ঢাকাকে বিদায় করে ফাইনালে খুলনার সঙ্গী চট্টগ্রাম

শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে শেষ হাসি চট্টগ্রামের
Vinkmag ad

লিগ পর্বে ৮ ম্যাচে ৭ জয়ে প্লে-অফ নিশ্চিত করা গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম প্রথম কোয়ালিফায়ারে জেমকন খুলনার কাছে হারে। তবে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে বেক্সিমকো ঢাকার বিপক্ষে সহজ জয়ে ফাইনালে যাওয়ার দ্বিতীয় সুযোগ ভালোভাবেই লুফে নেয় মোহাম্মদ মিঠুনের দল। ১৮ ডিসেম্বর ফাইনালে তারা মোকাবেলা করবে জেমকন খুলনাকে।

টস জিতে আগে ব্যাট করা ঢাকা অল আউট হওয়ার আগে স্কোরবোর্ডে তুলতে পেরেছে মাত্র ১১৬ রান। জবাবে লিটন দাস, সৌম্য সরকার ও মোহাম্মদ মিঠুনের ব্যাটে ৭ উইকেট ও ৫ বল হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় চট্টগ্রাম।

টুর্নামেন্ট জুড়ে দারুণ সাফল্য পাওয়া চট্টগ্রামের উদ্বোধনী জুটি আজও ছোট লক্ষ্য তাড়ায় ভালো শুরু এনে দেয়। ৭ ওভার স্থায়ী জুটিতে লিটন-সৌম্য যোগ করেন ৪৪ রান। ২৭ রান করে সৌম্য রান আউটে কাটা পড়লেও আর কোন বিপদ ছাড়াই দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিচ্ছিলেন লিটন-মিঠুন।

তবে তাদের ৫৭ রানের জুটি থামে জয় থেকে মাত্র ১৫ রান দূরে থেকে। ৪৯ বলে লিটনের ধীরগতির ৪০ রানের ইনিংস থামে আল আমিনের বলে সাব্বির রহমানকে ক্যাচ দিলে। ৭ রানের ব্যবধানে ফিরে যান অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুনও। ৩৫ বলে তার ব্যাট থেকে আসে ৩৪ রান। তবে তুলির শেষ আঁচড় দেন শামসুর রহমান ও মোসাদ্দেক হোসেন। ৫ বল হাতে রেখে জয় পাওয়া চট্টগ্রামের এই দুই ব্যাটসম্যান অপরাজিত ছিলেন যথাক্রমে ৯ ও ২ রান করে।

টস জিতে ব্যাট নেওয়া মুশফিকুর রহিমের ঢাকা পুরো টুর্নামেন্টের মত এদিনও উদ্বোধনী জুটিতে ভিন্নতা এনেছে। উদ্বোধনী জুটিতে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে অনেককে দিয়ে চেষ্টার পর সাব্বির রহমান ও মুক্তার আলিতে বাজি ধরে বেক্সিমকো ঢাকা।

তবে ব্যর্থ হয়েছেন দুজনেই, উদ্বোধনী জুটিতে আসেনি ১৯ রানের বেশি। সাব্বির ১১ রান করে শরিফুলের বলে ফিরেছেন সৈকত আলিকে ক্যাচ দিয়ে। নাহিদুল ইসলামের বলে ফেরার আগে মুক্তার ছুঁতে পারেনিনি দুই অঙ্কও (৭)।

১৯ রানে দুই উইকেট হারানো ঢাকাকে বিপর্যয়মুক্ত করার চেষ্টা নাইম শেখ ও মুশফিকুর রহিমের। দুজনের ৩১ রানের জুটি থামে ১২ রান করে নাইম বিদায় নিলে। ৯ম ওভারের তৃতীয় বলে নাইম আউট হওয়ার পর মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ফ্লাড লাইটের আলো বন্ধ হয়ে যায়। আক্ষরিক অর্থে ঢাকার ইনিংসও এরপর অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়।

১২ মিনিট পর খেলা শুরু হলেও ঢাকার ইনিংসে আলোর দেখা মিলেনি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে করতে পেরেছে ১১৬ রান। মাঝে মুশফিকুর রহিম, ইয়াসির আলি রাব্বি ও আল আমিন জুনিয়র খেলেছেন কিছু ছোট ছোট ইনিংস। যৌথভাবে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস (২৫) আসে মুশফিক ও আল আমিন জুনিয়রের ব্যাট থেকে। ২৪ রান করে মুস্তাফিজুর রহমানের প্রথম শিকার হয়ে ফিরেছেন ইয়াসির আলি রাব্বি।

চট্টগ্রামের হয়ে সর্বোচ্চ তিন উইকেট নেওয়া মুস্তাফিজ নিজের শেষ ওভারে টানা দুই বলে আল আমিন ও নাসুম আহমেদকে ফিরিয়ে জাগিয়েছেন হ্যাটট্রিক সম্ভাবনাও। মুস্তাফিজের তিন উইকেটের সাথে ২ উইকেট শিকার আরেক বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলামের।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

বেক্সিমকো ঢাকা ১১৬/১০ (২০), সাব্বির ১১, মুক্তার ৭, নাইম ১২, মুশফিক ২৫, ইয়াসির ২৪, আল আমিন ২৫, আকবর ২, রবি ৩*, নাসুম ০, রুবেল ২, শফিকুল ০; শরিফুল ৪-০-১৭-২, রাকিবুল ৪-০-২৬-১, নাহিদুল ৪-০-১৫-১, মুস্তাফিজ ৪-০-৩২-৩, মোসাদ্দেক ৩-০-২২-১, সৌম্য ১-০-৩-১।

গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম ১১৭/৩ (১৯.১), লিটন ৪০, সৌম্য ২৭, মিঠুন ৩৪, শুভ ৯*, মোসাদ্দেক ২*; মুক্তার ৩-০-২৮-১, আল আমিন ১.১-০-৪-১

ফলাফলঃ গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম ৭ উইকেটে জয়ী

ম্যাচসেরাঃ মুস্তাফিজুর রহমান (গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম)।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাংলাদেশ সফরের সূচি চূড়ান্ত

Read Next

বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে প্রাইজমানির ছড়াছড়ি

Total
23
Share