মাঠে সেরা হবার লক্ষ্যে নিজেকে নিংড়ে দেন শামীম

মাঠে সেরা হবার লক্ষ্যে নিজেকে নিংড়ে দেন শামীম

মূলত ব্যাটসম্যান, ক্রিকেট শুরুটাও হয়েছে ধুম ধাড়াক্কা শট খেলার সক্ষমতা দিয়ে। তবে বয়সভিত্তিক বিশেষ করে অনূর্ধ্ব-১৯ দলে ডাক পেয়ে টিম ম্যানেজমেন্টের চাওয়ায় অফ স্পিনে নিয়মিত অবদান রাখতে শুরু করেন। ব্যাটিং অর্ডারে অবনতি হতে হতে লোয়ার মিডলে চলে গেলেও বল হাতে নিয়মিতই যুব দলে সেবা দিয়ে আসছেন শামীম পাটোয়ারী। কিন্তু নিজের মূল কাজ ব্যাটিং থেকে মনযোগ সরাননি একটুও।

সর্বশেষ যুব বিশ্বকাপে টপ অর্ডার ও মিডল অর্ডারের ভালো করার সুবাদে খুব বেশি সুযোগ পাননি, একই অবস্থা গত বছর যুব এশিয়া কাপে। মাঝে মাঝে আসা সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতেও ব্যর্থ হয়েছেন। আবার বেশ কিছু ম্যাচে এই অলরাউন্ডার ব্যাট হাতে ঝড় তুলে জানান দিয়েছেন তিনি উপরের দিকে খেলতে প্রস্তুত।

নির্দিষ্ট করে কিছু ইনিংসের উদাহরণ দিয়ে বোঝানো যায় বড় শট খেলা ও দ্রুত রান তোলাতে তার সামর্থ্য কতটা। গত বছর নিউজিল্যান্ড সফরে মূল সিরিজ শুরুর আগে কেন্টেরবুরি আমন্ত্রিত একাদশের বিপক্ষে ১৪ বলে ৪২, যুব বিশ্বকাপের ওয়ার্ম আপ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া যুব দলের বিপক্ষে ৩৩ বলে অপরাজিত ৫৯, আরেকটি প্রস্তুতি ম্যাচে নর্থ ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে ৪১ বলে অপরাজিত ১০১, গত বছর খুলনায় শ্রীলঙ্কা যুব দলের বিপক্ষে ৬১ বলে ৯৫, হাই পারফরম্যান্স ইউনিটের দুইদিনের ম্যাচে ৪৬ বলে ৬৭ রানের ইনিংসগুলো উল্লেখযোগ্য।

২০১৫ সালে বিসিবি অনূর্ধ্ব-১৭ দলের হয়ে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি) অনূর্ধ্ব-১৭ দলের বিপক্ষে ৩ দিনের ম্যাচে কক্সবাজারে খেলেছেন ২২৬ রানের ইনিংসও। সদ্য সমাপ্ত বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে শুরুর কয়েক ম্যাচে ব্যাট হাতে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলেছেন কিছু ছোট ছোট ইনিংস। যদিও শেষ দিকে খেই হারিয়েছেন, সুযোগ পেয়েও কিছু ম্যাচে কাজে লাগাতে পারেননি।

কিন্তু সব ছাপিয়ে তরুণ এই অলরাউন্ডারের ফিল্ডিং নজর কেড়েছে সবার। প্রায় প্রতি ম্যাচেই প্রতিপক্ষের বেশ কিছু রান আঁটকে দিয়েছেন একক প্রচেষ্টায়। ফিল্ডিং দিয়ে যুব দল থেকেই আলাদা জায়গা দখল করেছেন ২০ বছর বয়সী তরুণ। গতি, শরীরের ভারসাম্য, টাইমিং এবং বলের গতিবিধি বোঝার সক্ষমতার দিক থেকে অন্যদের চেয়ে ঢের এগিয়ে শামীম পাটোয়ারী।

