‘এটা খুবই সিলি, খুবই হাস্যকর’

এটা খুবই সিলি, খুবই হাস্যকর-মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন

ইনজুরি এবং মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন যেনো সমার্থক শব্দ হওয়ার উপক্রম। বয়সভিত্তিক থেকেই পিঠের পুরোনো চোট টেনে এনেছেন জাতীয় দলে। এরপর ভিন্ন ভিন্ন সময়ে যোগ হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন চোট। অনুশীলনে ফুটবল খেলতে গিয়ে পায়ের গোড়ালিতে ব্যথা পেয়ে বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের বেশিরভাগ ম্যাচেই ছিলেন দর্শক হয়ে। এবার টুর্নামেন্ট শেষ হতেই ধরা পড়লো লিগামেন্টের সমস্যা।

বর্তমানে তিন সপ্তাহের পর্যবেক্ষণে থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবির) ফিজিও, ট্রেনারদের অধীনে চলছে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া। তবে আসন্ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের আগে ফিটনেস ও রানিং টেস্ট দিয়ে ছাড়পত্র পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী এই অলরাউন্ডার।

বুধবার (২৩ ডিসেম্বর) মিরপুরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সাইফউদ্দিন বলেন, ‘টুর্নোমেন্ট চলাকালীন বায়ো বাবলে ছিলাম যার কারণে এমআরআইটা করতে পারিনি। যখন টুর্নামেন্ট শেষ হয় এমআরআই করি, এখানে লিগামেন্টে কিছু সমস্যা ছিল। আমি অনুভব করছিলাম যে নরমালি ব্যাথা হলে এক সপ্তাহ পর চলে যাওয়ার কথা।’

‘তারপর কিছুটা সমস্যা হচ্ছিলো। তো লিগামেন্টের সমস্যা হওয়ার পর এখন যে দেবাশীস (বিসিবির প্রধান চিকিৎসক) স্যার আছে ফিজিও আছে আমাদের শাওন ভাই, বায়েজিদ ভাই তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছি। উনাদের প্লান অনুযায়ী আগাচ্ছি আর কি।’

‘লিগামেন্টে কিছু সমস্যা বাকিটা তো আমি জানি না গ্রেড ১ নাকি ২, কিছু আছে নিশ্চয়ই যার কারণে আমাকে প্রায় তিন সপ্তাহের মতো উনাদের পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে এইটুকুই জানি।’

তবে সব ছাপিয়ে জানুয়ারিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের আগে ফেরার ব্যাপারে আশাবাদী সাইফউদ্দিন। তার আগে ফিটনেস, বোলিং ও রানিং টেস্ট দিয়ে ছাড়পত্র নিতে হবে বিসিবির।

সাইফউদ্দিন বলেন, ‘আমি আশাবাদী (ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে খেলার ব্যাপারে)। এরপর আমার কিছু টেস্ট নেবে বোলিং টেস্ট বা রানিং, ফিটনেস ওভারঅল । তো সবকিছু যদি টিকে যাই তাহলে হয়তো বা ছাড়পত্র পাব।’

বারবার চোটে পড়ে ক্যারিয়ার বাধাগ্রস্থ হওয়া প্রসঙ্গে তরুণ এই অলরাউন্ডার অবশ্য হতাশ হচ্ছেন না। বয়সভিত্তিক থেকে চোটের সাথে লড়াই, নিজের এই যাত্রায় অনুপ্রেরণা খুঁজে নেন মাশরাফি বিন মর্তুজাকে উদাহরণ হিসেবে টেনে।

২৪ বছর বয়সী সাইফউদ্দিন যোগ করেন, ‘আমরা যাত্রাটাই আসলে এভাবে কিছু করার নাই। প্রত্যেকটা খেলোয়াড় সমান না যেমন আপনি যদি দেখেন আমাদের রুবেল (হোসেন) ভাই মা শা আল্লাহ ১০ বছর ক্রিকেট ক্যারিয়ার উনি খুব বেশি কিন্তু ইনজুরিতে পড়েননি। পড়ছে টুকটাক কিন্তু লং টাইমের জন্য উনি বাইরে ছিলেন না। আবার যদি দেখেন মাশরাফি ভাই উনি আবার অনেক ইনজুরিতে পড়ে আবার কামব্যাক করছেন, আবার ইনজুরিতে পড়ছেন।’

তবে চোটের সাথে এই লড়াইটা উপভোগ করেন বাংলাদেশের হয়ে ২২ ওয়ানডে ও ১৫ টি-টোয়েন্টি খেলা এই অলরাউন্ডার।, ‘আসলে একেকটা খেলোয়াড়ের ভূমিকা বা ভাগ্য একেক রকম। আসলে ভাগ্যের উপরে তো কারও হাত নাই। আমি যথাযথ চেষ্টা করি নিজেকে ফিট রাখার কিন্তু সম্প্রতি আমি যেটা ইনজুরড হইছি এটা খুবই সিলি, খুবই হাস্যকর (অনুশীলনে ফুটবল খেলতে গিয়ে)।’

‘ইনজুরি আসলে কারও হাতে থাকে না কন্ট্রোলে থাকে না। তারপরও এসব মানিয়েই আসলে লাইফ। আর একটা জিনিস লাইফে স্ট্রেস না থাকলে লাইফটা মজা নেই। আমি আসলে এটা এনজয় করি।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

ভারতকে স্টিভ স্মিথ- ‘ভুলে যেও’

Read Next

ওয়ানডেতে বাংলাদেশ ফেভারিট, টেস্টে আইডিয়া নেই!

Total
1
Share