সাকিব-মুস্তাফিজদের সাথে পথ চলাটা দীর্ঘ করতে চান শরিফুল

শরিফুল ইসলাম

কিছু বাস্তবতা মাঝে মাঝে স্বপ্নকেও হার মানায়। ২০১৫ সালে মুস্তাফিজুর রহমানের অভিষেক ম্যাচ দেখে জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন দেখেন তখনো ক্রিকেট বলে অনুশীলন শুরু না করা শরিফুল ইসলাম। অথচ ৫ বছরের ব্যবধানে জাতীয় দলের জার্সিতে মুস্তাফিজের সতীর্থ হওয়ার দ্বারপ্রান্তে বাঁহাতি এই পেসার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের মূল স্কোয়াডে জায়গা হয়েছে তার। যুব বিশ্বকাপ জয়ী দলের শরিফুল সুযোগ পেলে দিতে চান প্রতিদান।

১৯ বছর বয়সী এই পেসার বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে নিজের দারুণ পারফরম্যান্সের সাথে সম্প্রতি শেষ হওয়া বিসিবির দুইটি ঘরোয়া টুর্নামেন্টে ভালো করার পুরস্কার পেয়েছেন। গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামের হয়ে সর্বশেষ বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে নিয়েছেন ১০ ম্যাচে ১৬ উইকেট।

জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া উচ্ছ্বসিত শরিফুল এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো লাগছে খবরটা শোনার পরে। অনেক খুশি লাগছিল যে আমি প্রথমবারের মত জাতীয় দলের স্কোয়াডে আছি। ইন শা আল্লাহ ভালো কিছু করার চেষ্টা করবো।’

‘অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের পরে বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ, প্রেসিডেন্টস কাপে আলহামদুলিল্লাহ মোটামুটি ভালো খেলেছি। ইন শা আল্লাহ জাতীয় দলের সেরা একাদশে যদি জায়গা পাই তাহলে সেই পারফরমেন্সটা দেওয়ার চেষ্টা করব। ইন শা আল্লাহ জায়গাটা ধরে রাখার চেষ্টা করব। আল্লাহ যতটুকু কপালে রাখে।’

চূড়ান্ত ওয়ানডে স্কোয়াডে নাম উঠেছে গতকাল (১৬ জানুয়ারি) তবে প্রাথমিক স্কোয়াডে থাকায় ১০ জানুয়ারি থেকেই জাতীয় দলের নিয়মিত ক্রিকেটারদের সাথে অনুশীলন করছেন। জাতীয় দলের পরিবেশটা আঁচ করতে পেরেছেন তখন থেকেই।

স্বপ্ন পূরণ হওয়া শরিফুলের চাওয়া তামিম, সাকিব, মুস্তাফিজদের সাথে পথ চলাটা যেন দীর্ঘ হয়, ‘আলহামদুলিল্লাহ, অনেক ভালো লাগছে জাতীয় দলের পরিবেশটা। যখন অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলতাম বা যখন থেকে ক্রিকেট খেলা শুরু করেছি তখন থেকেই ভাবতাম যে সাকিব ভাই, মুশফিক ভাই, রিয়াদ ভাই, তামিম ভাই, মুস্তাফিজ ভাই ওদের সাথে যদি খেলতে পারি, থাকতে পারি। এটা স্বপ্ন ছিল, পূরণ হয়েছে। ইন শা আল্লাহ চেষ্টা করব যে পারফর্ম করে কন্টিনিউ তাদের সাথে থাকার জন্য।’

ইতোমধ্যে দেশের প্রতিষ্ঠিত ক্রিকেটারদের সান্নিধ্য পেয়ে শেখা শুরু করেছেন শরিফুল, ‘তারা আমার ভুলটা ধরিয়ে দিচ্ছে, নিজের সেরাটা দেওয়ার জন্য যেটা করা দরকার সেটা শিখাচ্ছে। ইন শা আল্লাহ গেমের ভেতরে সেটা যেন প্রভাব না ফেলে। তার জন্য প্র্যাকটিসেই একবারে সব কিছু ধরিয়ে দিচ্ছে। ভুল সঠিক করার জন্য যথেষ্ট পরিমাণ চেষ্টা করছি।’

ঐক্যবদ্ধ পারফরম্যান্সে যুব বিশ্বকাপ জয় করেছে আকবর আলি, শরিফুল ইসলাম, রাকিবুল হাসানরা। শরিফুলের বিশ্বাস জাতীয় দলেও এমন কিছুতে মিলতে পারে বড় সাফল্য।

১৯ বছর বয়সী বাঁহাতি যোগ করেন, ‘(যুব বিশ্বকাপে) বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের মূল একটা শক্তি ছিল যে সবাই আমরা একত্র ছিলাম, দেশের জন্য লড়ছি। সেই একতা যদি থাকে, আমরা সবাই যদি ফাইট করতে পারি দেশের জন্য তো ইন শা আল্লাহ আমরা আবার একদিন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হব জাতীয় দলের হয়ে।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

কেন্দ্রীয় চুক্তির তালিকা তৈরিতে বিপাকে বিসিবি

Read Next

ব্রিসবেন টেস্টে লড়াই জমিয়ে দিয়েছে শারদুল-সুন্দর

Total
37
Share