলরাউন্ড নৈপুণ্য, বাংলাদেশের বড় জয়

১২৩ রানের সহজ লক্ষ্য পেয়েও মিরপুরের রহস্যময়ী উইকেটে প্রথম ম্যাচে অস্বস্তির জয় পায় বাংলাদেশ। তবে আজ (২২ জানুয়ারি) দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৪৮ রানে আঁটকে দিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যেই ৭ উইকেটের জয় পায় টাইগাররা। ফলে ১ ম্যাচ হাতে রেখেই ক্যারিবিয়ায়নদের বিপক্ষে টানা তিন ওয়ানডে সিরিজ নিশ্চিত করলো তামিম ইকবালের দল। যা ক্যারিবিয়ায়নদের বিপক্ষে সবমিলিয়ে পঞ্চম ওয়ানডে সিরিজ জয়।

ছোট লক্ষ্যে আগের ম্যাচে যতটা অস্বস্তিতে ছিল বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা আজ শুরু থেকেই ততটা সাবলীল তামিম ইকবাল, লিটন দাসরা। যতক্ষণ ক্রিজে ছিলেন ততক্ষণই ছন্দে ছিলেন লিটন দাস। তামিম ইকবালের সাথে ৩০ রানের জুটি ভাঙে আগের ম্যাচের মত স্পিনার আকিল হোসেনের বলে লিটন আউট হলে। ২৪ বলে ৪ চারে ২২ রান করে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন লিটন।

লিটনের বিদায়ের পর নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে ৪৭ রানের জুটি তামিমের। তিন নম্বরে উন্নত হওয়া শান্ত এদিনও হয়েছেন ব্যর্থ। করতে পারেননি ১৭ রানের বেশি। লিটন, শান্তরা ইনিংস বড় করতে না পারলেও এই সিরিজ দিয়ে পূর্ণ মেয়াদের অধিনায়কত্বের যাত্রা শুরু করা তামিম ব্যাট হাতে হাঁকিয়েছেন ফিফটি। প্রথম ওয়ানডেতেও তার ব্যাট থেকে আসে দলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস (৪৪)।

সাকিব আল হাসানকে নিয়ে জয়ের পথ অনেকটাই মসৃণ করে দেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ৭৫ বলে ২ চার ১ ছক্কায় ফিফটিতে পৌঁছানোর পরের বলেই অবশ্য সাজঘরে ফেরেন তামিম। তার বিদায়ের পর জয়ের জন্য দলের প্রয়োজন ছিল মাত্র ৪০ রান। যা সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমের অবিচ্ছেদ্য জুটিতে অনায়েসেই টপকায় বাংলাদেশ।

১০০ বল হাতে রেখে জয় নিশ্চিতের পথে সাকিব আল হাসান অপরাজিত ছিলেন ৪৩ রানে, মুশফিকুর রহিম ৮ রানে। ৫০ বলে ৪ চারে ইনিংসটি সাজান সাকিব। ক্যারিবিয়ায়নদের হয়ে আকিল হোসেন, জেসন মোহাম্মদ ও রেমন রেইফার একটি করে উইকেট নেন।

আগের ম্যাচের ব্যাটিং ব্যর্থতাকে গুরুত্ব দিয়ে এদিন ব্যাটিং অর্ডার লম্বা করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে টাইগার বোলারদের দাপটের দিনে পরিণতিটা হয়েছে একই। স্রোতের বিপরীতে বরম্যান পাওয়েলের লড়াকু ইনিংসে ভর করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ থামে ১৪৮ রানে।

টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ক্যারিবিয়ান দলপতি জেসন মোহাম্মদ। আগের ম্যাচের তুলনায় উইকেট ব্যাটিং বান্ধব হলেও বাংলাদেশ অধিনায়ক তামিম ইকবাল অবশ্য জানিয়েছেন টস জিতলে তিনি ফিল্ডিং নিতেন। ফলে প্রতিপক্ষ অধিনায়ক টস জিতে ব্যাটিং নিলেও দ্বিধা দ্বন্দ্বে ভুগতে হয়নি তামিমকে।

টাইগার বোলাররাও অধিনায়কের ভাবনাটা পরীষ্কার করে দিলেন ক্যারিবিয়ায়ন ব্যাটসম্যানদের চেপে ধরে। স্পিন-পেসে দ্বিমুখী আক্রমণে নাকাল করেছে খর্ব শক্তির ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। মেহেদী হাসান মিরাজের ৪ উইকেট শিকারের দিনে (ক্যারিয়ার সেরা) আগের ম্যাচের মত বল হাতে উজ্জ্বল সাকিব, মুস্তাফিজরাও।

