ফাইনালে অধিনায়কের ব্যাটে চড়ে খুলনার লড়াকু সংগ্রহ

ফাইনালে অধিনায়কের ব্যাটে চড়ে খুলনার লড়াকু সংগ্রহ
Vinkmag ad

তারকা সমৃদ্ধ দল হওয়া সত্বেও টুর্নামেন্টজুড়ে ব্যাটিং লাইন আপ বেশ ভুগিয়েছে জেমকন খুলনাকে। তবে প্রথম কোয়ালিফায়ারে ব্যাটসম্যানদের গড়ে দেওয়া ভীতে গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে দলটি। কিন্তু শুক্রবার টুর্নামেন্টের ফাইনালে আগে ব্যাট করে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে মুখ থুবড়ে পড়ে খুলনা।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ৭০ রানের ইনিংসে ভর করে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে চট্টগ্রামের জন্য ১৫৬ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়েছে খুলনা।

পাওয়ার প্লে তে প্রতিপক্ষের রানের চাকা আঁটকে রাখার পাশাপাশি দুই একটা ব্রেক থ্রু দেওয়া নিয়মিত কাজ হয়ে পড়েছিল চট্টগ্রাম স্পিনার নাহিদুল ইসলামের। ফাইনালের মত বড় ম্যাচে ইনিংসের প্রথম বলেই ফিরিয়েছেন খুলনার ওপেনার জহরুল ইসলামকে। কোয়ালিফায়ারে ৮০ রানের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলা জহরুলকে ফিরতে হয় খালি হাতে।

পাওয়ার প্লে তে নাহিদুল দলকে এনে দেন আরও একটি উইকেট। দলীয় ২১ রানে তার শিকারে পরিণত হন ইমরুল কায়েস (৮)। পাওয়ার প্লে শেষে খুলনার সংগ্রহ ২ উইকেটে ৪২। জহরুল-ইমরুলের বিদায়ের পর ভালো কিছুর ইঙ্গিত দিয়েও ৭ম ওভারে ফিরতে হয় জাকির হাসানকে। মোসাদ্দেকের বলে আউট হওয়ার আগে ২০ বলে তার ব্যাট থেকে আসে ২৫ রান।

খুলনার প্রথম তিন উইকেটই চট্টগ্রামের স্পিনারদের দখলে। টুর্নামেন্টে চট্টগ্রাম পেসারদের আধিপত্যের কথা মনে করিয়ে দিতে দৃশ্যপটে শরিফুল ইসলাম। আগের ৯ ম্যাচে ১৪ উইকেট শিকার করা বাঁহাতি এই পেসার ক্রিজে থিতু হওয়া আরিফুল হককে (২১) ফিরিয়ে ৪ উইকেটে ৮৩ রানে পরিণত করেন খুলনাকে। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ৩৪ রানের জুটিতে শুভাগত হোমকে নিয়ে কিছুটা আশার আলো দেখান।

১৫ রান করা শুভাগতকে মুস্তাফিজের ক্যাচ বানিয়ে এই জুটিও ভাঙেন শরিফুল। তবে অন্য প্রান্তে একাই লড়ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। প্রথম ১০ ওভারে ৬৩ রান তোলা খুলনা পরের ৫ ওভারে রানের গতি বাড়িয়েছিল। ১৫ তম ওভার শেষে স্কোরবোর্ডে উঠে ১১৪ রান। শুভাগতের বিদায়ের পর দ্রুত গতিতে রান তুলতে সক্ষম শামীম হোসেন পাটোয়ারীর দিকে তাকিয়ে ছিল খুলনা।

তবে ভুল কলে ক্রিজে থিতু হওয়া মাহমুদউল্লাহর সাথে জুটি স্থায়ী হয়নি ৪ বলের বেশি। রান আউটে কাটা পড়ে বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানকে ফিরতে হয় খালি হাতে। ম্যাচে মুস্তাফিজুর রহমানের একমাত্র শিকার হওয়া মাশরাফি করতে পেরেছেন ৫ রান। ২১ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তালিকায় শীর্ষে থাকা মুস্তাফিজ এই উইকেট দিয়ে বাকিদের সাথে দূরত্বটা আরও বাড়িয়ে নিলেন।

বাকিদের ব্যর্থতার দিনে ঢাল হয়ে দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ৪৮ বলে ৭০ রানের তার অধিনায়কোচিত ইনিংসে ভর করে দল পায় ৭ উইকেটে ১৫৫ রানের সংগ্রহ। ৩৯ বলে ফিফটিতে পৌঁছানো রিয়াদ হার না মানা ইনিংসটি সাজিয়েছেন ৮ চার ২ ছক্কায়। সৌম্য সরকারের করা শেষ ওভারে নেন ১৭ রান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (১ম ইনিংস শেষে):

জেমকন খুলনা ১৫৫/৭ (২০), জহুরুল ০, জাকির ২৫, ইমরুল ৮, আরিফুল ২১, মাহমুদউল্লাহ ৭০*, শুভাগত ১৫, শামীম ০, মাশরাফি ৫, শহিদুল ১*; নাহিদুল ৩-০-১৯-২, শরিফুল ৪-০-৩৩-২, মোসাদ্দেক ২-০-২০-১, মুস্তাফিজ ৪-০-২৪-১

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

অ্যাডিলেডে ভারতীয় বোলারদের দাপট, পিছিয়ে অস্ট্রেলিয়া

Read Next

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে থাকবে দর্শক, যদি…

Total
13
Share