মাশরাফির ক্যারিয়ার সেরা বোলিং, ফাইনালে খুলনা

মাশরাফির ক্যারিয়ার সেরা বোলিং, ফাইনালে খুলনা
Vinkmag ad

৮ ম্যাচে ৭ জয় নিয়ে লিগ পর্ব শেষ করে গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম। তবে সোমবার জেমকন খুলনার বিপক্ষে প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে সে দাপট ধরে রাখতে পারেনি মোহাম্মদ মিঠুনের দল। ব্যাট হাতে জহরুল ইসলামের ৮০ রানের ইনিংস ও বল হাতে মাশরাফি বিন মর্তুজার ক্যারিয়া সেরা বোলিংয়ে চট্টগ্রামকে ৪৭ রানে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছে গেল খুলনা। চট্টগ্রামও পাচ্ছে আরও একটি সুযোগ, আগামীকাল দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে তারা মুখোমুখি হবে বেক্সিমকো ঢাকার।

ওপেনার জহরুল ইসলামের ৮০ রানের ইনিংসের সাথে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাকিব আল হাসান, ইমরুল কায়েসদের ছোট তবে কার্যকরী ইনিংসে ৭ উইকেটে ২১০ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় খুলনা। মাশরাফি বিন মর্তুজার ৫ উইকেট শিকারে অল আউট হওয়ার আগে চট্টগ্রাম করতে পারে ১৬৩ রান।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে মাশরাফি বিন মর্তুজার ২ ওভারের প্রথম স্পেলেই ফিরে যান গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামের দুই ওপেনার লিটন দাস ও সৌম্য সরকার। সৌম্য খালি হাতে ফিরলেও সমান ২ চার-ছক্কায় লিটন ১৩ বলে ২৪ রানের ইনিংসে ধারাবাহিকতা বজার রাখার আভাস দিয়েও হতাশ করেছেন। ২৭ রানে দুই উইকেট হারানো চট্টগ্রামকে এরপর টেনে নেন অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন।

প্রথম ১০ ওভারে ৮৮ রান তোলা চট্টগ্রামের জয়ের জন্য শেষ ১০ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১২৩ রান। দলের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের সাফল্যে লিগ পর্বে খুব একটা প্রয়োজন পড়েনি মিঠুনকে। আর সুযোগ পাওয়া ম্যাচগুলোতে হয়েছেন ব্যর্থ। দলের ফাইনাল নিশ্চিতের ম্যাচেই হাসলো অধিনায়কের ব্যাট। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যা কাজে আসেনি দলের।

শুরুর বিপর্যয় কাটিয়ে মাহমুদুল হাসান জয়কে নিয়ে যোগ করেন ৭৩ রান। নিজের দ্বিতীয় স্পেলে এসে আবারও জুটি ভাঙেন মাশরাফি। ২৭ বলে ৩১ রান করা জয়কে ইমরুল কায়েসের ক্যাচে পরিণত করেন।

মাহমুদুল হাসান জয়ের বিদায়ের পর অধিনায়ক মিঠুন তুলে নেন ৩০ বলে ফিফটি। কিন্তু লম্বা করতে পারেননি ইনিংস। আরিফুল হকের বলে বোল্ড হয়ে ফেরার আগে করেছেন ৩৫ বলে সমান তিনটি করে চার-ছক্কায় ৫৩ রানে। চট্টগ্রামের জন্য সমীকরণ দাঁড়ায় ৩০ বলে ৭৭ রান।

মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত (১৭) ফিরেছেন সাকিবের একমাত্র শিকার হয়ে। হাসান মাহমুদের স্লোয়ারে সৈকত আলি থেমেছেন ৫ রানে। ১৪৩ রানে ৬ উইকেট হারানো চট্টগ্রামের জয়ের শেষ স্বপ্নটুকুও থামিয়ে দেন মাশরাফি। নিজের চতুর্থ ওভারে তুলে নেন শামসুর রহমান (১৮) ও মুস্তাফিজুর রহমানকে (০)।

টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে তার প্রথম ৫ উইকেট শিকারের দিনে চট্টগ্রাম গুটিয়ে গেছে ১৬৩ রানে। লিটন দাসকে ফিরিয়ে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে ১৫০ তম উইকেটের দেখা পাওয়া মাশরাফির ইনিংস শেষে ফিগার ৪-০-৩৫-৫। যা তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ফিগারও। আগের সেরা ছিল ১১ রানে ৪ উইকেট।

তারকা সমৃদ্ধ দল হয়েও পুরো টুর্নামেন্টে লিগ পর্বে ব্যাট হাতে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি জেমকন খুলনার টপ অর্ডার। তবে ফাইনাল নিশ্চিতে ১ম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে টপ অর্ডারের গড়ে দেওয়া ভীত কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষকে বড় লক্ষ্যই ছুঁড়ে দিল খুলনা।

