মাশরাফি-রিয়াদ ইস্যুতে সাকিব দিলেন ফাওয়াদ আলমের উদাহরণ

মাশরাফি-রিয়াদ ইস্যুতে সাকিব দিলেন ফাওয়াদ আলমের উদাহরণ

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় থাকছেন না বলে মাশরাফি বিন মর্তুজাকে বাদ দিয়েই আসন্ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের জন্য ওয়ানডে স্কোয়াড ঘোষণা করেছে নির্বাচকরা। ফলে বাংলাদেশ ক্রিকেটে মাশরাফি অধ্যায়ের অবসান দেখে ফেলেছে অনেকেই। কিন্তু মাশরাফি নিজে অবসরে না যাওয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে বলার উপায়ও নেই। টাইগার অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান অবশ্য কৌশলী উত্তরে জানিয়েছেন এখনো সুযোগ আছে মাশরাফির।

টেস্ট দল থেকে বাদ পড়া মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও লড়াই করে জায়গা ফিরে পাবেন বলে আশাবাদী সাকিব। দুজনের সামনে আশার আলো হিসেবে সাকিব দেখিয়েছেন পাকিস্তানের বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ফাওয়াদ আলমের উদাহরণ। প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির দুই টেস্ট পরই বাদ পড়া ফাওয়াদ আলম ১০ বছর পর টেস্ট দলে ফিরে গত মাসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হাঁকিয়েছেন সেঞ্চুরি।

টেস্টে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের জায়গাটা গত কয়েকবছর ধরেই নড়বড়ে। এমনকি সর্বশেষ ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টেও ছিলেন স্কোয়াডের বাইরে। তারই ধারাবাহিকতায় বাদ পড়লেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রাথমিক স্কোয়াড থেকেও।

বেসরকারি টিভি চ্যানেল ‘একাত্তরকে’ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিয়াদের বাদ পড়া প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, ‘এটা আসলে টিম ম্যানেজমেন্ট ও নির্বাচকদের ব্যাপার সম্পূর্ণ। তারা কোনটা ভালো মনে করে, ফিউচার কি চিন্তা করছে সেভাবেই পরিকল্পনা করছে হয়তো। কিন্তু একটা সিরিজে বাদ পড়া মানেই আমি মনে করিনা যে সবসময়ের জন্য বাদ পড়া। উনি যেভাবে লড়াই করে ফিরে আসে আমি আশাবাদী এমন কিছু পরের সিরিজেই হতে পারে।’

‘এই সিরিজের পর আমাদের টেস্ট খেলার বড় একটা বিরতিও আছে। সুতরাং পুনরায় ভাবার সময় পাবে, এর মধ্যে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলা হলে নির্বাচকরা তার পারফরম্যান্স দেখার সুযোগ পাবে। আসলে অনেকগুলো জায়গার উপর নির্ভর করে। এই মুহূর্তে নির্বাচকরা হয়তো ভেবেছে এটাই তাদের সেরা দল।’

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ টেস্ট ফরম্যাট থেকে বাদ পড়েছেন তবে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে এখনো দলের অটো চয়েজ, বর্তমান টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কও তিনি। তবে শুধু শুধু ওয়ানডে খেলা মাশরাফির বাদ পড়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট থেকে মাশরাফি নামক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে বলছেন অনেকেই, কঠিন বাস্তবতা আর নির্বাচকদের দেওয়া যুক্তিও তেমনটারই আভাস দেয়।

কিন্তু আশাবাদী সাকিব এখনই শেষ বলে দিতে নারাজ, রিয়াদ-মাশরাফি দুজনের ক্ষেত্রেই ফাওয়াদ আলমের উদাহারণ টেনে বলেন, ‘আবারও বলতে হয় অনেক কঠিন একটা সময়, কিন্তু বাস্তবতা এটাই। আমি যেটা বললাম যেহেতু উনি (মাশরাফি) এখনো নিজেকে অ্যাভেইলেবল রেখেছেন, আপনি কখনো বলতে পারেন না… উনি যখন আমাদের সাথে টি-টোয়েন্টি খেলল মোটামুটি বেশ আশাজনক পারফরম্যান্সই ছিল।’

‘তো স্বাভাবিকভাবে সামনে যদি প্রিমিয়ার লিগ বা আমাদের ঘরোয়া ওয়ানডে খেলাগুলো হয় এবং ভালো পারফরম্যান্স করে আমার মনে হয়না এমন কিছু যে নির্বাচক কিংবা টিম ম্যানেজমেন্ট চিন্তা করতে পারবেনা। যদিও অনেক সময় চিন্তা করে যে আমরা সামনের দিকে এগোতে চাই। কিন্তু এই পরিস্থিতিগুলো সবসময় উন্মুক্ত থাকে সব প্লেয়ারের জন্য। যতক্ষণ না সে নিজে থেকে অবসর নেয়।’

‘আমি যদি পাকিস্তানের ফাওয়াদ আলমের উদাহরণ দেই, ওর প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির ১০ বছর পর এসে আবার সেঞ্চুরি। এটাও বড় একটা বিষয়। সাধারণত কেউ তো চিন্তাও করেনি যে সে কামব্যাক করবে এবং খেলবে। সে জায়গা থেকে ও যেহেতু করতে পেরেছে তো তাদের (মাশরাফি-রিয়াদ) ভেতরেও যদি এমন ইচ্ছে থাকে এবং পারফরম্যান্স হয় তাহলে এরকম দুইয়ে দুইয়ে চার মিলতেও পারে আবার।’

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

১৬ বছর পর পাকিস্তান সফরে যাবে ইংল্যান্ডের দুই দল

Read Next

করোনা টেস্টে পজিটিভ ইউএই’র সহ অধিনায়ক সহ দুই ক্রিকেটার

Total
17
Share