নেপালের প্রধান কোচ হলেন ডেভ হোয়াটমোর

নেপালের প্রধান কোচ হলেন ডেভ হোয়াটমোর

মেঘে মেঘে কেটে গেছে বেলা, কারও কাছে ক্রিকেটটা নিছকই পেশা, কারও কাছে খেলা। খেলোয়াড়ি জীবনে ২২ গজে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারটা লম্বা না হলেও দুই যুগের বেশি সময় ধরে বিশ্বব্যাপী ক্রিকেট দীক্ষা দিয়ে আসছেন অস্ট্রেলিয়ান ডেভ হোয়াটমোর। তার কাছে ক্রিকেট যে খেলার চাইতেও উর্ধ্বে কোন কিছু। কর্মক্ষেত্রের তালিকায় আরও একবার হয়েছে হালনাগাদ, নিয়োগ পেলেন নেপাল জাতীয় দলের কোচ হিসেবে।

শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট কাঠামো, আর স্বপ্নের পরিধিটা বড় করার বিপ্লব বলা যায় ১৯৯৬ বিশ্বকাপ জয়। আর সেই মঞ্চের নৈপথ্যে ছিল একজন অস্ট্রেলিয়ান, পেছন থেকে যিনি কলকাঠি নাড়িয়েছেন, কাটিয়েছেন যুদ্ধ জয়ের ভয়। কোচ হিসেবে এমন সাফল্য যার গৌরবগাঁথা তার কি থেমে থাকার কথা?

শ্রীলঙ্কাকে বিশ্বকাপ জেতানো হোয়াটমোরের বাংলাদেশ ক্রিকেটে আবির্ভাব হয়েছে সাক্ষাৎ দেবদূত হয়ে। যখন বাংলাদেশ ক্রিকেট খেলতো প্রতিপক্ষের কাছে নাস্তানাবুদ হওয়ার ভয় নিয়ে। তার অধীনেই ভয়কে জয় করে জয় নামের সোনার হরিণের সাথে পরিচয়।

বাংলাদেশকে দিয়েছেন প্রথম টেস্টের জয়ের স্বাদ, আছে কার্ডিফে অবিশ্বাস্য অস্ট্রেলিয়া বধ। ২০০৭ বিশ্বকাপটা এখনো কোটি ভক্তের কাছে নিজেদের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ার রসদ। সবই এসেছে ডেভ হোয়াটমোরের অধীনে।

বাংলাদেশকে হাঁটতে শিখিয়ে বিদায় বলা হোয়াটমোর একে একে ক্রিকেট জ্ঞান বিলিয়েছেন পাকিস্তান, জিম্বাবুয়ে, সিঙ্গাপুর হয়ে আধুনিক ক্রিকেটের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টেও। কাজ করেছেন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএলের) দল কোলকাতা নাইট রাইডার্সের সাথে। ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটের দল কেরালা, বারোদাতেও কোচিং করিয়েছেন ৬৭ ছুঁইছুঁই হোয়াটমোর।

১ জানুয়ারি ২০২১ থেকে তার নতুন ঠিকানা নেপাল। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাকে প্রধান কোচ করার বিষয়টি নিশ্চিত করে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ নেপাল (সিএএন)।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে সিএএন কর্মকর্তা কুস্তভ লাহিরী বলেন, ‘এই নতুন চ্যালেঞ্জ নেয়ার জন্য ডেভ খুবই উৎসাহী। তিনি বিশ্বাস করেন, নেপালে বেশ কয়েকজন প্রতিভাবান ক্রিকেটার রয়েছেন এবং বিশ্ব ক্রিকেটে নেপালের উজ্জ্বল ভবিষ্যত অপেক্ষা করছে। নেপাল খুবই অসাধারণ একটি দেশ। তরুণ মেধাবী ক্রিকেটারদের নিয়ে এই নতুন চ্যালেঞ্জটা গ্রহণ করতে ডেভ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।’

হোয়াটমোরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ক্যারিয়ারে যতিচিহ্ন পড়ে ৭ টেস্ট ও ১ ওয়ানডে খেলার পরই। দেশের জার্সিতে ব্যাট হাতে খুব বেশি নামার সুযোগ না হলেও প্রথম শ্রেণি ক্যারিয়ারটা বেশ সমৃদ্ধই বলতে হয়। ১০৮ টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে রান করেছেন ৬ হাজারের বেশি। আছে ২৬ টি লিস্ত ‘এ’ ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতাও।

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

দুই সিরিজের জন্য শ্রীলঙ্কার টেস্ট দল ঘোষণা

Read Next

স্টার্কের ৪, ২৫০ করতে পারল না ভারত

Total
31
Share