আগের ম্যাচে ক্যারিবিয়ায়নদের ৬ অভিষিক্তের একজন ছিলেন পেসার চেমার হোল্ডার, ব্যাটিং গভীরতা বাড়াতে আজ তাকে সরিয়ে অভিষেক করানো হয় বাঁহাতি ব্যাটসম্যান কেজর্ন ওটলেকে। সুনীল অ্যামব্রিসের সাথে ওপেন করতে নেমে দৃঢ় ব্যাটিংয়ের আভাস দিয়েছিলেন।

কিন্তু ৪৪ বলে ২৪ রানের ইনিংসটি থামে মেহেদী মিরাজের বলে তামিম ইকবালকে ক্যাচ দিলে। তার আগেই মুস্তাফিজ ফিরিয়েছেন অ্যামব্রিসকে (৬)। ৪ ওভারের প্রথম স্পেলে ২ মেডেনে ২ রান খরচায় বাঁহাতি এই পেসারের শিকার ১ উইকেট। উইকেট সংখ্যার চাইতে এদিনও নতুন আয়ত্ব করা ইনসুইংয়ে ব্যাটসম্যানকে বেশি বিভ্রান্ত করেছেন।

এরপর একে একে ফিরে যান জশুয়া ডা সিলভা (৫), আন্দ্রে ম্যাককার্থি (৩) ও আগের ম্যাচের সফল ব্যাটসম্যান কাইল মায়ের্স (০)। সাকিব-মেহেদী তোপে ৪১ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে বসে সফরকারীরা। আউট হওয়া প্রথম ৫ জনের মধ্যে কেবল অভিষিক্ত ওটলেই ছুঁয়েছেন দুই অঙ্ক। কাইল মায়ের্সকে অবশ্য ফিরতে হয়েছে দুর্ভাগ্যজনক রান আউটে কাটা পড়ে।

ক্রুমাহ বোনার ও অধিনায়ক জেসন মোহাম্মদ ২৬ রানের জুটিতে কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। জেসন মোহাম্মদ ১১ রান করে সাকিবের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন। ৪ রানের ব্যবধানে পেসার হাসান মাহমুদের অফ স্টাম্পের বাইরের বল খেলতে গিয়ে বোল্ড হন ২০ রান করা বোনারও। মিরাজের তৃতীয় শিকার হয়ে ২ রান করে ফিরেছেন রেমন রেইফার।

৮৮ রানে ৮ উইকেট হারানো ক্যারিবিয়ায়নদের সম্মানজনক পুঁজি এনে দেন রবম্যান পাওয়েল। ৯ম উইকেট জুটিতে আলঝারি জোসেফকে নিয়ে যোগ করেন ৩২ রান। মুস্তাফিজের শিকার হয়ে জোসেফ ফিরেছেন ১৫ রান করে। শেষ উইকেট জুটিতে আকিল হোসেনকে (১২) নিয়ে স্কোরবোর্ডে তোলেন আরও ২৮ রান।

তবে মিরাজকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে পাওয়েল স্টাম্পিং হলে ক্যারিবিয়ানদের ৪৩.৪ ওভার স্থায়ী ইনিংস থামে ১৪৮ রানেই। আউট হওয়ার আগে ডানহাতি এই ব্যাটসম্যানের ব্যাট থেকে আসে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৪১ রান। ৬৫ বলে ২ চার ১ ছক্কায় ইনিংসটি সাজান পাওয়েল। ৯.৪ ওভারের স্পেলে ২৫ রান খরচায় মিরাজের শিকার ক্যারিয়ার সেরা ৪ উইকেট। সাকিব, মুস্তাফিজ ভাগাভাগি করেন দুইটি করে উইকেট। হাসান মাহমুদের শিকার এক উইকেট।

সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি মাঠে গড়াবে আগামী ২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৪৮/১০ (৪৩.৪), অ্যামব্রিস ৬, ওটলে ২৪, জশুয়া ৫, ম্যাককার্থি ৩, জেসন ১১, মায়ের্স ০, বোনার ২০, রবম্যান ৪১, রেমন ২, জোসেফ ১৭, আকিল ১২*; মুস্তাফিজ ৮-৩-১৫-২, হাসান ৯-০-৫৪-১, মিরাজ ৯.৪-০-২৫-৪, সাকিব ১০-০-৩০-২

বাংলাদেশ ১৪৯/৩ (৩৩.২), লিটন ২২, তামিম ৫০, শান্ত ১৭, সাকিব ৪৩*, মুশফিক ৯*; আকিল ৯.২-০-৪৫-১, জেসন ৭-০-২৯-১, রেইফার ৫-০-১৮-১

ফলাফলঃ বাংলাদেশ ৭ উইকেটে জয়ী (১০০ বল হাতে রেখে)

ম্যাচসেরাঃ মেহেদী হাসান মিরাজ (বাংলাদেশ)।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

৩ দিনের ম্যাচের স্কোয়াডে আকবর-জয়রা

Read Next

ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে গেলে বদলাবে একাদশ

Total
24
Share