অভিযোগ নেই, তবে ক্ষোভ প্রকাশ হোল্ডারের কন্ঠে

জেসন হোল্ডার
Vinkmag ad

ফ্র‍্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট কিংবা দেশের হয়ে সিরিজ খেলতে জেসন হোল্ডারকে ভ্রমণ করতে হয়েছে একের পর এক দেশে। কয়েক দফায় থেকেছেন কোয়ারেন্টাইনেও। এর জন্য গত ৬ মাসে একবারের জন্যেও বাড়ি ফিরতে পারেননি এই অলরাউন্ডার। কোয়ারেন্টাইন ক্লান্তি নিয়েও হোল্ডার উপভোগ করছেন এইভাবে ঘুরে-বেড়ানো। সদ্য সমাপ্ত নিউজিল্যান্ড সিরিজ নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই ক্যারিবিয়ান অধিনায়কের। কিন্তু হোম আম্পায়ারের সঙ্গে বিদেশি আম্পায়ার না থাকায় ক্ষোভ ঝড়েছে হোল্ডারের কণ্ঠে।

করোনা ভাইরাসের প্রভাবে থমক গিয়েছিল বিশ্ব। স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল সব ধরনের ক্রিকেট ইভেন্ট। এরপর প্রথম কোনো ক্রিকেট খেলুড়ে দেশ হিসেবে করোনা পরবর্তী সময়ে দুটি দেশে সফর করার কীর্তি গড়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। নিজেদের প্রথম সফর ইংল্যান্ডে, আর এখন আছে নিউজিল্যান্ডে।

আর উইন্ডিজ অধিনায়ক জেসন হোল্ডারের কোভিড-১৯’য়ের সময়ের গল্প তো আরও বেশি ঘটনাবহুল। এক মহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশ, এক দেশ থেকে আরেক দেশ; ভ্রমণ করতে হয়েছে হোল্ডারকে। কয়েক দফায় থেকেছেন কোয়ারেন্টাইনেও। একের পর এক টুর্নামেন্ট কিংবা দেশের হয়ে বিদেশ সফরের পর জৈব সুরক্ষা বলয়ের মধ্যেই ছিলেন হোল্ডার। নিয়মিত স্বাস্থ্যবিধিও মেনে চলেছে। কোভিড পরীক্ষাও করা হয়েছে নিয়মিত বিরতি দিয়েই।

করোনা পরবর্তী সময়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথমবারের মতো বিদেশ সফর (ইংল্যান্ড সফর) শুরু করেছিল। তারপর, জেসন হোল্ডার ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে অংশ নিয়েছেন। দুবাই থেকে আইপিএল খেলে এসে, গেলেন নিউজিল্যান্ড সফরে। অস্বাভাবিক এই পৃথিবীতে খেলোয়াড়দের ভ্রমণ কিংবা কোয়ারেন্টাইন ক্লান্তি সবার থেকে বেশি। নিজেকে ইঙ্গিত করেই জেসন হোল্ডার বলেন,

‘খেলোয়াড়দের এই সময়ে যা করতে হয়েছিল তা জীবিকা নির্বাহের জন্যে।’

‘এটি একটি কঠিন বছর গেছে। কেবল দলের জন্য নয়, আমি ব্যক্তিগতভাবে জানি আমার পক্ষে এই সময়টা কঠিন ছিল। ছয় মাসে আমি বাড়ির মুখ দেখিনি। এমন একটি পরিস্থিতি যেখানে আপনি এখনও জীবিকা নির্বাহের দিকে তাকিয়ে আছেন এবং এখনও আপনি প্রতিটি সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য অপেক্ষা করছেন। তবে, বায়ো-বাবল থেকে বায়ো-বাবলে যাওয়া, একটি ঘরে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা আসলেই কঠিন ব্যাপার।’

৬ মাস হয়ে গেলেও নিউজিল্যান্ড থেকে জেসন হোল্ডারের এবারও বাড়ি ফেরা হবে না। চলমান বিগ ব্যাশ লিগে সিডনি সিক্সার্সের হয়ে খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় উড়ে যাবেন হোল্ডার। তারপরে, জানুয়ারিতে তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে বিদেশ সফরে বাংলাদেশে আসবেন। হোল্ডার বলেছিলেন,

‘আমি বিগ ব্যাশের দিকে রওনা হলাম। এরপরে আমরা (উইন্ডিজ দল) জানুয়ারির প্রথম দিকে বাংলাদেশ সফর করব। এই মুহুর্তে, আমি সত্যিই জানি না (কখন বাসায় থাকবেন)। তবে আমি এখনও ঘুরে বেড়ানো উপভোগ করছি। আমি যে সুযোগ পেয়েছি তার সদ্ব্যবহার করার চেষ্টা করছি এবং আশা করি এটি আমার জন্য কার্যকর হবে।’

সদ্য সমাপ্ত হওয়া নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে হোম আম্পায়ারদের সাথে বিদেশি আম্পায়ার না থাকায় ক্ষুব্ধ উইন্ডিজ অধিনায়ক। যদিও স্থানীয় আম্পায়াররা মাঠে নেমে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত সিরিজটিতে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে জেসন হোল্ডারের বিশেষ কোনও অভিযোগ নেই, তিনি খেলোয়াড়দের অনুরূপ প্রোটোকল অনুসরণ করে বিদেশী আম্পায়ারদের না থাকার পিছনে যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

‘আমি এমন কোনও পরিস্থিতি বুঝতে পারছি না যেখানে আমাদের দেশের আম্পায়ার রয়েছে। যদি আমরা ভ্রমণ করতে পারি এবং কোয়ারেন্টাইন করতে পারি তবে আমি কোন কারণ দেখতে পাচ্ছি না যে প্রতিপক্ষ আম্পায়ার কেন ভ্রমণ এবং কোয়ারেন্টাইন করতে পারে না। খেলোয়াড়রা যদি আত্মত্যাগ করে বাড়ির বাইরে যান এবং ক্রিকেট চালিয়ে যান তবে আমার মনে হয় আম্পায়ারদেরও একই কাজ করা উচিত। যদি আপনি কোনও টেস্ট ম্যাচ আয়োজন করার জন্য হোম এবং বিরোধী (প্রতিপক্ষের দেশের) আম্পায়ারকে পান এমন ক্ষেত্রে আমি মনে করি এটি ন্যায়সঙ্গত।’

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

বরিশালকে বিদায় করে টিকে রইল ঢাকা

Read Next

জিতেও যেকারণে হতাশ মুশফিকুর রহিম

Total
0
Share