বিখ্যাত ‘৯’ ক্রিকেটার, যারা টেস্ট র‍্যাংকিংয়ে কখনো শীর্ষে ওঠেননি

বিখ্যাত '৯' ক্রিকেটার, যারা টেস্ট র‍্যাংকিংয়ে কখনো শীর্ষে ওঠেননি
Vinkmag ad

বর্তমানে আইসিসির টেস্ট র‍্যাংকিংয়ে ব্যাটিং এবং বোলিংয়ে শীর্ষে অবস্থান করছেন যথাক্রমে অস্ট্রেলিয়ার স্টিভ স্মিথ এবং প্যাট কামিন্স। অলরাউন্ডারদের র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষে আছেন বেন স্টোকস।

কিন্তু কিংবদন্তীতুল্য অনেক ক্রিকেটারই আছেন যারা কখনোই আইসিসির টেস্ট র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষে আসতে পারেননি। তেমন বিখ্যাত ৯ জন খেলোয়াড়ের নাম জেনে নিই।

১. কেভিন পিটারসেনঃ সেরা ব্যাটিং র‍্যাংকিং ৩ (১৮/১২/২০০৬)

কেভিন পিটারসেনের সেরা ব্যাটিং র‍্যাংকিং অস্ট্রেলিয়ার ২০০৬ সালের অ্যাশেজ সিরিজের মাঝে রেকর্ড করা হয়। ঐ সিরিজটি ইংল্যান্ডের জন্য দুঃসহনীয় ছিল। ৫-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশের পরও পিটারসেন সেই ট্যুরে অসাধারণ কিছু পারফরম্যান্স করেছিলেন। পল কলিংউডের সাথে ৩১০ রানের জুটির পথে অ্যাডিলেডে ৭০ রানের ইনিংস খেলে ইংল্যান্ডকে ম্যাচে ধরে রেখেছিলেন। ৪ বছর পর একই ভেন্যুতে ২২৭ রান করে ইংল্যান্ডের সিরিজ জয়ে অবদান রাখলেও পিটারসেন তার আগের রেকর্ড করা র‍্যাংকিং ভাঙতে পারেননি।

২. স্যার অ্যালিস্টার কুকঃ সেরা ব্যাটিং র‍্যাংকিং ২ (০৪/০৯/২০১১)

২০১৮ সালের গ্রীষ্মে টেস্টে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বোচ্চ রান স্কোরার হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন স্যার অ্যালিস্টার কুক। ২০১১ সালে অ্যাশেজ অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে অসাধারণ খেলেন। ১২ টেস্টে ৯৪ গড়ে ২ নাম্বার র‍্যাংকিংয়ে থেকে ঐ বছর শেষ করেন কুক।

৩. ভাঙ্গিপুরাপু ভেঙ্কট সাই লক্ষ্মণ (ভিভিএস লক্ষ্মণ): সেরা ব্যাটিং র‍্যাংকিং ৬ (০২/০৭/২০১১)

ভারতের এই বিখ্যাত টেস্ট ব্যাটসম্যান কখনই র‍্যাংকিংয়ে পাঁচের মধ্যে আসতে পারেননি, যা অবাক হওয়ার মত। ৪৬ গড়ে ক্যারিয়ারে ৮০০০ এরও বেশি রান করেছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কোলকাতা ২৮১ রানের ইনিংসে বিশ্বের অন্যতম সেরা কামব্যাক জয়ে অবদান রেখেছিলেন লক্ষ্মণ।

৪. মার্টিন ক্রোঃ সেরা ব্যাটিং র‍্যাংকিং ৩ (০২/০২/১৯৯৩)

নিউজিল্যান্ডের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যান ১৯৯৫ সালে অবসরে যান। ক্যারিয়ারের একদম শেষদিকে ১৯৯৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে অধিনায়ক হিসেবে শেষ সিরিজে তার সেরা র‍্যাংকিং রেকর্ড করা হয়।

৫. জর্জ হ্যাডলিঃ সেরা ব্যাটিং র‍্যাংকিং ২৭ (০২/০৪/১৯৪৬)