পাওয়ার প্লেতে ৪৬ রান তোলা খুলনা প্রথম ৯ ওভারে স্কোরবোর্ডে জমা করে ৬৭ রান। জহরুল ইসলাম এক প্রান্তে স্ট্রোক খেললেও অন্যপ্রান্তে ধীর গতিতে খেলেন জাকির হোসেন। ২২ বলে ১৬ রান করে জাকির রান আউটে ফিরলে ভাঙে ৭১ রানের জুটি। ততক্ষণে ফিফটি তুলে নেন জহরুল।

ক্রিজে আসা নতুন ব্যাটসম্যান ইমরুল কায়েস ২ চার ১ ছক্কায় ঐ ওভার থেকে নেন ১৪ রান ১০ ওভার শেষে খুলনার স্কোরবোর্ডে ১ উইকেটে ৮৫ রান। জহরুলকে নিয়ে ঝড়ো গতিতে রান তোলার শুরু সেখান থেকেই।

দুজনে মিলে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে যোগ করেন ২৪ বলে ৪৮ রান। ১২ বলে ৩ চার ১ ছক্কায় ২৫ রান করে মুস্তাফিজুর রহমানের প্রথম শিকার হয়ে ফিরেছেন ইমরুল। ইমরুল বিদায় নিলেও সেঞ্চুরির পথেই ছিলেন জহরুল। কিন্তু ১৫তম ওভারের শেষ বলে স্কুপ খেলতে গিয়ে সৈকত আলির হাতে শর্ট ফাইন লেগে ক্যাচ দেন মোসাদ্দেক হোসেনের বলে।

তার আগে খেলেছেন ৫১ বলে ৫ চার ৪ ছক্কায় ৮০ রানের ইনিংস। ১৫ ওভার শেষে ৩ উইকেটে খুলনার স্কোরবোর্ডে ১৩৩। ক্রিজে আসা অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ঝড় বয়ে দেন নিজের খেলা প্রথম ওভারেই। ১৬ তম ওভারে শরিফুল ইসলামকে টানা তিন ছক্কায় শুরু, ঐ ওভার থেকে আসে ২২ রান। পরের ওভারে সঞ্জীত সাহাকে হাঁকান টানা দুই চার। ৯ বলে ২ চার ৩ ছক্কায় ৩০ রানের ক্যামিও খেলে ফিরেছেন মাহমুদউল্লাহ।

এদিন কিছুটা হলেও ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বের হতে পেরেছেন সাকিব আল হাসান। টুর্নামেন্টে এর আগে সর্বোচ্চ ১৫ রান, সাকিব এদিন খেলেছেন ১৫ বলে সমান ২ চার ২ ছক্কায় ২৮ রানের ইনিংস। বোল্ড হয়েছেন মুস্তাফিজের করা ইনিংসের শেষ ওভারে।

মাঝে আরিফুল হকের ব্যাট থেকে আসে ৯ বলে ১৫ রান। শেষ পর্যন্ত জেমকন খুলনা তুলেছে ৭ উইকেটে ২১০ রান। শেষ ১০ ওভারে খুলনার স্কোরবোর্ডে জমা পড়ে ১২৫ রান। শেষ ওভারে দুইটি বিমার দেওয়ায় ৪ বলের পর সরে যাওয়া মুস্তাফিজ গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামের সেরা বোলার। ৩১ রান খরচায় নিয়েছেন দুই উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

জেমকন খুলনা ২১০/৭ (২০), জহুরুল ৮০, জাকির ১৬, ইমরুল ২৫, সাকিব ২৮, মাহমুদউল্লাহ ৩০, আরিফুল ১৫, শুভাগত ০*, শামীম ১, মাশরাফি ৬*; সঞ্জিত ৪-০-৫০-১, মুস্তাফিজ ৩.৪-০-৩১-২, মোসাদ্দেক ৪-০-২৭-১

গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম ১৬৩/১০ (১৯.৪), লিটন ২৪, সৌম্য ০, জয় ৩১, মিঠুন ৫৩, মোসাদ্দেক ১৭, শুভ ১৮, সৈকত ৫, নাহিদুল ৪, মুস্তাফিজ ০, সঞ্জিত ২*, শরিফুল ০; মাশরাফি ৪-০-৩৫-৫, সাকিব ৪-০-৩২-১, হাসান ৪-০-৩৫-২, আরিফুল ৩.৪-০-২৬-২

ফলাফলঃ জেমকন খুলনা ৪৭ রানে জয়ী

ম্যাচসেরাঃ মাশরাফি বিন মর্তুজা (জেমকন খুলনা)।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

বড় মঞ্চে জ্বলে উঠল জেমকন খুলনার ব্যাটসম্যানরা

Read Next

নিজের ধীরগতির ইনিংসের ব্যাখ্যা দিলেন তামিম

Total
29
Share