মাশরাফিকে মাহমুদউল্লাহর বিশেষ ধন্যবাদ

জমজমাট ফাইনালে চট্টগ্রামকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন খুলনা
Vinkmag ad

মাশরাফি বিন মর্তুজা নামের জাদুর কাঠিতে বদলে যায় একটি ভাঙাচোরা দল। সতীর্থের কাঁধে তার হাত বাড়িয়ে দেয় মানসিক বল। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে নিয়ে গেছেন অন্য উচ্চতায়, তার অধীনে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেও সাফল্য আসে সহসায়। বিপিএলে অধিনায়ক হিসেবে জিতেছেন সর্বোচ্চ শিরোপা, বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপেও চ্যাম্পিয়ন তার দল জেমকন খুলনা। তবে এবার অধিনায়ক নন, টুর্নামেন্টের মাঝপথে লটারি ভাগ্যে ঠিকানা হয় মাহমুদউল্লাহর অধীন।

কিন্তু অধিনায়ক হোন বা না হোন শিরোপা ঠিকই খুঁজে নেয় মাশরাফিকে। এই নিয়ে পাঁচবার ঘরোয়া টি-টোয়েন্টির ফাইনাল খেললেন, জিতেছেন সবকটিতে। শুক্রবার গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামকে হারিয়ে শিরোপা উঁচিয়ে ধরেন মাশরাফি, মাহমুদউল্লাহ, কায়েস, শহিদুলরা। চ্যাম্পিয়ন হয়ে অধিনায়ক জানালেন মাশরাফির সাহায্য কতটা পেয়েছেন।

টুর্নামেন্টে মাশরাফি খেলেছেন চার ম্যাচ, প্রথম দুই ম্যাচে হারলেও জিতেছেন গুরুত্বপূর্ণ দুই ম্যাচেই। কোয়ালিফায়ারে তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে রানার আপ গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামকে অপেক্ষায় রেখে ফাইনাল নিশ্চিত করে খুলনা। ফাইনালেও একই প্রতিপক্ষকে পেয়ে টানা দুই পরাজয়ের স্বাদ উপহার দেয় মাশরাফিরা। লিগ পর্বে এলোমেলো খুলনা মাশরাফির অন্তর্ভুক্তিতে হয়েছে বেশ চাঙ্গা, যার শেষটা হয়েছে শিরোপায় রাঙা।

ফাইনালে দলের বিপদে ম্যাচ জেতানো ৭০ রানের ইনিংস খেলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। টুর্নামেন্টের শুরুর দিকে ভালো ব্যাটিং না করলেও মাশরাফির অভিজ্ঞতা যোগ হতেই সাফল্য ধরা দেয় বলে জানান জেমকন খুলনা অধিনায়ক। সর্বোপরি কৃতিত্ব দিলেন দেশের অন্যতম সফল অধিনায়ক মাশরাফিকে।

তিনি বলেন, ‘প্রথম কয়েক ম্যাচে আমি যেভাবে চাইছিলাম সেভাবে ব্যাটিং করতে পারছিলাম না। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি। খুশি যে আমি অবদান রাখতে পেরেছি। বিশেষ ধন্যবাদ আমার দলকে, বিশেষ করে ম্যাশকে। সে অনেক সাহায্য করেছে। তাঁর অভিজ্ঞতা আমাকে অনেক সাহায্য করেছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে। খুবই খুশি তাঁকে পেয়ে।’

চারবারের শিরোপা জয়ী অধিনায়ক বলে ফাইনালে মাশরাফির অভিজ্ঞতা দলকে দারুণ সাহায্য করবে বলে কোয়ালিফায়ারের পরই জানিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। শিরোপা জয়ের পর অন্তত সেটি প্রমাণিতও হল।

এদিকে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর সতীর্থদের আলাদা করে কৃতিত্ব দিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, ‘এর চেয়ে বেশি কিছু চাইতে পারি না। যেভাবে বোলাররা, ব্যাটসম্যানরা ও বিশেষ করে ফিল্ডাররা – যেভাবে তাদের সব ঢেলে দিয়েছে তাদেরকে কৃতিত্ব দিতেই হয়। আলহামদুলিল্লাহ্‌, আমরা আমাদের লক্ষ্য পূরণ করতে পেরেছি।’

আগে ব্যাট করে ফাইনালের মত বড় ম্যাচে চট্টগ্রামের জন্য ১৫৬ রানের বেশি লক্ষ্য দিতে পারেনি খুলনা। ৫১ রানে তিন উইকেট হারানোর পর বিপর্যয় কাটিয়ে রিয়াদের ৭০ রানের ইনিংসে দল পায় ১৫৫ রানের পুঁজি। জয়ের জন্য অন্তত ১৪০-৫০ করতে হত আগেই জানতেন খুলনা অধিনায়ক।

তিনি যোগ করেন, ‘ আমরা কিছু উইকেট হারিয়েছিলাম শুরুতে। আমাদের জুটি দরকার ছিল তখন। কমপক্ষে ১৪০-১৫০ রান করতেই হতো। কারণ উইকেট খুবই ভালো ছিল। দ্রুত উইকেট হারানো সবসময়ই ব্যাটসম্যানদের জন্য চাপের। আমরা যেভাবেই হোক, ১৫০ করতে পেরেছি। আমি মনে করি ফাইনাল ম্যাচে যদি আপনি দ্রুত উইকেট হারান তাহলে রান তাড়া করা সবসময়ই চাপের।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

‘আমরা শহিদুলের জন্য খেলেছি’

Read Next

দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট দলে ডাক পেল আরও ৩ ক্রিকেটার

Total
13
Share