ফিল্ডিংয়ের জন্য আলাদা করে প্রশংসা পাওয়া শামীম ‘ক্রিকেট৯৭’ এর সাথে আলাপে জানান মাঠে ফিল্ডিং উপভোগ করেন দারুণভাবে। সেরা হওয়ার লক্ষ্যে নিজের সবটুকু নিংড়ে দেন এই অলরাউন্ডার।

বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের চ্যাম্পিয়ন দল জেমকন খুলনার এই ক্রিকেটার বলেন, ‘ফিল্ডিংয়ের ব্যাপারে তো আলহামদুলিল্লাহ সবাই অনেক অনেক অ্যাপ্রিশিয়েট করছে। ফিল্ডিং নিয়ে আলাদা বলতে ওরকম বাড়তি কোন কিছু করিনা। সেরাতো আসলে এমনি এমনি হওয়া যায়না, ফিল্ডিংয়ের সময়টা সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করি। অনুশীলনেও একটু মনযোগ দিই আরকি। মাঠে উপভোগ করি ফিল্ডিংটা।’

দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি পুরো টুর্নামেন্টই উপভোগ করেছেন বলে জানান শামীম, ‘অবশ্যই ভালো লাগছে, আল্লাহর রহমতে আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। টুর্নামেন্টটা অনেক উপভোগ করেছি, অনেক মজা করেছি আমরা।’

Image may contain: people playing sports and outdoor, text that says 'efood efood efood efood'

এদিকে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংটা তার স্বভাবজাত বলছেন চাঁদপুরের এই অলরাউন্ডার। আক্ষেপ আছে যুব দল ও বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে নিজের ব্যাটিং অর্ডার নিয়েও, ‘নির্দিষ্ট কোন কারণ না, আমি এভাবে (আক্রমণাত্মক) খেলতেই পছন্দ করি। আসলে ৪-৫ নম্বরে খেলতে পছন্দ করি। যেখানে (যুব দল ও বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে) খেলেছি এখানে আমি ব্যাটিং করিনা কখনো।’

আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে পছন্দ করা শামীমের প্রিয় ক্রিকেটার বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবাল। ছোট বেলার আদর্শকে জায়গা দিয়েছেন নিজের জার্সিতেও। যে কারণে তামিমের জার্সি নাম্বারই (২৮) শামীমের জার্সি নাম্বার।

জার্সি নাম্বারের ব্যাখ্যায় শামীম বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে তামিম ভাই আমার প্রিয় খেলোয়াড় ছিল। ঐ কারণেই তার জার্সি নাম্বারটা ব্যবহার করি আমি।’

মাশরাফি বিন মর্তুজা, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদদের সাথে একই দলে খেলা, ড্রেসিং রুম ভাগাভাগি করতে পারা যেকোন তরুণের জন্যই ভাগ্যের ব্যাপার।

Image may contain: 2 people, beard

Image may contain: 2 people, stadium and outdoor

Image may contain: one or more people and outdoor

নিজেকে তেমনই একজন ভাগ্যবান উল্লেখ করে শামীম যোগ করেন, ‘আমি মনে করি আমি অনেক ভাগ্যবান যে মাশরাফি ভাই, রিয়াদ ভাই, সাকিব ভাইদের দলে ছিলাম। অনেক সমর্থন দিয়েছেন তারা আমাকে, অনেক ভালো লেগেছে। মাশরাফি ভাই বলছে যে বেশি বেশি অনুশীলন করবি তাহলে আরও ভালো করতে পারবি।’

ফাইনাল শেষে ড্রেসিংরুমে উদযাপনের সময়ই দলের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের কাছ থেকে পেয়েছেন ব্যাট উপহার। যা অবাকই করেছে যুব বিশ্বকাপ জয়ী দলের এই সদস্যকে, ‘আমিতো পুরো অবাক হয়ে গেছি। ভাই দেখি আমাকে ডাকলো, এদিকে আয়। ডাক দিয়ে আমাকে ব্যাটটা দিল। আমি তো কি বলবো বুঝছিলাম না। অনেক ভালো লাগছে আমার।’

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের টুর্নামেন্ট সেরা একাদশ

Read Next

১ম টেস্টের পাকিস্তান দলে ইমরান, অধিনায়ক রিজওয়ান

Total
98
Share