২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় জর্জ হ্যাডলি তার ক্যারিয়ারের মূল্যবান কিছু সময় হারান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই ব্যাটসম্যানের বিশ্বযুদ্ধের আগে ১৯ টেস্টে ৬৬.৭১ গড় ছিল এবং বিশ্বযুদ্ধের পরে মাত্র ৩টি টেস্ট খেলেন। ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত টেস্ট ক্রিকেট খেলেন। তখন তার বয়স ছিল ৪৫ এবং গড় ছিল ৬০.৮৩, যা তখনকার সময়ে অন্যতম সেরা ছিল। ক্যারিয়ারে এমন উত্থান পতন না থাকলে হয়তোবা স্যার ডন ব্র‍্যাডম্যানের মতই তার নামও উচ্চারিত হত।

৬. মিচেল জনসনঃ সেরা বোলিং র‍্যাংকিং ২ (১০/০৩/২০০৯)

২০১৩/১৪ অ্যাশেজে ইংল্যান্ড দলের কাছে বিষবৃক্ষ ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার মিচেল জনসন। তবে ২০০৯ সালে তার ক্যারিয়ার সেরা র‍্যাংকিং রেকর্ড করা হয়। ২০০৮/০৯ সালের গ্রীষ্মে পার্থের ওয়াকা গ্রাউন্ডে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ৬১ রানে ৮ উইকেট নিয়েছিলেন।

৭. ওয়াসিম আকরামঃ সেরা বোলিং র‍্যাংকিং ২ (১৪/১০/১৯৯০)

সুলতান অব সুইং নামে খ্যাত পাকিস্তানের বিশ্বকাপ জয়ী বামহাতি বোলার ওয়াসিম আকরামও কখনও আইসিসির র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষ অবস্থানে আসতে পারেননি, যা আশ্চর্যজনক হলেও সত্য। ২৩.৬২ গড়ে টেস্টে ৪১৪ উইকেট নিয়েছিলেন, যা পাকিস্তানের পক্ষে এখনও সর্বোচ্চ। ১৯৯০ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১ম টেস্টে জয়ের পর ওয়াসিমের সেরা র‍্যাংকিং ধারণ করা হয়। সেই টেস্টেই দুর্দান্ত বোলিং করে ৮ উইকেট নিয়ে দলের জয়ে অবদান রেখেছিলেন।

৮. অনিল কুম্বলেঃ সেরা বোলিং র‍্যাংকিং ২ (২২/১০/১৯৯৫)

বর্তমানে টেস্টে সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহকের তালিকায় ৩ নম্বরে রয়েছেন ভারতের এই কিংবদন্তি লেগ স্পিনার। ক্যারিয়ারে একবারই মাত্র ২ নাম্বার র‍্যাংকিংয়ে এসেছিলেন। ১৯৯৫ সালের অক্টোবরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে তার সেরা র‍্যাংকিং রেকর্ড করা হয়। ঐ টেস্টে ভারত অনিল কুম্বলের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ৩ দিনেই জয়লাভ করে।

৯. কোর্টনি ওয়ালশঃ সেরা বোলিং র‍্যাংকিং ২ (৩০/০৭/১৯৯০)

একসময় অনেকদিন ধরে টেস্টে সেরা উইকেট সংগ্রাহকের তালিকায় ছিলেন ওয়ালশ। ১ম ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক টেস্টে ৫০০ উইকেটও তার। ২৪.৪৪ গড়ে ৫১৯ টেস্ট উইকেট নেওয়া এ বোলারও কখনই র‍্যাংকিংয়ে নাম্বার ওয়ান হতে পারেননি। ১৯৯০ সালে প্রথম তিনি ২ নাম্বার র‍্যাংকিংয়ে আসেন। শীর্ষে ছিলেন তারই বোলিং সহযোগী ম্যালকম মার্শাল। ১০ বছর পরে ক্যারিয়ার সেরা রেটিং ৮৬৭ পেলেও গ্লেন ম্যাকগ্রা এবং শন পোলকের পরে র‍্যাংকিং ছিল তার।

তথ্যসূত্রঃ উইজডেন

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

অভিষেকেই দুর্দান্ত নটরাজন, সকলের প্রশংসা কুড়াচ্ছেন

Read Next

আবহাওয়ার কারণে বদলে গেল ম্যাচ শুরুর সময়

Total
35
Share