চট্টগ্রামের কাছে হেরে ঢাকার দিকে তাকিয়ে রাজশাহী

চট্টগ্রামের কাছে হেরে ঢাকার দিকে তাকিয়ে রাজশাহী
Vinkmag ad

প্লে-অফে যেতে যদি কিন্তুর ভীড়ে জিততেই হবে এমন ম্যাচে হেরেই লিগ পর্ব শেষ করলো মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহী। প্রথম দুই ম্যাচে জয়ের পর টানা ৬ ম্যাচ হেরেছে নাজমুল হোসেন শান্তের দল। অন্যদিকে ৮ ম্যাচে ৭ জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থেকেই প্লে-অফে যাচ্ছে গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম।

শনিবার চট্টগ্রামের কাছে ৩৬ রানে হারের পরও কাগজে কলমে অবশ্য প্লে-অফের স্বপ্ন টিকে আছে রাজশাহীর। সেক্ষেত্রে সন্ধ্যায় বেক্সিমকো ঢাকা বনাম ফরচুন বরিশাল ম্যাচের দিকে তাকিয়ে  থাকতে হচ্ছে তাদের। যে ম্যাচে ফরচুন বরিশালকে হারতে হবে মোটামুটি বড় ব্যবধানেই।

চট্টগ্রামের দেওয়া ১৭৬ রানের লক্ষ্য তাড়ার শুরু থেকেই বিপাকে রাজশাহী। টুর্নামেন্টে বেশ ধারাবাহিকভাব রান করা অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত করতে পারেননি ১১ রানের বেশি। আরেক ওপেনার আনিসুল ইসলাম ইমন (৪), রনি তালুকদার (১৬) ও ফজলে মাহমুদ রাব্বিও (১৬) হয়েছেন ব্যর্থ। ৬৯ রানে ৪ উইকেট হারানো রাজশাহী কিছুটা আশা দেখে নুরুল হাসান সোহান ও শেখ মেহেদী হাসানের ব্যাটে।

তবে সোহানের ২৮ বলে ২৮ ও মেহেদীর ১৭ বলে ২৬ ছিলনা জয়ের জন্য যথেষ্ট প্রচেষ্টা। দুজনের বিদায়ের পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ৮ উইকেটে ১৩৯ রানেই থামতে হয় মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহীকে। গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন নাহিদুল ইসলাম। জিয়াউর রহমানের শিকার দুইটি।

বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে সবচেয়ে সফল উদ্বোধনী জুটি গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামের। এদিন আরেক দফা দলকে বড় সংগ্রহের ভীত গড়ে দেন লিটন দাস ও সৌম্য সরকার। আগের ম্যাচে বিশ্রামে থাকা লিটন দাস, মুস্তাফিজুর রহমান ও শরিফুল ইসলামকে এদিন একাদশে ফিরিয়েছে গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ১৪.৫ ওভার স্থায়ী উদ্বোধনী জুটিতে লিটন-সৌম্য তোলেন ১২২ রান। যা এখনো পর্যন্ত সব উইকেট মিলিয়ে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের জুটি।

কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় দারুণ এক ডেলিভারিতে ইনিংস শুরু করেন মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহী অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। অফ স্টাম্পের বাইরে লাফিয়ে ওঠা এমন বল যে কোন ব্যাটসম্যানকেই বিভ্রান্ত করতে বাধ্য। প্রথম ওভারে আসে ৪ রান।

তবে এরপর খোলস ছেড়ে বের হতে শুরু করেন লিটন-সৌম্য। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে তোলে ৪৮ রান। দুজনেই ফিফটি ছুঁয়ে ১৫ তম ওভার পর্যন্ত ক্রিজে টিকেও অবশ্য ঠিক সেভাবে ঝড়ো গতিতে রান তুলতে পারেননি। ৪৮ বলে ৩ চার ৪ ছক্কায় ৬৩ রান করে সৌম্য ফিরলে ভাঙে জুটি। ৪ রানের ব্যবধানে সাজঘরের পথ ধরেন লিটন দাস ও মোহাম্মদ মিঠুনও।

লিটনের ব্যাট থেকে আসে ৪৩ বলে ৫ চার ১ ছক্কায় ৫৫ রান। আনিসুল ইসলাম ইমনের দ্বিতীয় শিকার হয়ে মিঠুন ফিরেছেন ২ রান করে। ৪ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারানো চট্টগ্রাম বড় সংগ্রহের পথে কিছুটা ব্যাকফুটে চলে যায়। কিন্তু শেষ ২ ওভারে রাজশাহী বোলাররা এলেওমেলো বোলিংয়ে খরচ করেন ৩৭ রান। আর তাতেই ৪ উইকেটে ১৭৫ রানের সংগ্রহ পায় গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম।

১৯ তম ওভারে দুইটি বিমার দেওয়ায় বোলিং থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় রেজাউর রহমান রেজাকে। ঐ ওভারে সব মিলিয়ে আসে ২৪ রান। শেষদিকে শামসুর রহমানের ব্যাট থেকে আসে ১৮ বলে ৩০ রান।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম ১৭৫/৪ (২০), লিটন ৫৫, সৌম্য ৬৩, মিঠুন ২, শুভ ৩০*, মোসাদ্দেক ৩, জিয়া ১০*; সাইফউদ্দিন ৪-০-৩২-১, রাজা ৩.৩-০-৩৮-১, ইমন ৩.৩-০-২১-২

মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহী ১৩৯/৮ (২০), শান্ত ১১, ইমন ৪, রনি ১৬, রাব্বি ১৯, নুরুল ২৮, মেহেদী ২৬, সাইফউদ্দিন ৯, সানজামুল ১২, সানি ৭*, রাজা ৩*; শরিফুল ৪-০-২৮-১, নাহিদুল ৪-০-১৯-৩, রাকিবুল ৪-০-৩১-১, মুস্তাফিজ ৪-০-২৩-১, জিয়া ২-০-১৭-২

ফলাফলঃ গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম ৩৬ রানে জয়ী

ম্যাচসেরাঃ নাহিদুল ইসলাম (গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম)।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ শেষ নাইম হাসানের

Read Next

শান্ত’র শিক্ষা না নিতে পারার আক্ষেপ

Total
3
Share